Facebook Pixel

বাংলাদেশের সাথে ' ক ' সংঘের এক গভীর সম্পর্ক রযেছে। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩৬তম সদস্য হিসাবে সংঘটিতে যোগদান করে। বর্তমান বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। ক. কয়টি দেশ সানফ্রান্সিসকো সম্মেলনের উদ্যোক্তা ছিল ? খ. জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী ? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ' ক ' সংগঠনটি তোমার বইয়ের কোন সংগঠনকে নির্দেশ করে ব্যাখ্যা করো। ঘ. বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত সংগঠনের ভূমিকা আলোচনা করো।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ জাতিসংঘ ও বিশ্বশান্তি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সানফ্রান্সিসকো সম্মেলনের উদ্যোক্তা ছিল ৫০টি দেশ। খ. জাতিসংঘ তার প্রতিষ্ঠাকালে কিছু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছিল। জাতিসংঘের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো - ১ . জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রবর্গ দ্বিপাক্ষিক বা আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানে যুদ্ধ পরিহার করে সনদ নির্ধারিত শান্তিপূর্ণ পথে মীমাংসার অঙ্গীকার করে। ২. সনদ লঙ্ঘনকারী রাষ্ট্রকে জাতিসংঘ শাস্তি দেওয়ার অধিকার ও সদস্য রাষ্ট্রবর্গ তা সমর্থন করবে। সাধারণ অবস্থায় কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ হস্তক্ষেপ না করলেও বিশ্ব শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে জাতিসংঘের এ অধিকার নীতিগতভাবে স্বীকৃত হয় । ৩ . নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ ও সাধারণ পরিষদের সম্মতিতে অনুরূপভাবে কোনো রাষ্ট্রের সদস্যপদ বাতিলও হতে পারে। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ' ক ' সংগঠনটি আমার পাঠ্যবইয়ের জাতিসংঘকে নির্দেশ করে । আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত সংস্থা সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতা ও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দ্বন্দ্বের ফলে বিশ্ব কয়েক দশক পরই আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের সম্মুখীন হয়। আবার হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলায় ক্ষতবিক্ষত হয় মানবতা ও বিশ্ববিবেক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বিশ্বনেতৃবৃন্দ অতীতের সব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরেকটি সর্বজনীন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর পরিণতিতেই প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩৬তম দেশ হিসেবে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে। বর্তমানে জাতিসংঘের প্রায় সবগুলো অঙ্গ সংগঠনের সদস্য ও শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বাধিক সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিদ্যমান । উদ্দীপকে দেখা যায় , ‘ ক ' সংঘের সাথে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩৬তম সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ উক্ত সংঘটিতে যোগদান করে। এ তথ্যগুলো জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককেই নির্দেশ করে। তাই বলা যায় , উদ্দীপকে বর্ণিত ' ক ' সংগঠনটি মূলত জাতিসংঘ । ঘ. বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত সংগঠনটি অর্থাৎ জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত । যেসব মহান লক্ষ্য , উদ্দেশ্য এবং আদর্শ নিয়ে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার সব বাস্তবায়িত না হলেও সামগ্রিকভাবে জাতিসংঘ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছে। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘের অবদান প্রশংসনীয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে তোলা , এ সংগঠনটি দীর্ঘ সাত দশত ধরে নানা ঘাত প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকভাবে টিকে আছে তা এর সাফল্যের পরিচয় বহন করে। এই সাত দশক দরে বিশ্ববাসী বহু বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সমস্যার মুখোমুখী হলেও জাতিসংঘ সার্থকভাবে হস্তক্ষেপের ফলে বিশ্ব এখনও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমমুখী হয়নি। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো মূলত জাতিসংঘের দিকেই তাকিয়ে থাকে । ইন্দোনেশিয়া , লিবিয়া , নামিবিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্র জাতিসংঘের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার ফলেই স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করছে। ১৯৪৮ সালে আরব - ইসরাইল বিরোধ মোকাবিলা , ১৯৫০ সালে কোরীয় সংকট দূরীকরণ , ১৯৬৭ সালের আবর - ইসরাইল যুদ্ধ বিরতি , আফ্রিকার দেশে দেশে সংঘাতের অবসান , ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান , ১৯৬৫ সালে পাক - ভারত যুদ্ধের অবসানে জাতিসংঘের অন্যতম সফল প্রয়াস। এছাড়াও গণতন্ত্রের উন্নয়ন , স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন , মানবাধিকার উন্নয়ন , পরিবেশ সংরক্ষণ , পরমাণু অস্ত্র বিস্তারে রোধ , বর্ণ বৈষম্যের অবসান প্রভৃতি বিষয়ে অনেক কর্মসূচির মাধ্যমে জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পরিশেষে বলা যায় , বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় জাতিসংঘ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের সাথে 'ক' সংঘের এক গভীর সম্পর্ক রযেছে। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১৩৬তম সদস্য হিসাবে সংঘটিতে যোগদান করে। বর্তমান বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।

ক.

কয়টি দেশ সানফ্রান্সিসকো সম্মেলনের উদ্যোক্তা ছিল?

খ.

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' সংগঠনটি তোমার বইয়ের কোন সংগঠনকে নির্দেশ করে ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় উক্ত সংগঠনের ভূমিকা আলোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

UNDCP মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে- i. উৎপাদন কমিয়ে ii. ব্যবহারকারীদের চিকিৎসা দিয়ে iii. ব্যবহারকারীদের...

WHO প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?

ক. জাতিসংঘের সদস্যসংখ্যা কত? খ. ভেটো ক্ষমতা কী? গ. উদ্দীপকে কোন সংস্থাটির চিত্র প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. নিরাপত্ত...

ক. জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম কী? খ. ট্রম্যান ডকট্রিন কী প্রভাব ফেলেছিল মূল বিষয় ব্যাখ্যা কর। গ. '?' স্থানে কোন সংস...

ক. VC ভিচি সরকার কোন দেশে গড়ে উঠে ? খ. টেনিস কোর্টের শপথ বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপক [ ক ] চিহ্নিত স্থান তোমার পঠিত কোন সং...

ক. সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে কতটি রাষ্ট্র গঠিত হয় ? খ. নেপোলিয়ন কোড বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপকে কোন সংস্থাটির চিত্র প্রকাশিত...

ILO-এর উদ্দেশ্য কোনটি?

‘X’ ও ‘Y’ রাষ্ট্র দুটির সীমান্তবর্তী নদীর মোহনায় নতুন একটি দ্বীপ। জেগে উঠলে উভয় দেশই এর মালিকানা দাবি করে। দ্বীপটি মাল...

আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক যে ধরনের সংগঠনই হোক না কেন সময় সময় তার পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া পরিবর্তনশীল সা...

আটলান্টিক সনদ কোন দুটি দেশের গোপন আলোচনার ফসল?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।