Facebook Pixel

বাংলাদেশের রায়হান চৌধুরী উচ্চ শিক্ষার জন্য ইতালি গিয়েছে। সেখানে সে এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। তা হলো, সারা বছর রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করলেও বৃষ্টিপাত হয় শীতকালে। ক. 'CFC' কী? খ. ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. রায়হান চৌধুরীর নিজ দেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জলবায়ু অঞ্চল দুটি হলো ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল ও মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল। নিম্নে উক্ত অঞ্চল দুটির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো- ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু: ভূমধ্যসাগর এবং এর তীরবর্তী দেশসমূহে যে জলবায়ু দেখা যায় তাকে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলে। এটি উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জলবায়ু। এখানে বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং বৃষ্টিবহুল শীতকাল বিরাজ করে। এছাড়া শীতকালে এ অঞ্চলের কোনো কোনো স্থানে তুষারপাত হয়। গ্রীষ্মকালে তাপ বেশ অনুভূত হয়। এখানে শীত গ্রীষ্ম ও ঋতুভেদে তাপের পার্থক্য হয়। এর গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি থেকে ২৭ ডিগ্রি সে. এবং শীতকালীন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে। শীতকালে বৃষ্টিপাত হলেও আকাশ কখনও একেবারে মেঘাচ্ছন্ন হয় না'। তাই সারা বছরই রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া এ জলবায়ুর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। প্রত্যয়ন বায়ুর প্রভাবে কেবল শীতকালেই বৃষ্টিপাত হয় এবং শুষ্ক আয়ন বায়ুর দরুন গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকে। মৌসুমি জলবায়ু ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় তাকে মৌসুমি জলবায়ু বলে। এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের জলবায়ু। এখানে বৃষ্টিবহুল গ্রীষ্মকাল এবং বৃষ্টিহীন শীতকাল বিরাজ করে। এছাড়া শীতকালে এ অঞ্চলের কোনো স্থানে তুষারপাত হয় না। গ্রীষ্মকালে সূর্য অনেকটা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় তাপ বেশি অনুভূত হয়। এখানেও শীত গ্রীষ্ম ও ঋতুভেদে তাপের পার্থক্য হয়। এর গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি থেকে ৩২ ডিগ্রি সে. এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি থেকে ২১ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালের মাঝে আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন হলেও বছরের অন্যান্য সময় মেঘমুক্ত নির্মল আকাশ এ জলবায়ুর একটি উল্লেখযোগ্য দিক জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং শুষ্ক মৌসুমি বায়ুর দরুন শীতকাল বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকে। সুতরাং বলা যায় যে, উপরোল্লিখিত জলবায়ু অঞ্চল দুটিতে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।

বিষয়: ভূগোল ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ক্লোরিন, ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত গ্রিনহাউজ গ্যাসকে সংক্ষেপে সিএফসি বা ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) বলা হয়। খ. ভূপৃষ্ঠের ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত অর্থাৎ, স্ট্রাটোস্ফিয়ারের মাঝামাঝি ওজোন গ্যাসের পরিমাণ সর্বাধিক। বায়ুমণ্ডলের এ স্তরকে ওজোনোস্ফিয়ার বলে। ওজোন গ‍্যাসের আস্তরণটি সূর্যরশ্মির অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীবকুলকে অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন ক্লোরোফ্লোরো কার্বন বা সিএফসি যৌগ অক্সিজেন অণু ভেঙে ওজোন তৈরির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে পতিত হওয়ার সুযোগ পায় এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমূহ ক্ষতিসাধন করে। গ. উদ্দীপকের রায়হান চৌধুরীর নিজ দেশ বাংলাদেশ। উক্ত দেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো- বাংলাদেশের জলবায়ুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুপ্রবাহ। দক্ষিণ দিক থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুপ্রবাহ ২ কিলোমিটার পর্যন্ত ঊর্ধ্বে উঠে এবং এর উপরিস্থ অপেক্ষাকৃত শীতল ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম দিক থেকে আসতে থাকে। এ দুই বায়ুপ্রবাহ পরস্পরের সংস্পর্শে আসা মাত্র ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশকে মৌসুমি জলবায়ুর অঞ্চল বলা হয়। কারণ গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে | উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়। বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত মৌসুমি বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। এ জলীয় বাষ্পসম্পন্ন মৌসুমি বায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। গ্রীষ্মকালে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০%। অন্যদিকে শীতকালে উত্তর-পূর্ব শুষ্ক মৌসুমি বায়ু থাকায় বৃষ্টিপাত হয় না। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উষ্ণ, আর্দ্র ও বৃষ্টিবহুল গ্রীষ্মকাল এবং মৃদু শুষ্ক শীতকাল। জলবায়ুর এরূপ বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেশ সুজলা- সুফলা ও শস্যশ্যামল দেশে পরিণত হয়েছে। আর মানুষের জীবন জীবিকার সাথে মৌসুমি বায়ু অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে। তাই এদেশকে মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলা হয়। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশ দু'টির জলবায়ুর পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের রায়হান চৌধুরী উচ্চ শিক্ষার জন্য ইতালি গিয়েছে। সেখানে সে এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। তা হলো, সারা বছর রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করলেও বৃষ্টিপাত হয় শীতকালে।

ক.

