ক.
প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়।
খ.
খাদ্যে ভেজাল বলতে বোঝায়, প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক উপায়ে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত না করে মানসম্পন্ন খাদ্যে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর উপাদান মেশানো।
খাদ্যে ভেজাল একটি মারাত্মক সামাজিক অপরাধ। ভালো ও উৎকৃষ্টমানের খাদ্যের সাথে নিকৃষ্টমানের কিংবা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ অথবা রং মেশানো খাদ্য ভেজাল বলে গণ্য। খাদ্যে ভেজাল বিষয়টি সাধারণত দুইভাগে সম্পন্ন হয়। যথা— অনিচ্ছাকৃত বা অসাবধানতাবশত এবং ইচ্ছাকৃত। মাছ, মাংস, ফল অথবা সবজিতে ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য যেমন— ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথিলিন ও ফরমালিন মেশানো খাদ্যে ভেজালের উদাহরণ।
গ.
উদ্দীপকে সামাজিক সমস্যা ‘দুর্নীতি' ফুটে উঠেছে।
যে সকল কর্মকাণ্ড প্রচলিত সামাজিক নিয়মনীতির পরিপন্থি এবং সাধারণভাবে বিবেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য তাকেই দুর্নীতি বলে। দুর্নীতি একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে ঘুষ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি, প্রতারণা, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ইত্যাদিকে বোঝায়। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের মতে, “যে কর্মকাণ্ড সাধারণভাবে বিবেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় তাকেই দুর্নীতি বলা হয়।” মোটকথা, নীতিবিরুদ্ধ কাজই হলো দুর্নীতি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে 'দুর্নীতি' অন্যতম ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, বেলাল সাহেব একজন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি চাকুরিজীবী। তবে ঢাকা শহরে তার পাঁচটি প্লট, তিনটি বাড়ি এবং দুটি গাড়ি আছে। অর্থাৎ বেলাল সাহেবের আয়ের সাথে সম্পদের সামঞ্জস্য নেই। এ থেকে বোঝা যায়, তিনি প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন যা সামাজিক সমস্যা দুর্নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে দুর্নীতি সামাজিক সমস্যাটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ.
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ দুর্নীতি প্রতিরোধের বেশকিছু উপায় রয়েছে। দুর্নীতি সমাজদেহে ক্যান্সার সমতুল্য সামাজিক ব্যাধি। তবে জবাবদিহিতামূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি গড়ে উঠতে পারে না। দক্ষ, কার্যকরী ও জবাবদিহিতামূলক নির্বাচন কমিশন এবং কমিশন কর্তৃক স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দুর্নীতি হ্রাস পাবে।
আইনসভার সদস্যদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলেও দুর্নীতি হ্রাস পাবে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজের সকল স্তর থেকে দুর্নীতি অনেকাংশে দূরীভূত হবে। প্রশাসনের সকল স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি প্রতিহত করা সম্ভব। দুর্নীতি নিরসনে জবাবদিহিতার পাশাপাশি দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও এর প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে দুর্নীতির বিস্তার ঘটবে,না। সমাজ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। প্রচার মাধ্যমগুলো দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণা, সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র ইত্যাদি প্রচার করে জনগণের মধ্যে দুর্নীতির বিরূপ প্রভাব উপস্থাপন করে দুর্নীতি প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশন, সুষ্ঠু বেতন কাঠামো, নৈতিকতার শিক্ষাদান, ব্যাপক গণসচেতনতা প্রভৃতি দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ।
পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ ও কার্যকর করার মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।