ক.
CFC এর পূর্ণরূপ হলো Chlorofluorocarbon.
খ.
উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবসহ পৃথিবীর জীবসম্ভার, তাদের অর্ন্তগত জিন ও সেগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বাস্তুতন্ত্রকে জীববৈচিত্র্য বলে।
জীববৈচিত্র্য মূলত জীবিত প্রজাতির বৈচিত্র্য এবং তাদের বাস করার জটিল পরিবেশতন্ত্রের আভাস দেয়। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীতে ৩০ লক্ষ থেকে ৩ কোটির মতো বিভিন্ন প্রজাতির জীব বাস করে।
গ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ জলবায়ুর পরিবর্তন।
বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন স্থানে ঘন ঘন সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, খরা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে। সেইসাথে প্রকট হচ্ছে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা; যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে পাওয়া যায়। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) এর মতে, বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হলো পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
তবে পৃথিবীব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো গ্রিন হাউজ ইফেক্ট ও বিগত দুইশ বছরের প্রসারমান শিল্পের উন্নয়ন। পৃথিবীর জলবায়ু সূর্য থেকে পাওয়া শক্তির ওপর নির্ভর করে। আর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গ্রিন হাউজ গ্যাস। যেমন: কার্বন- ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি। কিন্তু কলকারখানা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়ার কারণে লাগামহীনভাবে গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ বাড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে জলবায়ুর ওপর। এছাড়া বনাঞ্চল ধ্বংস এবং জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহারের জন্য বিগত কয়েক শতাব্দীতে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব শতকরা প্রায় ১৫ ভাগ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বনাঞ্চল ধ্বংসের প্রভাবে সবুজ উদ্ভিদ হ্রাস পাওয়ায় সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে এ গ্যাস শোষণের মাত্রাও কমে যাচ্ছে। যার ফলে বাতাসে এর ঘনত্ব বৃদ্ধির সাথে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তাপের বৃদ্ধি ঘটছে। বাতাসে কার্বন-ডাই অক্সাইডের অর্থাৎ গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জলবায়ুর পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের মতো জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে ঋতু বৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে, অসময়ের বৃষ্টি এবং খরা জনজীবনে ডেকে আনছে সীমাহীন দুর্ভোগ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার কারণ জলবায়ু পরিবর্তন।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। আর এ সমস্যা মোকাবিলায় একজন সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বিপন্ন অবস্থায় আছে। এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতি নির্ভরশীলতাকে এর মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে কারণে অল্প সময়ের ব্যবধানে বন্যা, খরা, টর্নেডো, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটতে দেখা যায়। এর ফলে এদেশের মানুষের জীবন- জীবিকায় আসছে পরিবর্তন, তাপমাত্রা বাড়ছে, অসময়ে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো ইত্যাদির কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার জমির ফসল, পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে, জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য কমে যাচ্ছে। তাই এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি একজন সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
একজন সমাজকর্মী জলবায়ুর ঝুঁকি নিরূপণে কাজ করতে পারেন। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের জীবন ও জীবিকায় কী ধরনের ক্ষতি করে তা চিহ্নিত করা যায়। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর প্রভাব বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার জন্য তিনি বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন করতে পারেন। ভিডিও প্রদর্শনী; ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এ সম্পর্কে প্রচারণা চালাতেও সমাজকর্মী কাজ করতে পারেন। এছাড়াও সমাজকর্মীরা দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করছে এরকম সংস্থার মধ্যে সমন্বয়কের (Co- ordinator) ভূমিকা পালন করতে পারেন। আবার জলবায়ু বিপন্ন হওয়ার জন্য দায়ী গ্রিন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ প্রয়োগ করা জরুরি। এক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা সামাজিক কার্যক্রম (Social Action) গ্রহণের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারেন। এছাড়া সমাজকর্মীরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কীভাবে কমানো যায় বা কীভাবে এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা যায় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। এজন্য তিনি ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি পর্যায়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেন। সেইসাথে তিনি এসব কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা বাড়াতে পারেন।