Facebook Pixel

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক গতিধারায় ইতিবাচক লক্ষণ দৃশ্যমান হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে। তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জের বার্তাও বয়ে এনেছে। যেমন- বর্তমানে প্রবৃদ্ধির গতি কমে এলেও রপ্তানি খাতে তৈরি পোশাক শিল্পের স্থিতিস্থাপকতা, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহের উন্নতি, ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের বিস্তার এবং কৃষি উৎপাদনে ধারাবাহিকতা অর্থনীতিকে ভঙ্গুরতা থেকে রক্ষা করেছে। একই সাথে অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি ও বেসরকারি খাতে মধ্যমেয়াদি আস্থার পুনরুত্থান একটি নীরব ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে। তবে এসবের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে মন্থরতা, আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি ও মুদ্রানীতির কঠোরতা অর্থনীতিকে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর দাঁড় করিয়ে রেখেছে। ফলে ২০২৫ সালের বাংলাদেশের অর্থনীতি একদিকে সংকোচনের বাস্তবতা মোকাবিলা করেছে, অন্যদিকে কাঠামোগত সক্ষমতা ও নীতিগত সংশোধনের মাধ্যমে ২০২৬ সালে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। ক. অর্থনৈতিক সংকট সূচক কী? খ. অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের আলোকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত কর। ঘ. "২০২৬ সালে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের মূলে রয়েছে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের স্থিতিস্থাপকতা" উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিচয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. অর্থনৈতিক সংকট সূচক হলো একটি পরিসংখ্যানগত পরিমাপক যা কোনো দেশের অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা, মন্দা, বেকারত্ব বা মুদ্রাস্ফীতির মতো নেতিবাচক প্রভাবগুলোর গভীরতা বা মাত্রা নির্দেশ করে। খ. অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো। অর্থনৈতিক অবকাঠামো হলো পরিবহণ ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সেচ ব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতি। যেগুলো ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা কল্পনাও করা যায় না। তাই বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো। গ. ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ কিছু সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে প্রধান হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ক্রমাগত চাপ। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া অর্থনীতির ওপর বাড়তি বোঝা সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বিনিয়োগে মন্থরতা এবং মুদ্রানীতির কঠোরতা একদিকে যেমন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথকে বাধাগ্রস্ত করেছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধির গতিকেও শ্লথ করে দিয়েছে। মূলত মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ এবং দেশীয় বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখাই এ সময়ের সবচেয়ে বড় সংকটের জায়গা। উদ্দীপকের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির মন্থর গতির সাথে সাথে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে মন্থরতা এবং আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধির মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছে। এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জগুলোই ২০২৫ সালের অর্থনীতিকে একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। ঘ. ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে রপ্তানি আয় এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) সক্ষমতা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। নিচে এর প্রভাবগুলো বিশ্লেষণ করা হলো- ১. তৈরি পোশাক শিল্পের স্থিতিস্থাপকতা: রফতানি খাতের প্রধান স্তম্ভ তৈরি পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তার সক্ষমতা বজায় রেখেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ সচল রাখে। ২. আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স: হুন্ডি বা অবৈধ পথ বাদ দিয়ে বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্স আসার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট কমতে শুরু করেছে। ৩. বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা: রফতানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়, যা ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। ৪. ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের বিস্তার: ডিজিটাল পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেন সহজ হওয়ায় প্রবাসী আয় দ্রুত ও নিরাপদে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে সচল রাখছে। ৫. বিনিয়োগে আস্থার পুনরুত্থান: বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমলে বেসরকারি খাতে মধ্যমেয়াদি আস্থার পুনরুত্থান ঘটে, যা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করছে। উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সংকোচনের বাস্তবতা কাটিয়ে ২০২৬ সালে যে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তার মূলে রয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহের উন্নতি। এই দুটি খাতের স্থিতিস্থাপকতাই অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা রক্ষা করে ২০২৬ সালে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক গতিধারায় ইতিবাচক লক্ষণ দৃশ্যমান হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে। তেমনি কিছু চ্যালেঞ্জের বার্তাও বয়ে এনেছে। যেমন- বর্তমানে প্রবৃদ্ধির গতি কমে এলেও রপ্তানি খাতে তৈরি পোশাক শিল্পের স্থিতিস্থাপকতা, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহের উন্নতি, ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের বিস্তার এবং কৃষি উৎপাদনে ধারাবাহিকতা অর্থনীতিকে ভঙ্গুরতা থেকে রক্ষা করেছে। একই সাথে অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বাস্তব অগ্রগতি ও বেসরকারি খাতে মধ্যমেয়াদি আস্থার পুনরুত্থান একটি নীরব ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে। তবে এসবের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে মন্থরতা, আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি ও মুদ্রানীতির কঠোরতা অর্থনীতিকে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর দাঁড় করিয়ে রেখেছে। ফলে ২০২৫ সালের বাংলাদেশের অর্থনীতি একদিকে সংকোচনের বাস্তবতা মোকাবিলা করেছে, অন্যদিকে কাঠামোগত সক্ষমতা ও নীতিগত সংশোধনের মাধ্যমে ২০২৬ সালে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

ক.

অর্থনৈতিক সংকট সূচক কী?

খ.

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের আলোকে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত কর।

ঘ.

"২০২৬ সালে সম্ভাব্য পুনরুদ্ধারের মূলে রয়েছে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের স্থিতিস্থাপকতা" উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Capitalism and Material Life' গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

'Industry and Empires' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

M' দেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। 'M' দেশের ঐতিহাসিক পটভূমি পর্যালোচনা করে তিনটি সময়কাল পাওয়া যায়। যথা- ক. ১২০০-১৭৫...

'X' দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের গতিধারা নিম্নরূপ:- 'X' দেশে সম্প্রতি সরকার খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষিতে পারমাণবিক...

SDG কী?

'textX' এবং 'textY' দুইটি দেশ। 'textX' দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত। শতভাগ শিক্ষিত এ দেশটির আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো...

অর্থনীতির শিক্ষক আসাদ সাহেব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, "সমষ্টিগত অর্থ...

অর্থনৈতিক কাঠামো কী?

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত?

আজিম স্যার ক্লাসে প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ছাত্রদের বললেন, গাছ পরিবেশ রক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। ব...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।