Facebook Pixel

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে শরীফ ও আজম আলোচনা করছে। শরীফ বলছে ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এবং যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথ তলায় একটি সরকার গঠিত হয়। আজমও শরীফের সাথে সহমত প্রকাশ করে বলে এই সরকারের সুষ্ঠু তত্ত্বাবধানের ফলেই বাংলাদেশ মাত্র নয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। ক. বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম কী? খ. 'অপারেশন সার্চলাইট' কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকার দ্বারা ঐতিহাসিক কোন সরকারকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত সরকারের অবদান পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ স্বাধীন ও সার্ভভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। খ. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী কর্তৃক পূর্ব-পাকিস্তানের যে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয় তার সাংকেতিক নাম ছিল অপারেশন সার্চলাইট। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে রাওফরমান আলী ও পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা ঢাকাসহ সারা দেশে যে গণহত্যামূলক অভিযান পরিচালনা করে তারা এর নাম দেয় অপারেশন সার্চলাইট। ইতিহাসে এ অভিযান একটি জঘন্যতম ঘটনা। এ অভিযানে অসংখ্য নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যা করা হয় এবং বহু বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকার দ্বারা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকারকে বোঝানো হয়েছে। মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশের প্রথম সরকার। মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠন করা হয়। তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর থানার বৈদ্যনাথতলা নামক স্থানে এ সরকার গঠন করা হয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে এ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সরকার গঠন করা হয়েছিল। ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠন করা হলেও এ সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল ১৭ এপ্রিল। শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিলেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী। এ সরকারের সদর দপ্তর ছিল প্রথমে মুজিবনগরে এবং পরবর্তীতে কলকাতার থিয়েটার রোডের ৮নং বাড়ি। এ সরকারে গঠন কাঠামো ছিল নিম্নরূপ- রাষ্ট্রপতি : শেখ মুজিবুর রহমান। উপ-রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ। অর্থমন্ত্রী : এম. মনসুর আলী। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী : এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান। পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ। প্রধান সেনাপতি : কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী। উদ্দীপকের শরীফ বলছে ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এবং যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথ তলায় একটি সরকার গঠিত হয়। আজমও শরীফের সাথে সহমত প্রকাশ করে বলে এই সরকারের সুষ্ঠু তত্ত্বাবধানের ফলেই বাংলাদেশ মাত্র নয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। যা মুজিবনগর সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে। পরিশেষে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার ছিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এ সরকারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল। ঘ. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের অবদান অপরিসীম। এ সরকারের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন দেশ হিসেবে জায়গা করে নেয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলেও তা অসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতে থাকে। তাই মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিতভাবে পরিচালনার জন্য এবং বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। মুজিবনগর সরকার গঠনের পর সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং প্রতি সেক্টরে সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া কর্নেল এম. এ. জি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করা হয়। এর ফলে মুক্তিযুদ্ধ সুসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতে থাকে। মুজিবনগর সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ একটি দেশের সরকার প্রধান হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতা চান এবং বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতিদানের আহ্বান জানান। মুজিবনগর সরকার গঠনের পর এ সরকার বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করেন। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এ সরকারকে এবং বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বাকৃতি দেয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এ সরকারের কাছেই আত্মসমর্পণ করে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের অবদান অবিস্মরণীয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে শরীফ ও আজম আলোচনা করছে। শরীফ বলছে ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। এবং যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথ তলায় একটি সরকার গঠিত হয়। আজমও শরীফের সাথে সহমত প্রকাশ করে বলে এই সরকারের সুষ্ঠু তত্ত্বাবধানের ফলেই বাংলাদেশ মাত্র নয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

ক.

বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম কী?

খ.

'অপারেশন সার্চলাইট' কী? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকার দ্বারা ঐতিহাসিক কোন সরকারকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে উক্ত সরকারের অবদান পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c|c| hline textbfদলের নাম & textbfপূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা & textbfপশ্চিম পাকিস্তানের প্রাপ্ত আ...

ক. বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম কোন দেশ স্বীকৃতি দেয় ? খ. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান কী ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐ...

ক. মুক্তিযুদ্ধে কয়টি সেক্টর ছিল? খ. ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। গ. প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত '?' দ্বারা ঐতিহাসিক ক...

“ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” ক. মহান মুক্তিযুদ্ধের সর...

‘ ক ’ অঞ্চলের জনগণ সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গেলেও প্রয়োজন ছিল যৌক্তিকভাবে যুদ্ধ পরিচাল...

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের কতটি আসন লাভ করে?

অটোমান তুর্কী সুলতানদের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের কারণে বুলগেরিয়ার জনগণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে। অটোমান সুলতান এ আ...

অটোমান শাসনাধীনে থাকা বুলগেরিয়ার মানুষ জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তুর্কি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে ...

অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করা হয় ১৯৭১ সালের কত তারিখে?

অপারেশন সার্চলাইট কত তারিখে পরিচালিত হয়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।