ক.
বাংলাদেশ সংবিধানের অভিভাবক সুপ্রিম কোর্ট।
খ.
বাংলাদেশ সংবিধানের বিভিন্ন বিধিবিধানের আলোকে সরাসরি যেসব প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলোই মূলত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের গঠন, ক্ষমতা, কার্যাবলি, পদের যোগ্যতা, মেয়াদ ইত্যাদি বিষয় সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। এরূপ
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলো- ১. বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন, ২. নির্বাচন কমিশন, ৩. এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, ৪. মহাহিসাব
নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। এসব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সদস্যগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন।
গ.
উদ্দীপকে যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকরির আবেদন করে তা হলো 'বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন'।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন সভাপতিসহ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন গঠিত হবে। কমিশনের সভাপতি ও অন্য সদস্যগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। রাষ্ট্রপতির ৫৭নং আদেশবলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সদস্যসংখ্যা সভাপতিসহ অন্যূন ৬ জন বা অনূর্ধ্ব ১৫ জন নির্ধারিত করা হয়। তবে কমিশনের সদস্যদের অর্ধেক এমন ব্যক্তি হবেন যারা কমপক্ষে ২০ বছর বা তারও বেশি সরকারের কর্মে কোনো পদে নিয়োজিত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের প্রধান অফিস ঢাকায় অবস্থিত। প্রধান অফিস ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহীতে এর আঞ্চলিক অফিস বিদ্যমান রয়েছে। আর বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৯(১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি বা অন্যকোনো সদস্য তার দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা তার ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া এর মধ্যে যা আগে ঘটে সে সময় পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। তবে অসদাচরণের জন্য বা দৈহিক অসমর্থতা বা মানসিক বিকৃতির কারণে জাতীয় সংসদের অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দ্বারা সমর্থিত প্রস্তাব ক্রমে এবং রাষ্ট্রপতির আদেশে কমিশনের সভাপতি বা অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে স্বীয় পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন।
ঘ.
উক্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির অর্থাৎ সরকারি কর্মকমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার উপর দক্ষ প্রশাসনব্যবস্থা নির্ভর করে- উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের প্রধান কর্তব্য হলো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কাজে লোক নিয়োগ করা। এক্ষেত্রে কর্মকমিশন নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার নীতি অবলম্বন করে। আর এ পদ্ধতিগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করে সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকারি কর্মকমিশন। কর্মকমিশন সৎ, যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীদের নিয়োগ প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে। আর এ সকল কর্মকান্ডের প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা অবলম্বন করা হলে অবশ্যই দেশবাসী সৎ, যোগ্য ও মেধাবী সরকারি কর্মকর্তা পাবে এবং দক্ষ প্রশাসনব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু কর্মকমিশন যদি কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে না পারে তাহলে দক্ষ কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হবে না। কমিশন এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা হারালে দুর্বল প্রশাসনব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে, যা জাতির জন্য অকল্যাণকর। আবার কমিশনের সদস্যদের সততা ও দক্ষতার অভাব ঘটলে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ও অসৎ প্রার্থী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ প্রাপ্ত হবে। ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা তাদের ন্যায্য অধিকার হতে বঞ্চিত হবেন। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার উপর দক্ষ প্রশাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকারি কর্মকমিশনের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা, এর মাধ্যমে একটি দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন প্রশাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠার সুযোগ লাভ করে।
সুতরাং সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, কর্মকমিশন প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর দক্ষ প্রশাসনব্যবস্থা নির্ভর করে- উক্তিটি যথার্থ।