Facebook Pixel

ক. জলবায়ু অঞ্চল কাকে বলে? খ. গ্রিন হাউস গ্যাস বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের 'গ' অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ঋতুগত তারতম্য বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ভূগোল ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যেসব অঞ্চলের জলবায়ুর উপাদানসমূহ প্রায় একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সেসব স্থানকে জলবায়ু অঞ্চল বলে। খ. বায়ুমণ্ডলের যেসব গ্যাস ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপ শোষণ করে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদের গ্রিন হাউস গ্যাস বলে। প্রধান গ্যাসসমূহ : কার্বন ডাই-অক্সাইড <=ft(CO_2right), মিথেন <=ft(CH_4right), নাইট্রাস অক্সাইড ( N_2 O )এবং ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (CFC)। গ. মানচিত্রে 'গ' চিহ্নিত অঞ্চলটি মূলত ভারত ও বাংলাদেশের অবস্থান অর্থাৎ এটি মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে বায়ুর দিক পরিবর্তন হয় তাকে মৌসুমি বায়ু বলে। আর এ বায়ু প্রবাহিত অঞ্চলের জলবায়ুকে মৌসুমি জলবায়ু বলে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে মৌসুমি জলবায়ুর ঋতুভিত্তিক প্রভাব সর্বাধিক বলে এ জলবায়ুকে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুও বলা হয়। নিচে মৌসুমি জলবায়ুর প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দেওয়া হলো : বায়ুর তাপ : গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ২৭&deg; সেলসিয়াসের অধিক থাকে। আবার শীতকালে তাপমাত্রা গড়ে ১০&deg; থেকে ২২&deg; সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। তবে গ্রীষ্ম ও শীতকালে গড় উষ্ণতার পার্থক্য প্রায় ৫&deg; সেলসিয়াসের মতো হয়ে থাকে। মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কম অনুভূত হয়। আবার গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর কারণে তাপমাত্রা সমভাবাপন্ন থাকে। বায়ুর চাপ ও বায়ুপ্রবাহ : ঋতুভেদে বায়ুর চাপের তারতম্যের জন্য মৌসুমি বায়ুর উৎপত্তি হয়। নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর গতি বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। এজন্য গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ুকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বলে। আবার শীতকালে মৌসুমি বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসে বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে। বৃষ্টিপাত : গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধের স্থলভাগে অধিক তাপের ফলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। দক্ষিণে সমুদ্র হতে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহিত হয়ে এ অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটায়। এখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১২৫ থেকে ২০৩ সেমি.। ঘ. উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' হলো যথাক্রমে নিরক্ষীয় ও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু। নিচে এ দুটি জলবায়ুর বৈশাদৃশ্য বর্ণনা করা হলো- সাধারণত বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত প্রভৃতি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে নিরক্ষীয় জলবায়ু নিরূপণ করা যায়। নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং দিবাভাগের দৈর্ঘ্য সারাবছর প্রায় সমান থাকে বলে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা সারাবছরই অধিক থাকে এবং বিভিন্ন মাসের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য খুবই কম হয়ে থাকে। বার্ষিক গড় তাপমাত্রা সাধারণত ২২&deg;- ৩৪&deg; সে. পর্যন্ত। নিরক্ষীয় অঞ্চলে আনুভূমিকভাবে তাপমাত্রা পরিবর্তনের হার খুব কম বলে বায়ু চাপের পরিবর্তনের হারও কম। ফলে আনুভূমিক বায়ুপ্রবাহের বেগও অতি কম। কেবল প্রান্তভাগে অয়ন বায়ুর প্রবেশজনিত কারণে আনুভূমিক বায়ুপ্রবাহের বেগ অপেক্ষাকৃত অধিক হয় এবং নিরক্ষীয় শান্তবলয়ের দিকে বায়ুর বেগ ক্রমশ কমে যায়। এ অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭৮-২৫০ সে.মি. মতো। অন্যদিকে মহাদেশসমূহের পশ্চিমাংশে ৩০&deg; হতে ৪৫&deg; উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এ জলবায়ু দেখা যায়। ভূমধ্যসাগর এবং এর তীরবর্তী দেশসমূহে এ জলবায়ুর বিস্তৃতি ও প্রভাব সর্বাধিক বলে উপক্রান্তীয় মহাদেশের পশ্চিম প্রান্তের এ জলবায়ুকেও ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু বলা হয়। এ জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিপাত হয় না বলে এ অঞ্চলের জলবায়ু অত্যন্ত মনোরম ও রৌদ্রকরোজ্জ্বল। গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা (২১&deg;-২৭&deg;) সেলসিয়াস এবং শীতকালীন গড় তাপমাত্রা (৪&deg;-১০&deg;) সেলসিয়াস। সমুদ্র উপকূল হতে দেশের অভ্যন্তরে তাপমাত্রার ব্যবধান কমতে থাকে। এ অঞ্চলের দেশগুলো নাতীশিতোষ্ণ অঞ্চলের বলে তাপ তেমন প্রখর নয়। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত (২৫-৭৫) সেন্টিমিটার। সমুদ্র উপকূল হতে মহাদেশের অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাত ক্রমশ কমতে থাকে। আকাশ প্রায়ই মেঘমুক্ত থাকে। এ অঞ্চলে শীতকালে আর্দ্র পশ্চিমা বায়ু এবং গ্রীষ্মকালে শুষ্ক অয়ন বায়ু প্রবাহিত হয়। সুতরাং 'ক' ও 'খ' জলবায়ু অঞ্চলের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ দু'অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে বেশিরভাগই বৈসাদৃশ্যতা বিরাজ করে। অর্থাৎ দু'অঞ্চলের জলবায়ুর মধ্যে বৈসাদৃশ্যতা পরিলক্ষিত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ক.

জলবায়ু অঞ্চল কাকে বলে?

খ.

গ্রিন হাউস গ্যাস বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকের 'গ' অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের 'ক' ও 'খ' অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ঋতুগত তারতম্য বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. বায়ু দূষণ কাকে বলে? খ. টর্নেডোর তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ। গ. উদ্দীপকে চিহ্নিত জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। ঘ. উদ্দী...

ক. গ্রিনহাউস কাকে বলে? খ. বৈশাখ মাস অন্তর্ভুক্ত ঋতুটির বৈশিষ্ট্য বাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে চিহ্নিত 'ক' অঞ্চলের জলবায়ুর অবস...

ক. পরিপৃক্ত বায়ু কাকে বলে? খ. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। গ. 'ক' জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য বর্ণ...

ক. বৃষ্টিপাতের সংজ্ঞা দাও। খ. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কীভাবে নিরূপণ করা হয়? গ. মানচিত্রে 'ক' চিহ্নিত বায়ুপ্রবাহটি বর্ণনা কর। ...

ক. ঘনীভবন কাকে বলে? খ. আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অঞ্চলের জলবায়ুর উৎপত্তির কারণ ...

ক. বিশ্ব উষ্ণায়ন কী? খ. নিরক্ষীয় অঞ্চলে গভীর অরণ্য সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য...

ক. গ্রিনহাউস প্রভাব কী? খ. বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের জলবায়ুর বর্ণন...

ক. একটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখ। খ. তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল কোথায় অবস্থিত? গ. উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ব্...

ক. মানচিত্র কাকে বলে? খ. বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারভাটার প্রভাব ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' চিহ্নিত অঞ্চল...

ক. মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে? খ. বিভিন্ন প্রকার সাময়িক বায়ু বর্ণনা কর। গ. বৃষ্টিপাত হিসেবে ১ম চিত্রের ঘটনাটি ব্যাখ্যা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।