Facebook Pixel

বর্তমান সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নারীসমাজকে উন্নয়নের মূলস্রোতে সম্পৃক্তকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, দক্ষতা অর্জন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রয়োগে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ক. ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কাল কোনটি? খ. স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় কেন? গ. উদ্দীপকের পরিকল্পনাটির উদ্দেশ্যসমূহ ব্যাখ্যা করো। ঘ. তুমি কি মনে কর, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিকল্পনাটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে?- যুক্তি দাও।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ উন্নয়ন পরিকল্পনা

উৎস: Board Exam Question CB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কাল হলো (২০১১-২০১৫) সাল। খ. স্বল্পমেয়াদি কতগুলো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে এমন কিছু কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে যেগুলো জাতীয় স্বার্থে অল্পকয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন। সাধারণত স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মেয়াদকাল সর্বোচ্চ পাঁচ বছর হতে পারে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনায় গৃহীত কর্মসূচির সফলতা ও ব্যর্থতা মূল্যায়ন করা হয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে এটিকে পরিবর্তন করা যায়। রাষ্ট্রে সাময়িক কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি, খাদ্য পরিস্থিতির উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পরিস্থিতির মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা ব্যবহৃত হয়। তাই উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের স্বার্থে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন হয়। গ. উদ্দীপকের পরিকল্পনাটি ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা যার উদ্দেশ্যেসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার 'রূপকল্প-২০২১' নামে একটি চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জটি পূরণ করা হবে। এই লক্ষ্যসমূহ দুটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ভাগ করা হয়, যার প্রথমটি হচ্ছে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক প্রকল্প, মেয়াদকাল (২০১১-২০১৫)। কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করা হয়। উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন করে দারিদ্র্য বিমোচন করা এর প্রধান উদ্দেশ্য। খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি বহুগুণে বৃদ্ধি করে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তথা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাই এই নারী সমাজকে বাদ দিয়ে কোনো প্রকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী সমাজকে উন্নয়নের মূলস্রোত সম্পৃক্ত করা তথা নারীর ক্ষমতায়ন এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য টেকসই পরিবেশ উন্নয়ন নিশ্চিত করা এ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। তাছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে মূলধন গঠনের হার বৃদ্ধি করা, আইসিটির মাধ্যমে দেশকে ডিজিটালাইজেশন করা এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। উদ্দীপকের প্রকল্পটিতে বর্তমান সরকার দেশকে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উপরের উদ্দেশ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা রূপকল্প ২০২১ কে প্রতিনিধিত্ব করে। এটি একটি মহৎ প্রকল্প, যা বাস্তবায়িত হলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। সুতরাং, বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে দাঁড়াতে হলে অবশ্যই উক্ত উদ্দেশ্যগুলো পূরণ করতে হবে। ঘ. হ্যাঁ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিকল্পনাটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির চাকাকে বেগবান রাখতে এবং দ্রততম সময়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছাতে হলে পরিকল্পিত উপায় এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পদের ব্যবহারের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা অপরিহার্য। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নে সর্বাধিক সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ধরনের প্রকল্প দ্বারা সুনির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সাধনের পথে এগোনো যায়। ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা দ্বারা কতিপয় উদ্দেশ্য অর্জনের অঙ্গীকার করা হয়েছে। যেমন- উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নারী সমাজকে উন্নয়নের মূলস্রোতে সম্পৃক্ত করা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, দক্ষতা অর্জন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও প্রযুক্তির বিকাশ ইত্যাদি। এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়িত করা হলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকল্পটি অবশ্যই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রকল্পটি অনুসারে প্রকল্পটি উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করবে যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অনেক শক্তিশালী করবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। ফলে আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে ও বাণিজ্য শর্ত উন্নত হবে। উন্নয়নমূলক কাজে নারী সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে নারীরাও অর্থনীতিতে সমান অবদান রাখবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা যাবে। তাছাড়া তথ্য ও প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রয়োগের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সুতরাং, নিঃসন্দেহে বলা যায়, ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে যে সকল বাধা রয়েছে তার সবগুলোই এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2017)

বর্তমান সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নারীসমাজকে উন্নয়নের মূলস্রোতে সম্পৃক্তকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, দক্ষতা অর্জন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রয়োগে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। 

ক.

৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কাল কোনটি?

খ.

স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় কেন?

গ.

উদ্দীপকের পরিকল্পনাটির উদ্দেশ্যসমূহ ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

তুমি কি মনে কর, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরিকল্পনাটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে?- যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

' Bio Technology 'শব্দটি কত সালে প্রথম দ্বিতীয় ব্যবহৃত হয়?

HYV এর পূর্ণরূপ কী?

'A' দেশের সরকার শিক্ষা ও প্রযুক্তি, জননিরাপত্তা, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ এবং প্রা...

ADP-এর প্রকল্প বাস্তবায়নে কার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়?

ADP কী?

ক. কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কী? খ. 'পরিকল্পনা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়'- ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত A ও B পরিকল...

ক. উন্নয়ন পরিকল্পনা কাকে বলে? খ. ‘সঠিক তথ্য ও উপাত্তের অভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যা হয়’– ব্যাখ...

কত বছর মেয়াদের পরিকল্পনাকে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বলা হয়?

প্ররোচিত পরিকল্পনা হলো- i. পুঁজিবাদী পরিকল্পনা ii. বিকেন্দ্রীয় পরিকল্পনা iii. নির্দেশভিত্তিক পরিকল্পনা নিচের কোনটি সঠিক...

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) প্রণয়নের সময় কিসের সাথে সম্পর্কিত প্রকল্পসমূহ অগ্রাধিকার দেয়া হয়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।