Facebook Pixel

বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমে বৃহৎ ভূমিকা পালনকারী দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত (২৩ মে ২০২৩) ১,৮৮,৫৫৮ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৪০টি দেশে ৬৩টি শান্তি মিশনে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে ৭,৪৩৮ জন ইউনিফর্ম পরিহিত শান্তিরক্ষী ১৩টি দেশে কর্মরত রয়েছেন। ক. জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব কে? খ. জাতিসংঘের শাখাসমূহের নাম লেখ। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটি গঠনের পটভূমি বর্ণনা কর। ঘ. বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত সংস্থাটি কতটুকু সফল বলে তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ জাতিসংঘ ও বিশ্বশান্তি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব ছিলেন ট্রিগভেলি। খ. জাতিসংঘের প্রধানত ৬টি শাখা বা অঙ্গসংস্থা আছে। যেমন- ১. সাধারণ পরিষদ, ২. নিরাপত্তা পরিষদ, ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ ৪. অছি পরিষদ ৫. আন্তর্জাতিক বিচারালয় ও ৬. সচিবালয় গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো জাতিসংঘ। বিশ্ব ইতিহাসে এক দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার আশার আলো প্রজ্বলিত করে জাতিসংঘ জন্মলাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য ১৯১৯ সালে লীগ অব নেশনস গঠিত হয়। কিন্তু ১৯৩৮ সালের মধ্যেই লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এক প্রকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। একদিকে জাপান, ইতালি ও জার্মানির আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ এবং অপরদিকে যৌথ নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা পালনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ব্যর্থতা, যুক্তরাষ্ট্রর বিচ্ছিন্ন থাকার নীতি এবং সোভিয়েত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে বাইরে থাকার নীতি প্রভৃতি কারণে লীগের সমাধি হয়। ১৯৩৯ সালের মধ্যে বৃহৎ শক্তিবর্গ বিভিন্ন জোট গঠন করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। স্বাভাবিকভাবেই এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অধিকতর ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করে মানুষ আরও বেশি শঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে। ফলে বিশ্ববাসী একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই মিত্রশক্তির নেতারা একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ভাবতে থাকেন। তারা ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াল্টায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও তার ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে এক বিশ্ব সম্মেলনে জাতিসংঘের সনদ উত্থাপিত হয়। পরিশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫১টি দেশ জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষর করে এবং এ চার্টার স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথে জাতিসংঘ কার্যকরী রূপলাভ করে। ঘ. বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠন অর্থাৎ জাতিসংঘ তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের পূর্বে সরকারিভাবে কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। তবে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বে প্রবল জনমত সৃষ্টি হয়। এর ফলে ১৯৭১ সালের মে মাসে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে যে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তাতে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এটিও ছিল এক ধরনের স্বীকৃতি। এ বৈঠকে মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চেয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্ট-এর কাছে একটি পত্র দেন। পত্রটি নিরাপত্তা পরিষদে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট হিসেবে নথিভুক্ত হয়। তবে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধিকে অধিবেশনে অংশ নেওয়া কিংবা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাহলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি। বাংলাদেশের জনগণকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমেই তার স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হয়েছিল। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সামনে যে সমস্যাটি ছিল তা হলো এর সনদের ২/৭ ধারা। এই ধারায় কোনো রাষ্ট্রের জনগণের মানবাধিকার বা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার নীতির মধ্যে সীমারেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম দেশগুলো পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বীকৃতির বিরোধিতা করে। অপরপক্ষে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, পোল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র পাকিস্তানি বর্বরতা ও গণহত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু জাতিসংঘ রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার যুক্তির প্রশ্নে বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হিসেবে যোগদান করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমে বৃহৎ ভূমিকা পালনকারী দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত (২৩ মে ২০২৩) ১,৮৮,৫৫৮ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৪০টি দেশে ৬৩টি শান্তি মিশনে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে ৭,৪৩৮ জন ইউনিফর্ম পরিহিত শান্তিরক্ষী ১৩টি দেশে কর্মরত রয়েছেন।

ক.

জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব কে?

খ.

জাতিসংঘের শাখাসমূহের নাম লেখ।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সংস্থাটি গঠনের পটভূমি বর্ণনা কর।

ঘ.

বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত সংস্থাটি কতটুকু সফল বলে তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

UNDCP মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে- i. উৎপাদন কমিয়ে ii. ব্যবহারকারীদের চিকিৎসা দিয়ে iii. ব্যবহারকারীদের...

WHO প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?

ক. জাতিসংঘের সদস্যসংখ্যা কত? খ. ভেটো ক্ষমতা কী? গ. উদ্দীপকে কোন সংস্থাটির চিত্র প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. নিরাপত্ত...

ক. জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম কী? খ. ট্রম্যান ডকট্রিন কী প্রভাব ফেলেছিল মূল বিষয় ব্যাখ্যা কর। গ. '?' স্থানে কোন সংস...

ক. VC ভিচি সরকার কোন দেশে গড়ে উঠে ? খ. টেনিস কোর্টের শপথ বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপক [ ক ] চিহ্নিত স্থান তোমার পঠিত কোন সং...

ক. সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে কতটি রাষ্ট্র গঠিত হয় ? খ. নেপোলিয়ন কোড বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপকে কোন সংস্থাটির চিত্র প্রকাশিত...

ILO-এর উদ্দেশ্য কোনটি?

‘X’ ও ‘Y’ রাষ্ট্র দুটির সীমান্তবর্তী নদীর মোহনায় নতুন একটি দ্বীপ। জেগে উঠলে উভয় দেশই এর মালিকানা দাবি করে। দ্বীপটি মাল...

আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক যে ধরনের সংগঠনই হোক না কেন সময় সময় তার পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া পরিবর্তনশীল সা...

আটলান্টিক সনদ কোন দুটি দেশের গোপন আলোচনার ফসল?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।