Facebook Pixel

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় ' আলোকিত সাহিত্য পরিষদ ' গঠিত হয়। দেশি - বিদেশি প্রচুর গ্রন্থের সমাবেশ রয়েছে এখানে। এখানে গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ , অনুবাদ ও গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠান ভালো লেখক ও নতুন গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ , আর্থিক অনুদান ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করে থাকে। ক. মান মন্দির কী ? খ. নহরে জুবাইদার বিবরণ দাও। গ. উদ্দীপকের সাহিত্য পরিষদের সাথে খলিফা আল মামুনের কোন প্রতিষ্ঠানের মিল রয়েছে ? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সহযোগিতা ছাড়াও আল - মামুন তার গবেষকদের গবেষণাকর্মে আর কী কী উদ্যোগ নিয়েছিলেন - বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

উৎস: Board Exam Question DB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. যে স্থান থেকে চন্দ্র - সূর্যের ও নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয় তাকে মান মন্দির বলে। খ. মক্কায় প্রতিবছর হজ মৌসুমে পবিত্র হজব্রত পালন করতে লক্ষ লক্ষ মুসলিমের আগমন ঘটে। কিন্তু এ বিপুল সংখ্যক লোকের অজু , গোসল কিংবা পানীয় জলের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা ছিল না। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজিদের অসহনীয় দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হতো। তাই ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে হারুন অর রশিদের মহীয়সী স্ত্রী জুবাইদা মক্কাবাসীদের পানির কষ্ট দেখে ১ , ৫০ , ০০০ দিনার ব্যয় করে যেখানে একটি খাল খনন করেন। সেই খাল ইসলামের ইতিহাসে নহরে জুবাইদা নামে সুপরিচিত। গ. উদ্দীপকে সাহিত্য পরিষদের সাথে খলিফা আল - মামুনের বায়তুল হিকমার মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায় , ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় ' আলোকিত সাহিত্য পরিষদ ' গঠিত হয়। দেশি - বিদেশি প্রচুর গ্রন্থের সমাবেশ রয়েছে এখানে। এখানে গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ , অনুবাদ ও গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠান ভালো লেখক ও নতুন গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ , আর্থিক অনুদান ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করে থাকে। উক্ত সাহিত্য পরিষদের কর্মকাণ্ড আল - মামুনের বায়তুল হিকমার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা আল মামুন জ্ঞান - বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য বায়তুল হিকমা (House of Wisdom) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রখ্যাত পণ্ডিত , অনুবাদক ও চিকিৎসক হুসাইন ইবনে ইসহাককে বায়তুল হিকমার পরিচালক নিযুক্ত করা হয়। এ বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি তিনটি ইউনিটে বিভক্ত করা হয়। যথা - গ্রন্থাগার , শিক্ষা নিকেতন ও অনুবাদ বিভাগ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ , জাতি থেকে দূত ও প্রতিনিধি মারফত মূল্যবান গ্রন্থরাজি সংগ্রহ করে অনুবাদ বিভাগকে সমৃদ্ধিশালী করা হয় এবং অনুবাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পারসিক , গ্রিক , হিন্দু , খ্রিষ্টান প্রভৃতি সম্প্রদায় ও জাতির পণ্ডিতগণ শিক্ষামূলক গবেষণা , জ্ঞান - বিজ্ঞানচর্চা , অনুশীলন ও অনুবাদকার্যে নিযুক্ত থাকতেন। এছাড়া ইহুদি , খ্রিষ্টান এবং সদ্য মুসলিম হওয়া বিদেশিরা প্রচুর অনুবাদকর্মে নিয়োজিত হন। আল মামুন এবং তার উত্তরাধিকারদের আমলেও বায়তুল হিকমাকে কেন্দ্র করে সকল গবেষণা ও অনুবাদ কাজ আবর্তিত হয়। পরিশেষে বলা যায় , উদ্দীপকের আলোকিত সাহিত্য পরিষদের সাথে রায়তুল হিকমার সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়। ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ , অনুবাদ ও গবেষণার উদ্যোগ এবং আর্থিক অনুদান ও পুরস্কার ছাড়াও আল - মামুন গবেষণাকর্মে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় গবেষণা , অনুবাদ , আবিষ্কার সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখে। জ্ঞান - বিজ্ঞানচর্চায় উক্ত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বায়তুল হিকমার প্রতিষ্ঠাতা খলিফা আল , মামুনের ব্যাপক অবদানের জন্য তার সময়কে ইসলামের অগাস্টান যুগ বলা হয়। খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে জ্ঞান - বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে। প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রখ্যাত পণ্ডিত , অনুবাদক ও চিকিৎসক হুসাইন ইবনে ইসহাককে বায়তুল হিকমার পরিচালক নিযুক্ত করেন। এ বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি তিনটি ইউনিটে বিভক্ত করেন। যথা - গ্রন্থাগার , শিক্ষা নিকেতন ও অনুবাদ বিভাগ। পারসিক , গ্রিক , হিন্দু , খ্রিষ্টান প্রভৃতি সম্প্রদায় ও জাতির পণ্ডিতগণ শিক্ষামূলক গবেষণা , জ্ঞান - বিজ্ঞানচর্চা , অনুবাদ কাজে নিযুক্ত। থাকতেন। বায়তুল হিকমার মহাপরিচালক হুনাইন বিন ইসহাক গ্রিস , । স্পেন , সিরিয়া , মিশর , ভারত থেকে গ্যালেন , ইউক্লিড , টলেমি , এরিস্টটল , সক্রেটিস , প্লেটো প্রমুখ মনীষীর দুর্লভ গ্রন্থাবলি সংগ্রহ করে সেগুলো আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। বহু পণ্ডিত ব্যক্তি তার এ অনুবাদ কাজে সহযোগিতা করেন। তাদের মধো ইসা বিন ইয়াহিয়া , মুসা বিন খালিদ , কোস্টা , মানকাহ এবং দুবান নামক ব্যক্তি অনুবাদকার্য পরিচালনা করেন। অনুবাদের পারিশ্রমিক হিসেবে পুস্তকের ওজনে স্বর্ণ দেওয়া হতো। ঐতিহাসিক উইলিয়াম মুইর বলেন , " এসব মনীষীর পরিশ্রমের ফলে মধ্যযুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন ইউরোপীয় জাতিগুলো তাদের নিজস্ব অথচ হারানো ধন প্রাচীন গ্রিসের বিজ্ঞান ও দর্শনের সঙ্গে পুনরায় পরিচিত হয়। খলিফা মামুন বিদেশি মূল্যবান পুস্তক অনুবাদ করেই ক্ষান্ত হননি , এসব পুস্তকের ওপর মৌলিক গবেষণার জন্য বিভিন্ন মনীষীকে নিয়োগ করেন। ফলে বিদেশি ভাবধারায় আরবি ভাষার এক সৃজনশীল গবেষণার আত্মপ্রকাশ ঘটে। তাই বলা যায় , উল্লিখিত ব্যবস্থা ছাড়া শিক্ষাসংস্কৃতির উন্নয়নে আল মামুনের বায়তুল হিকমার অবদান অপরিসীম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2023)

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতায় 'আলোকিত সাহিত্য পরিষদ' গঠিত হয়। দেশি-বিদেশি প্রচুর গ্রন্থের সমাবেশ রয়েছে এখানে। এখানে গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ, অনুবাদ ও গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠান ভালো লেখক ও নতুন গবেষকদের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, আর্থিক অনুদান ও পুরস্কারের ব্যবস্থা করে থাকে।

ক.

মান মন্দির কী?

খ.

নহরে জুবাইদার বিবরণ দাও।

গ.

উদ্দীপকের সাহিত্য পরিষদের সাথে খলিফা আল মামুনের কোন প্রতিষ্ঠানের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত সহযোগিতা ছাড়াও আল-মামুন তার গবেষকদের গবেষণাকর্মে আর কী কী উদ্যোগ নিয়েছিলেন-বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।