Facebook Pixel

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা রেল ব্রিজের পাশে একটি গণকবর আছে। এটি সম্পর্কে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন , কোদাল নিয়ে মাটি খুঁড়তেই বের হয়ে আসল মানুষের হাড় - গোড় আর পচা লাশ। পাশাপাশি দুইটা বিশাল গর্ত। আনুমানিক তিন - চারশ মানুষের মরদেহ এখানে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। এগুলো স্বাধীনতা সংগ্রামী ও নিরপরাধ মানুষের সমাধি। হানাদার বাহিনী এবং রাজাকার আল বদরদের হাতে তারা শহিদ হয়েছেন । ক. ছয় দফা কর্মসূচি কে পেশ করেন ? খ. ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা বলতে কী বোঝায় ? গ. উদ্দীপকে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য আমাদের কোন সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের আলোকে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত নির্যাতন ও গণহত্যার বিবরণ দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ স্বাধীন ও সার্ভভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন। খ. ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা হলো পাকিস্তান আমলে দায়ের করা একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা । আগরতলা মামলাটি দায়ের করা হয় ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে । অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুসারে বঙ্গবন্ধু , পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কিছু কর্মরত ও প্রাক্তন সদস্য এবং কয়েকজন সরকারি অফিসারের সাথে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক হয়। সেখানে ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করা হয় ৷ মামলাটির সরকারি নাম হলো “ রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য। ” তবে মামলায় আগরতলার কথা উল্লেখ থাকায় এটি ‘ আগরতলা মামলা ' নামে পরিচিত হয় । গ. উদ্দীপকের প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য আমাদেরকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় । ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের ২৩ বছরের স্বৈরশাসন ও শোষণের বেড়াজাল ভেঙে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭১ সালের এ যুদ্ধে বাঙালি জাতিকে বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। অমানবিক অত্যাচার - নির্যাতন সহ্য করে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়েছে স্বাধীনতা। উদ্দীপকে এ সময়ের চিত্রই প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে , ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা রেল , ব্রিজের পাশে একটি গণকবর আছে। এটি সম্পর্কে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন , কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়তেই বের হয়ে আসে মানুষের হাড় - গোড় আর পঁচা লাশ । প্রত্যক্ষদর্শীর এ বক্তব্য আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের কথা মনে করিয়ে দেয়। জাতি হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কিছু চিহ্নিত দল বা ব্যক্তি ছাড়া দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক এবং আপামর জনতা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তি সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতিকে বহু ত্যাগ - তিতিক্ষা শিকার করে দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়েছে। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের ওপর অমানবিক অত্যাচার - নির্যাতন চালায়। তারা নির্বিচারে সাধারণ জনগণকে হত্যা করে। উদ্দীপকের প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যেও এ সময়কার হানাদার বাহিনীর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। ঘ. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিকামী বাঙালি জাতির ওপর অমানবিক নির্যাতন ও গণহত্যা পরিচালনা করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় লাভের পূর্ব পর্যন্ত পাক - হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির ওপর গণহত্যা , লুণ্ঠনসহ অমানবিক অত্যাচার চালায়। উদ্দীপকের প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে এসব নির্যাতনের কথা ফুটে উঠেছে । ২৫ মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনী বাংলার ঘুমন্ত , নিরস্ত্র , নিরীহ জনগণের ওপর গণহত্যা শুরু করে। এর মাধ্যমে শুরু হয় আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। মার্চ থেকে শুরু করে দীর্ঘ নয় মাস ধরে চলে এ যুদ্ধ। এ সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা মানুষকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। তাদের এসব অপকর্মে তাদেরকে সার্বিকভাবে সহায়তা করে এদেশের রাজাকার , আল - বদর , আল - শামস সহ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল । তাদের সহায়তায় পাক বাহিনী আরও হিংস্র হয়ে ওঠে। পাক - বাহিনী হত্যা , লুণ্ঠন ও মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। বরং তারা এদেশের মা - বোনদের সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়ার মতো জঘন্য কাজেও জড়িত ছিল। মুক্তিবাহিনীর উপর্যপরি আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পাক হানাদার বাহিনী তাদের দোসর আল বদর বাহিনীর সহায়তায় ১৪ ডিসেম্বর আরেক দফা বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায়। বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করে দেওয়ার জন্য তারা ঐ দিন এদেশের বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে । ১৯৭১ সালের বাঙালিদের ওপর পাক - বাহিনীর অত্যাচার - নির্যাতন ও গণহত্যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের ইতিহাসে এক নির্মম অধ্যায় সংযোজন করেছে। অবশেষে বহু নির্যাতন ও ৩০ লক্ষ বাঙালির প্রাণের বিনিময়ে বীর বাঙালি দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে পাক - বাহিনীকে পরাজিত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৈরতলা রেল ব্রিজের পাশে একটি গণকবর আছে। এটি সম্পর্কে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, কোদাল নিয়ে মাটি খুঁড়তেই বের হয়ে আসল মানুষের হাড়-গোড় আর পচা লাশ। পাশাপাশি দুইটা বিশাল গর্ত। আনুমানিক তিন-চারশ মানুষের মরদেহ এখানে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। এগুলো স্বাধীনতা সংগ্রামী ও নিরপরাধ মানুষের সমাধি। হানাদার বাহিনী এবং রাজাকার আল বদরদের হাতে তারা শহিদ হয়েছেন ।

ক.

ছয় দফা কর্মসূচি কে পেশ করেন ?

খ.

ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা বলতে কী বোঝায় ?

গ.

উদ্দীপকে প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য আমাদের কোন সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় ? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের আলোকে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত নির্যাতন ও গণহত্যার বিবরণ দাও। 

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c|c| hline textbfদলের নাম & textbfপূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা & textbfপশ্চিম পাকিস্তানের প্রাপ্ত আ...

ক. বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম কোন দেশ স্বীকৃতি দেয় ? খ. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান কী ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐ...

ক. মুক্তিযুদ্ধে কয়টি সেক্টর ছিল? খ. ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। গ. প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত '?' দ্বারা ঐতিহাসিক ক...

“ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” ক. মহান মুক্তিযুদ্ধের সর...

‘ ক ’ অঞ্চলের জনগণ সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গেলেও প্রয়োজন ছিল যৌক্তিকভাবে যুদ্ধ পরিচাল...

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের কতটি আসন লাভ করে?

অটোমান তুর্কী সুলতানদের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের কারণে বুলগেরিয়ার জনগণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে। অটোমান সুলতান এ আ...

অটোমান শাসনাধীনে থাকা বুলগেরিয়ার মানুষ জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তুর্কি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে ...

অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করা হয় ১৯৭১ সালের কত তারিখে?

অপারেশন সার্চলাইট কত তারিখে পরিচালিত হয়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।