ক.
HIV-এর বিস্তারিত রূপ হলো- Human Immunodeficiency Virus
খ.
ইভটিজিং মূলত প্রকাশ্যে যৌন হয়রানি, পথেঘাটে উত্ত্যক্ত করা বা পুরুষ দ্বারা নারী নির্যাতন নির্দেশক একটি শব্দ।
বর্তমানে ইভটিজিং বেড়ে যাওয়ার পেছনে পরিবারে নারীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা ও নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা দায়ী। এছাড়াও পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সুশিক্ষার অভাব, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পরিবারে শিশুর সঠিক সামাজিকীকরণের অভাব ইভটিজিং এর কারণ হিসেবে ধরা যায়। মাদকাসক্ত ও বেকার যুবকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়লে নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং ইভটিজিং করে। এছাড়াও ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব, বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব, স্যাটেলাইট টেলিভিশন ইভটিজিং এর জন্যে ব্যাপকভাবে দায়ী।
গ.
উদ্দীপকে খাদ্যে ভেজাল সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে যে সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে উঠছে খাদ্যে ভেজাল তার মধ্যে অন্যতম। মাছ, মাংস, তরিতরকারি থেকে শুরু করে তৈরি খাবার, ফলমূল এমনকি শিশুখাদ্যে পর্যন্ত ভেজালের ভয়ঙ্কর দৌরাত্ম্য লক্ষ করা যাচ্ছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর সীমাহীন মুনাফা অর্জনের লোভ, নাগরিক অসচেতনতা এবং আইন প্রণয়নে প্রশাসনের শিথিলতাই এ সমস্যার প্রধান কারণ। এ সমস্যা সমাধানে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তন্মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- সাধারণ অর্থে নীতিবিহীন কাজ করাই হচ্ছে দুর্নীতি। উদ্দীপকের খাদ্যে ভেজাল এ নীতিবিহীন কাজেরই একটি অংশ। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন এসব নীতিবিহীন কাজকে কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন অপরাধসমূহ অনুসন্ধান ও তদন্ত পরিচালনা, মামলা দায়ের ও পরিচালনা, গণসচেতনতা গড়ে তোলা, দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন অপরাধের উৎস চিহ্নিত করতে নানা কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়ে গবেষণা পরিকল্পনা তৈরি করে এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে করণীয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ পেশ করে।
ঘ.
উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি অর্থাৎ 'আসলে খাদ্যে ভেজাল দেয়া অর্থ মানবদেহে ভেজাল দেওয়া'।
উদ্দীপকের এ বাক্যটি দ্বারা আমরা খাদ্যে ভেজালের প্রভাব সম্পর্কে অবগত হই। খাদ্যে ভেজাল মানবদেহে নানা ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। নিচে তা আলোচনা করা হলোঃ
খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের আধিক্য সমাজজীবনের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল দেশের জনস্বাস্থ্যের সমস্যাকে তীব্রতর করে তুলছে।
ভেজাল খাদ্যদ্রব্য মানুষের মধ্যে নানা রোগ ছড়িয়ে থাকে। এ খাদ্যদ্রব্য গ্রহণে পেটের পীড়া, আলসার, দৃষ্টিহীনতা এমনকি ক্যান্সারের মতো রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুরা নানা রকম ভেজাল খাদ্য যেমন জুস, চানাচুর, চিপস, চকোলেট প্রভৃতি খাদ্য গ্রহণ করে মারাত্মকভাবে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে; যা নতুন প্রজন্মকে দুর্বল জাতিতে পরিণত করছে। ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের কারণে যে স্বাস্থ্যহীনতার সৃষ্টি হয় তা কর্মক্ষম মানুষের কর্মস্পৃহা ও উৎপাদন ক্ষমতাকে হ্রাস করে। ভেজালের দৌরাত্ম্যে তরুণ-তরুণীদের জীবনে নেমে আসছে অন্ধকার। দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্যে, পানীয়ে, ওষুধে ভেজাল খেয়ে প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, খাদ্যে ভেজাল একটি সামাজিক অপরাধ। এ অপরাধ মানুষের প্রাত্যহিক খাবারের মাধ্যমে তার রক্তের মধ্যে প্রবেশ করছে। তাই ভেজালের সর্বনাশা গ্রাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা জরুরি।