ক.
যখন কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা রাষ্ট্র কর্তৃক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয় তখন তাকে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা বলে।
খ.
সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি দেশে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা একান্ত প্রয়োজন।
বর্তমান যুগকে পরিকল্পনার যুগ বলা হয়। কেননা সুনির্দিষ্ট ও সুচিন্তিত উপায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা গেলে প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব হয়। যেমন-একটি দেশ যদি আশানুরূপ উন্নয়ন করতে চায়, তবে অবশ্যই তাকে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তবেই প্রত্যাশিত ফলাফল সম্ভব হবে। তাই বলা যায়, পরিকল্পনা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
গ.
উদ্দীপকের দেশের পরিকল্পনা দুটি হলো স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার সময়সীমা সর্বোচ্চ ১ বছর হতে পারে। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সময়সীমা ১০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় সাময়িক লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দীর্ঘ সময়ের জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়।
উদ্দীপকের A পরিকল্পনার ১ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা। অন্যদিকে, B পরিকল্পনায় গৃহীত ১০-২৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার কার্যকারিতা তুলনামূলকভাবে কম হলেও অর্থনৈতিকভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কার্যকারিতা অত্যন্ত বেশি। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার ব্যাপকতা অত্যন্ত ক্ষুদ্র। অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ব্যাপকতা বৃহৎ। রাষ্ট্রের, খাদ্য পরিস্থিতির উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরূপ পরিস্থিতির মোকাবিলার ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা ব্যবহৃত হয়। পক্ষান্তরে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, কৃষিতে কারিগরি পরিবর্তন, পরিবেশগত উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। সুতরাং বলা যায়, স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত B পরিকল্পনাটি অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বিরামহীন গতিতে চলমান রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাধারণত ১০ থেকে ২৫ বছর মেয়াদি হয়ে থাকে। এই পরিকল্পনাগুলো সাধারণত প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নামে পরিচিত। এ ধরনের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য থাকে দেশের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন সাধন করা। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো বৃহৎ ও সময়সাপেক্ষ লক্ষ্যগুলো অর্জনই এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকে B পরিকল্পনার সময়সীমা ১০ থেকে ২৫ বছর বলা হয়েছে এবং এটি অনুন্নত দেশসমূহে বিশেষভাবে সমাদৃত। অনুন্নত দেশগুলোর প্রধান সমস্যা হলো দারিদ্র্য, দুর্বল অবকাঠামো এবং নিম্ন মানবসম্পদ। এই সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই B পরিকল্পনার মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যেখানে একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে তা অর্জনের চেষ্টা করা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা পরপর কয়েকটি মধ্যমেয়াদি বা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সমন্বয়ে গঠিত হয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে এক পরিকল্পনার ব্যর্থতা অন্য পরিকল্পনার সাফল্য দিয়ে পূরণ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ: বিদ্যুৎ উৎপাদন বা বৃহৎ শিল্প স্থাপন স্বল্পমেয়াদে সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এই ধরনের বৃহৎ প্রকল্পগুলোর জন্য একটি স্থিতিশীল ভিত্তি তৈরি করে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও নিরবচ্ছিন্ন করে তোলে। এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে মজবুত করে এবং মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার মতো জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। অতএব, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে বিরামহীন গতিতে চলমান রাখার জন্য অপরিহার্য।