'CFC' কী?

খ.

ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ.

রায়হান চৌধুরীর নিজ দেশের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জলবায়ু অঞ্চল দুটি হলো ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল ও মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল। নিম্নে উক্ত অঞ্চল দুটির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু: ভূমধ্যসাগর এবং এর তীরবর্তী দেশসমূহে যে জলবায়ু দেখা যায় তাকে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলে। এটি উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের জলবায়ু। এখানে বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং বৃষ্টিবহুল শীতকাল বিরাজ করে। এছাড়া শীতকালে এ অঞ্চলের কোনো কোনো স্থানে তুষারপাত হয়। গ্রীষ্মকালে তাপ বেশ অনুভূত হয়। এখানে শীত গ্রীষ্ম ও ঋতুভেদে তাপের পার্থক্য হয়। এর গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি থেকে ২৭ ডিগ্রি সে. এবং শীতকালীন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে। শীতকালে বৃষ্টিপাত হলেও আকাশ কখনও একেবারে মেঘাচ্ছন্ন হয় না'। তাই সারা বছরই রৌদ্রকরোজ্জ্বল আবহাওয়া এ জলবায়ুর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। প্রত্যয়ন বায়ুর প্রভাবে কেবল শীতকালেই বৃষ্টিপাত হয় এবং শুষ্ক আয়ন বায়ুর দরুন গ্রীষ্মকাল বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকে।
মৌসুমি জলবায়ু ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় তাকে মৌসুমি জলবায়ু বলে। এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের জলবায়ু। এখানে বৃষ্টিবহুল গ্রীষ্মকাল এবং বৃষ্টিহীন শীতকাল বিরাজ করে। এছাড়া শীতকালে এ অঞ্চলের কোনো স্থানে তুষারপাত হয় না। গ্রীষ্মকালে সূর্য অনেকটা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় তাপ বেশি অনুভূত হয়। এখানেও শীত গ্রীষ্ম ও ঋতুভেদে তাপের পার্থক্য হয়। এর গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি থেকে ৩২ ডিগ্রি সে. এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি থেকে ২১ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালের মাঝে আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন হলেও বছরের অন্যান্য সময় মেঘমুক্ত নির্মল আকাশ এ জলবায়ুর একটি উল্লেখযোগ্য দিক জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং শুষ্ক মৌসুমি বায়ুর দরুন শীতকাল বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকে।
সুতরাং বলা যায় যে, উপরোল্লিখিত জলবায়ু অঞ্চল দুটিতে ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. জলবায়ু অঞ্চল কাকে বলে? খ. গ্রিন হাউস গ্যাস বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের 'গ' অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। ঘ...

ক. বায়ু দূষণ কাকে বলে? খ. টর্নেডোর তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ। গ. উদ্দীপকে চিহ্নিত জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। ঘ. উদ্দী...

ক. গ্রিনহাউস কাকে বলে? খ. বৈশাখ মাস অন্তর্ভুক্ত ঋতুটির বৈশিষ্ট্য বাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে চিহ্নিত 'ক' অঞ্চলের জলবায়ুর অবস...

ক. পরিপৃক্ত বায়ু কাকে বলে? খ. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। গ. 'ক' জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য বর্ণ...

ক. বৃষ্টিপাতের সংজ্ঞা দাও। খ. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কীভাবে নিরূপণ করা হয়? গ. মানচিত্রে 'ক' চিহ্নিত বায়ুপ্রবাহটি বর্ণনা কর। ...

ক. ঘনীভবন কাকে বলে? খ. আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অঞ্চলের জলবায়ুর উৎপত্তির কারণ ...

ক. বিশ্ব উষ্ণায়ন কী? খ. নিরক্ষীয় অঞ্চলে গভীর অরণ্য সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য...

ক. গ্রিনহাউস প্রভাব কী? খ. বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের জলবায়ুর বর্ণন...

ক. একটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখ। খ. তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল কোথায় অবস্থিত? গ. উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ব্...

ক. মানচিত্র কাকে বলে? খ. বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারভাটার প্রভাব ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' চিহ্নিত অঞ্চল...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।