Facebook Pixel

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করে। বিপরীতে ভারত, রাশিয়া বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়। মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। ক. ফ্রান্সিস ফার্ডিনান্ড কে ছিলেন? খ. লীগ অব নেশনস্ কেন গঠিত হয়? গ. উল্লেখিত পরিস্থিতির সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী কোন অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. বর্ণিত যুদ্ধে বিজয়ী শক্তির সাফল্যের কারণসমূহ বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং ভার্সাই সন্ধি ও লিগ অব নেশনস

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ফ্রান্সিস ফার্ডিনান্ড অস্ট্রিয়ার যুবরাজ ছিলেন। খ. লীগ অব নেশনস প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা; যা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়। সংস্থাটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অসামরিকীকরণের মাধ্যমে যুদ্ধভাব এড়ানো এবং সমঝোতা ও সালিশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বের নিরসন করা। এছাড়া শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, আদিবাসীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, বৈশ্বিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণসহ কতিপয় মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠা করা হয়। গ. উদ্দীপাকে উল্লেখিত পরিস্থিতির সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে ‘ত্রিশক্তি মৈত্রী’ ও ‘ত্রিশক্তি আঁতাত’ গঠনের সাদৃশ্য রয়েছে। ‘ত্রিশক্তি মৈত্রী’ ছিল জার্মান-অস্ট্রো-হাঙ্গেরি-ইতালির অংশগ্রহণে গঠিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী ইউরোপে সংঘটিত ঘটনাসমূহের মধ্যে সর্বপেক্ষা নির্দেশনামূলক। আর এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ গড়ে উঠেছিল ফ্রান্স-রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের ‘ত্রিশক্তি আঁতাত’। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। যেমনটি উদ্দীপকেও দেখা যায় । উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করে । বিপরীতে ভারত ও রাশিয়া বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয় । ফলে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। একইভাবে সম্প্রসারিত ও সমৃদ্ধ জার্মানিকে নিরাপদে রাখতে বিসমার্ক বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। Triple Alliance বা ‘ত্রিশক্তি মৈত্রী’ জোট গঠন এগুলোর অন্যতম। বলনকান অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব প্রতিরোধ করার জন্য ১৮৭৯ সালে বিসমার্ক অস্ট্রো-হাঙ্গেরির সাথে দ্বৈতচুক্তি সম্পাদন করে। আবার ১৮৮১ সালে ফ্রান্স তিউনিশিয়া দখল করলে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ইতালিকে ব্যবহার করার সম্ভবনা দেখে ১৮৮২ সালে জার্মানি-ইতালি দ্বৈতচুক্তি করেন। এর ফলে জার্মান-অস্ট্রো-হাংঙ্গেরি-ইতালি ‘ত্রিশক্তি মৈত্রী’ গড়ে ওঠে। জার্মানের অপ্রতিরোধ্য কুৎ-নৈতিক সফলতাকে হুমকি মনে করে ১৯০৪ সালে ইঙ্গ-ফরাসি এবং ১৯১৭ সালে ইঙ্গ-রুশ আতাঁত গঠন করে তোলার মাধ্যমে তৈরি হয় ‘ত্রিশক্তি আঁতাত’। ফ্রান্স, রাশিয়া ও ইংল্যান্ড উদীয়মান পরাশক্তি জার্মানিকে মোকাবেলা করার জন্য এ জোট গড়ে তুলেছিল । তাই বলা যায়, উদ্দীপকের এ পরস্পর বিরোধী পক্ষ অবলম্বন ‘ত্রিশক্তি মৈত্রী’ ও ‘ত্রিশক্তি আতাঁত’ জোট গঠনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. বর্ণিত যুদ্ধে তথা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী শক্তির সাফল্যের পেছনে তাদের বৃহৎ সামরিক শক্তি, নৌযুদ্ধে ব্যাপক পারদর্শিতা, মার্কিন যুক্তরাষ্টের অংশগ্রহনসহ নানাবিধ কারণ বিদ্যমান। ১৯১৪-১৯১৮ সাল পর্যন্ত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয় । এ যুদ্ধে অক্ষশক্তি বা পরাজিত শক্তি ছিল জার্মানি, অস্ট্রো- হাঙ্গেরি, তুরস্ক, বুলগেরিরয়া ইত্যাদি দেশ। অপরদিকে বিজয় শক্তি বা মিত্রশক্তিতে ছিল ব্রিটেন, মার্কিন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া ইত্যাদি বৃহৎ সামরিক শক্তিধর দেশ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্র শক্তির বিজয় এবং জার্মান পক্ষের পরাজয়কে অনেকগুলো কারণ দ্বারা বিশ্লেষণ করা সম্ভব । প্রথমত, সমরশক্তিতে সমৃদ্ধ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও জার্মানদের সামরিক শক্তি মিত্রপক্ষের সম্মিলিত সামরিক শক্তির তুলনায় বেশ দুর্বল ছিল। যেমন: ব্রিটেনের নৌশক্তি ইউরোপের যেকোনো দেশের তুলনা শ্রেষ্ঠ ছিল। আর এর সাথে ফ্রান্সের নৌবহর যুক্ত হাওয়ায় মিত্রপক্ষের শক্তি অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে । দ্বিতীয়ত: তারা ভূমধ্যসাগরের বিরুদ্ধে অবরোধের মাধ্যমে জার্মান নৌশক্তির রসদ সরবরাহ ভেঙ্গে দিতে সমর্থ হয়। এই কৌশলগত বিজয়ে মিত্রশক্তি যুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়। তৃতীয়তঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষতা ভেঙ্গে মিত্রশক্তিতে যোগ দিলে অক্ষশক্তি সামরিক শক্তিতে আরো পিছিয়ে পড়ে। এতে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায় । অক্ষশক্তির দেশগুলোর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ১৮১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে। আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, শুরুতে অক্ষশক্তি যুদ্ধে বেশ অগ্রগতি অর্জন করলেও মিত্রশক্তি তাদের কৌশলগত আক্রমণের মাধ্যমে বিজয় অর্জনে সমর্থ হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করে। বিপরীতে ভারত, রাশিয়া বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়। মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

