Facebook Pixel

বাংলাদেশকে ষড়ঋতুর দেশ বলা হলেও তিনটি ঋতু স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। শীত ও গ্রীষ্মে এ দেশের উপর দিয়ে পরস্পর বিপরীত দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়। ক. বিশ্বের ফলের ঝুড়ি বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝায় ? খ. বিশ্ব উষ্ণায়ন বলতে কী বোঝায় ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির ঋতুভিত্তিক জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত জলবায়ু অত্র অঞ্চলের কৃষির ওপর কী ধরনের প্রভাববিস্তার করেছে, মতামত দাও।

বিষয়: ভূগোল ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ জলবায়ু অঞ্চল ও জলবায়ু পরিবর্তন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বিশ্বের ফলের ঝুড়ি বলতে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলকে বোঝায়। খ. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক সভ্যতার মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে। মানুষের বিভিন্ন কর্মকান্ড যেমন- শিল্পকারখানা স্থাপন, কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার, ফ্রিজ, এসি ইত্যাদি বিলাসসামগ্রীর ব্যবহার প্রভৃতি কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিভিন্ন রকমের গ্যাসের কারণে বায়ুমন্ডলের ওপর নেতিবাচক চাপ পড়ছে, যা সরাসরি বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধি করছে। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটি হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ঋতুভিত্তিক জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো- শীতকাল : প্রতিবছর নভেম্বর হতে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে শীতকাল থাকে। শীতকালীন সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° সে. এবং ১১°সে.। জানুয়ারি বাংলাদেশের শীতলতম মাস। শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়। এ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে এতে জলীয় বাষ্প থাকে না বললেই চলে। ফলে শীতকালে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম হয়ে থাকে। এ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্থানভেদে ৫ থেকে ১৫ সে.মি.। শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে শীতল মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গ্রীষ্মকাল : মার্চ হতে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। সূর্যের উত্তরায়নের ফলে এখানে উত্তাপের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্চ মাস থেকে তাপমাত্রা ক্রমশ বেশি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ক্রমশ বেশ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১° সেলসিয়াস। গ্রীষ্মকালে স্থলভাগ উত্তপ্ত হয়ে বায়ুতে পরিচলনের সৃষ্টি করে। এ বায়ুর ঠিক উপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম বা পশ্চিম দিক হতে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এই দুই বিপরীতমুখী বায়ু প্রবাহের সন্ধিস্থলে বজ্রবিদ্যুৎপূর্ণ ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের কারণে গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাতের তারতম্য হয়। যেমন- সিলেট অঞ্চলে ৭৫ সেন্টিমিটারের অধিক এবং রাজশাহী অঞ্চলে ২৫ সেন্টিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হয়। সময়ের সাথে বায়ু প্রবাহের গতিবেগ বৃদ্ধি ও দিক নির্দিষ্ট হতে থাকে। বর্ষাকাল : জুন হতে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল। এ মাসে রাতের তাপমাত্রার গড় ২৫০ ২৬°সে. এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার গড় ২৯০- ৩০° সে.। বঙ্গোপসাগর হতে প্রচুর জলীয়বাষ্প বাংলাদেশে প্রবেশ করায় এ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এ অঞ্চলে মোট বৃষ্টিপাতের ৮০-৮৫% বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। ২০০ সে.মি. এর বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হয়। সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশে ঋতুভিত্তিক জলবায়ুগত তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। ঘ. উদ্দীপকে মৌসুমী জলবায়ুর কথা বলা হয়েছে। কৃষি ব্যবস্থার উপর উক্ত জলবায়ুর প্রভাব রয়েছে। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো- জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কৃষি ফসলের প্রকার, ধরন জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল। যেমন- মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের দেশগুলোতে ধান, পাট, চা, আখ প্রভৃতি কৃষিজ ফসল ভালো জন্মে। এসব কারণে এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে প্রধানত হিংস্র মাংসাসী, তৃণভোজী এবং গৃহপালিত জীবজন্তু যেমন- গরু, ছাগল, ঘোড়া, মহিষ, বাঘ, ভাল্লুক, চিতাবাঘ, প্রভৃতি বসবাস করে। এগুলোর ওপরও প্রভাব রয়েছে। মৌসুমী অঞ্চলের অধিবাসীরা অধিকাংশই কৃষক। যার কারণে ঐ সব অঞ্চলের মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। পৃথিবীর এক এক অঞ্চলের বসতি এক এক ধরনের। জলবায়ুর ওপর ভিত্তি করেই এ সমস্ত বসতি গড়ে উঠেছে। মৌসুমি অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত হয় এবং কৃষিজ ফসল বেশি হয় বলে জনবসতি ঘন। সুতরাং বলা যায় যে, মৌসুমী জলবায়ুর উপর ভিত্তি করেই ঐ সব অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন ফসল উৎপাদন এবং সেই অনুযায়ী অর্থনীতি গড়ে উঠে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বাংলাদেশকে ষড়ঋতুর দেশ বলা হলেও তিনটি ঋতু স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। শীত ও গ্রীষ্মে এ দেশের উপর দিয়ে পরস্পর বিপরীত দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়।

ক.

বিশ্বের ফলের ঝুড়ি বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝায় ?

খ.

বিশ্ব উষ্ণায়ন বলতে কী বোঝায় ?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটির ঋতুভিত্তিক জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত জলবায়ু অত্র অঞ্চলের কৃষির ওপর কী ধরনের প্রভাববিস্তার করেছে, মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

ক. জলবায়ু অঞ্চল কাকে বলে? খ. গ্রিন হাউস গ্যাস বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের 'গ' অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। ঘ...

ক. বায়ু দূষণ কাকে বলে? খ. টর্নেডোর তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ। গ. উদ্দীপকে চিহ্নিত জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। ঘ. উদ্দী...

ক. গ্রিনহাউস কাকে বলে? খ. বৈশাখ মাস অন্তর্ভুক্ত ঋতুটির বৈশিষ্ট্য বাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে চিহ্নিত 'ক' অঞ্চলের জলবায়ুর অবস...

ক. পরিপৃক্ত বায়ু কাকে বলে? খ. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। গ. 'ক' জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য বর্ণ...

ক. বৃষ্টিপাতের সংজ্ঞা দাও। খ. আপেক্ষিক আর্দ্রতা কীভাবে নিরূপণ করা হয়? গ. মানচিত্রে 'ক' চিহ্নিত বায়ুপ্রবাহটি বর্ণনা কর। ...

ক. ঘনীভবন কাকে বলে? খ. আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অঞ্চলের জলবায়ুর উৎপত্তির কারণ ...

ক. বিশ্ব উষ্ণায়ন কী? খ. নিরক্ষীয় অঞ্চলে গভীর অরণ্য সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য...

ক. গ্রিনহাউস প্রভাব কী? খ. বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলের জলবায়ুর বর্ণন...

ক. একটি গ্রিনহাউস গ্যাসের নাম লেখ। খ. তুন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল কোথায় অবস্থিত? গ. উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ব্...

ক. মানচিত্র কাকে বলে? খ. বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারভাটার প্রভাব ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' চিহ্নিত অঞ্চল...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।