ক.
দুর্নীতি হলো ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠিগত সুবিধা লাভ করা।
খ.
খাদ্যে ভেজালের প্রধান কারণ হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভ। তারা কম দামে ভেজাল উপকরণ মিশিয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে চায়। এছাড়াও, আইনের দুর্বল প্রয়োগ, অসচেতনতা, নজরদারির অভাব এবং নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেও খাদ্যে ভেজাল মেশানো হয়। দরিদ্রতা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক মানুষ ভেজাল খাবার কিনতে বাধ্য হয়। দ্রুত ফলনের আশায় অনেক সময় রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়, যা ভেজালের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গ.
উদ্দীপকে বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ কাজের সাফল্য নির্ভর করে একমাত্র নির্বাচন কমিশনের ওপর।
নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যা নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান কাজ হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। তারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করে, যাতে সকল ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে। একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসাবে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে না এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনি বিধিমালা প্রণয়ন করে এবং তা প্রয়োগ করে।
একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম। যখন জনগণ বুঝতে পারে যে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, তখন তারা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও স্বীকৃতি লাভ করে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য কাজ করে। তারা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পরিশেষে বলা যায়, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে। উদ্দীপকের আলোকে, বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময়ে নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
ঘ.
একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও জনগণ উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
একটি সফল নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। এক্ষেত্রে সরকারকে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কোনো প্রকার চাপ বা প্রভাব ছাড়াই নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করা সরকারের দায়িত্ব। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যেতে পারে, যারা নির্বাচনকালে কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবে না। নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, তার জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নির্বাচনকালে কোনো প্রকার সহিংসতা যেন না ঘটে, তার জন্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে হবে।
সরকারের পাশাপাশি জনগণেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা উচিত। কোনো প্রকার ভয় বা প্রলোভনে প্রভাবিত না হয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। জনগণকে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং ভোট দেওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে হবে। নির্বাচনকালে কোনো প্রকার সহিংসতায় লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়া এবং নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেওয়া উচিত। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচনি বিধিমালা মেনে চলতে হবে এবং কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতিতে জড়িত হওয়া যাবে না। নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো প্রকার গুজবে কান দেওয়া যাবে না এবং সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা করতে হবে। এছাড়া জনগণ সচেতন পর্যবেক্ষক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। কোনো অনিয়ম দেখলে নির্বাচন কমিশন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে হবে। নির্বাচনের পর নতুন সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকার ও জনগণ উভয়কেই তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সফল নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব, যা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে এবং দেশের উন্নয়নে সহায়তা করবে।