ক.

ফ্রান্সিস ফার্ডিনান্ড কে ছিলেন?

খ.

লীগ অব নেশনস্ কেন গঠিত হয়?

গ.

উল্লেখিত পরিস্থিতির সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী কোন অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

বর্ণিত যুদ্ধে বিজয়ী শক্তির সাফল্যের কারণসমূহ বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'X' একটি দেশ। তাদের নিজস্ব জাতি ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব ছিল। তারা মনে করত সারা পৃথিবীতে তারা বিশুদ্ধ জাতি। অথচ অন্যান্য দেশ...

ক. ডেভিড লয়েড জর্জ কে ছিলেন? খ. ত্রিশান্তি চুক্তি বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্...

ক. কোন শাসনামলে ফ্রান্সে ভোটাধিকার সংকুচিত হয়? খ. সন্ত্রাসের রাজত্ব বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের? চিহ্নিত স্থানে কী বসবে?...

ক. লীগ অব নেশনস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ? খ. ভাইমার (Weimer) সরকার বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপকে ‘?' চিহ্নিত স্থানে তোম...

ক. লীগ অব নেশনস এর সদর দপ্তর কোথায় স্থাপিত হয়েছিল? খ. উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফা ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থান...

অধিকাংশ মনীষী ভার্সাই সন্ধির মূল্যায়নে মন্তব্য করেছেন- i. এটি একটি আরোপিত ও একতরফা চুক্তি ii. এ চুক্তি পরবর্তী যুদ্ধের প...

অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপের অনেক দেশে রাজতন্ত্র কায়েম ছিল। ফরাসি বিপ্লব এ সকল রাজতন্ত্রের ভিত্তি কাঁপিয়ে দেয়। একজন যুবর...

অষ্টম শতাব্দীর শেষার্ধে ভারতে পাল বংশ বাংলা ও বিহারে, প্রতিহার রাজবংশ মালব ও রাজস্থানে এবং রাষ্ট্রকুট রাজার দাক্ষিণাত্যে...

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধের একটি বিপ্লব ইউরোপের অনেক দেশের পণ্য উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর বাজার...

অস্ট্রিয়ার যুবরাজ কোথায় আততায়ীর হাতে নিহত হন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।