Facebook Pixel

' বাংলার বাঘ ' নামে খ্যাত অবিসংবাদিত নেতা সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের শোষণ থেকে বাংলার দরিদ্র কৃষকদের মুক্তির জন্য তিনি কৃষিঋণ আইন ও ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন। ক. মজলুম জননেতা কাকে বলা হয় ? খ. লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কী ছিল ? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন রাজনীতিবিদের মিল রয়েছে ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত উক্ত কর্মকাণ্ড বাংলার কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কী ভূমিকা রেখেছিল ? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ

উৎস: Board Exam Question DiB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে বলা হয়। খ. উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা করাই ছিল লাহোর প্রস্তাবের মূলকথা। ভারতের উত্তর - পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন এবং এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য বা প্রদেশগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌম নিশ্চিতকরণ , সংখ্যালঘুদের অধিকার ও স্বার্থরক্ষার জন্য উপযুক্ত সংবিধান প্রণয়ন ও নীতি গ্রহণ ইত্যাদি বিষয় ছিল ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের মূলকথা। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে আমার পঠিত যে রাজনীতিবিদের মিল রয়েছে তিনি হলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। উদ্দীপকে 'বাংলার বাঘ' নামে খ্যাত অবিসংবাদিত নেতা সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের শোষণ থেকে বাংলার দরিদ্র কৃষকদের মুক্তির জন্য তিনি কৃষিঋণ আইন ও ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন। উদ্দীপকের এ নেতার সাথে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের স্পষ্ট মিল রয়েছে। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন অসাধারণ মেধাবী, মানবতাবাদী ও আপসহীন নেতা। তিনি আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন, শুরু করলেও বাংলার সাধারণ জনগণের দুঃখ-কষ্ট দেখে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বাংলার ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি আইন ব্যবসায় সাফল্য অর্জনের পরও সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখেই রাজনীতিতে যোগ দেন। বাংলার কৃষকদের শোষণমুক্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি 'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে 'কৃষক-প্রজা পার্টিতে রূপ নেয়। ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যেমন- কৃষিঋণ সহজলভ্য করা, মহাজনি শোষণ কমানো ইত্যাদি। উদ্দীপকে উল্লেখ্য রাজনীতিবিদ যেমন কৃষকের জন্য দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি, ফজলুল হকও ছিলেন কৃষকের নেতা। কাজেই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত রাজনীতিবিদের সঙ্গে শেরে বাংলার রাজনৈতিক জীবন ও উদ্দেশ্যের একটি সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত উক্ত কর্মকাণ্ড তথা কৃষিঋণ আইন ও ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন বাংলার কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক বাংলার দরিদ্র কৃষকদের মুক্তির লক্ষ্যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কৃষকদের ঋণের বোঝা কমাতে তিনি ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন এবং সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে রক্ষা পেতে কৃষিঋণ আইন প্রণয়ন করেন, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বস্তি এনে দেয়। উদ্দীপকে বর্ণনা অনুযায়ী বাংলার বাঘ খ্যাত ব্যক্তি তথা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক জমিদার ও মহাজনদের শোষণ থেকে কৃষকদের রক্ষায় কৃষিঋণ আইন পাশ করেন এবং ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন। এর ফলে কৃষকেরা অতিরিক্ত সুদ ও অবৈধ ঋণ দাবির হাত থেকে মুক্তি পায়। জমিদারদের অন্যায্য উৎপীড়ন বন্ধ হওয়ায় কৃষকেরা নিজেদের জমিতে অধিক স্বাধীনভাবে চাষাবাদ করতে পারে। ঋণ সালিশি বোর্ডের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধান প্রাপ্ত হওয়ায় কৃষকেরা আর মহাজনের হাতে জমি হারানোর আশঙ্কায় ভুগত না। কৃষিঋণ আইনের ফলে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সুদের হার নিয়ন্ত্রিত হয় এবং কৃষকেরা ন্যায্য শর্তে ঋণ গ্রহণের সুযোগ পায়। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে আসে। এসব উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক মুক্তিই দেয়নি, বরং কৃষকদের সামাজিক মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হয়। সুতরাং বলা যায়, শেরে বাংলার এসব উদ্যোগ বাংলার কৃষকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ ছিল। এর মাধ্যমে তারা শোষণমুক্ত জীবন, অর্থনৈতিক স্বস্তি ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান লাভ করে, যা তাদের ভাগ্যোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDinajpur Board (2025)

'বাংলার বাঘ' নামে খ্যাত অবিসংবাদিত নেতা সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের শোষণ থেকে বাংলার দরিদ্র কৃষকদের মুক্তির জন্য তিনি কৃষিঋণ আইন ও ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করেন।

ক.

মজলুম জননেতা কাকে বলা হয়?

খ.

লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় কী ছিল?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন রাজনীতিবিদের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত উক্ত কর্মকাণ্ড বাংলার কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কী ভূমিকা রেখেছিল? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ। তিনি সবসময়ই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোসহীন। এজন্য ত...

NDF কে গঠন করেন?

Q. উপরে" ? " চিহ্নিত স্থানে কার নাম বসবে?

'The way of Swaray' কত সালে প্রকাশিত হয়?

'The way of Swaray' গ্রন্থে চিত্তরঞ্জন দাসের কিসের পূর্বাভাস পাওয়া যায়?

ক. 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' কে প্রতিষ্ঠা করেন? খ. বেঙ্গল প্যাক্ট বলতে কী বোঝ? গ. কৃষকদের কল্যাণ সাধনে 'খ' ব্যক্তি কী...

ক. বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন? খ. বেঙ্গল প্যাক্টের মূল বিষয়বস্তু কী ছিল? গ. 'ক' ছকে লক্ষণীয় ব্যক্তির ...

ক. ঋণ সালিশি বোর্ড কী? খ. মজলুম জননেতা কাকে বলা হয় এবং কেন? গ. ছক 'ক' তে আলোচিত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করো। ঘ. ছক 'খ' তে আলোচ...

ক. অধ্যাদেশ জারি করেন কে? খ. রাষ্ট্রপতির অভিশংসন পদ্ধতি বর্ণনা করো। গ. খ ছকের '?' স্থান কোন প্রশাসক নির্দেশ করে? তার কার...

ক. দ্বৈত শাসন কী? খ. ৬ দফাকে বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে 'X' ছকে তোমার পঠিত যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।