ক.
২০১০ থেকে ২০১৯ সাল, এই দশককে পৃথিবীর ইতিহাসে উষ্ণতম দশক হিসেবে ধরা হয়।
খ.
গ্রিন হাউজ ইফেক্ট হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপ বায়ুমণ্ডলীয় গ্রিন হাউজ গ্যাসসমূহ দ্বারা শোষিত হয়ে পুনরায় বায়ুমণ্ডলের অভ্যন্তরে বিকরিত হয়।
প্রাকৃতিক গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া পৃথিবীতে প্রাণী জগতের বসবাস উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। কিন্তু মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশেষত জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং বনাঞ্চলে ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়া তীব্রতর হয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি করছে, যার নেতিবাচক প্রভাব ব্যাপক।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে সুদূরপ্রসারী প্রভাব দেখা যাবে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চলসমূহে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়বে। আর সমুদ্রের লবণাক্ত পানির প্রভাবে গাছপালা, মৎসখামার ও শস্য ক্ষেত্রের ক্ষতি হবে। ইতোমধ্যেই এর প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার কৃষি জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জমির উর্বরাশক্তি এবং কৃষি উৎপাদন কমে গেছে। অনেক রকম মিঠা পানির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে গাছপালা। এর প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত কয়েকবার ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মারাত্মক আঘাত হেনেছে। এতে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। গবাদি পশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে ঋতুচক্রের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়েছে। ফলে দেখা দিচ্ছে খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রায় প্রতি বছর বসন্তের শেষ ও গ্রীষ্মের শুরুতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে খরা দেখা দেয়। পানির অভাবে জমির সেচকাজ ব্যাহত হয়, ফসল নষ্ট হয়। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক জীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত মানুষের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডই দায়ী। কথাটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও সমর্থনযোগ্য।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার জন্য প্রকৃতি নয় মূলত মানুষই দায়ী । মানুষের পরিবেশ বিধ্বংসী নানারকম কর্মকাণ্ডের ফলে জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে। নিয়ন্ত্রণহীন শিল্পায়ন এর একটি বড় কারণ। বনাঞ্চল উজাড় এবং জলাভূমি ভরাট করে যেখানে সেখানে শিল্প কারখানা গড়ে উঠছে। এসব শিল্প কারখানার নিঃসৃত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে। এ কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে গ্রিন হাউজ গ্যাস বলা হয়। বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক পদার্থ, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদির ব্যাপক ব্যবহার ও বন ধ্বংসের ফলেও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে।
এছাড়া ওজোন স্তর ক্ষয়, আগ্নেয়গিরির উদগিরণ প্রভৃতি কারণেও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় নিচু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ুর ক্রমবর্ধমান পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে মূল ভূখণ্ডের ভেতরে এমনকি ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ছাড়াও খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানল, নদ-নদীর প্রবাহ পরিবর্তন, এবং সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার ঘটছে।
উপরের আলোচিত জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, একমাত্র মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডের ফলের বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে।