ক.
১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা উত্থাপন করা হয়।
খ.
মৌলিক গণতন্ত্র ১৯৬০- এর দশকে জেনারেল আইয়ুব খানের শাসনামলে প্রবর্তিত একটি স্থানীয় সরকার পদ্ধতি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান একটি নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ ১৯৫৯ জারি করেন। অবশ্য পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকাংশ এ সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা পোষণ করত এবং তারা একে জেনারেল আইয়ুব খান এবং তাঁর সহযোগী কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটি সুনিপূণ কৌশল হিসেবেই গণ্য করত।
প্রারম্ভিক পর্যায়ে মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি পাঁচ স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা। নিম্ন থেকে শুরু করে এ স্তরগুলো ছিল (১) ইউনিয়ন পরিষদ (পল্লী এলাকায়) এবং শহর ও ইউনিয়ন কমিটি (পৌর এলাকায়), (২) থানা পরিষদ (পূর্ব পাকিস্তানে), তহশিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), (৩) জেলা পরিষদ, (৪) বিভাগীয় পরিষদ এবং (৫) প্রাদেশিক উন্নয়ন উপদেষ্টা পরিষদ।
গ.
উদ্দীপকের বক্তৃতা তোমার পাঠ্যপুস্তকের ৭ই মার্চ এর শেখ মুজিবের বক্তৃতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিচে বর্ণ্না করা হলোঃ
উদ্দীপকে বর্ণবাদী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ মার্টিন লুথার কিং। ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটনে প্রায় আড়াই লক্ষ নিগ্রোদের উপস্থিতে তার বিখ্যাত বক্তৃতা ' I have a dream' তুলে ধরেন। তার সতোর মিনিটের বক্তৃতা নিগ্রোদের অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করেছিল। শুধু তাই নয় আমেরিকার ইতিহাসে এটি ছিল শ্রেষ্ঠ বক্তৃতা।
উদ্দীপকের মতো এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণের একটি লিখিত ভাষ্য অচিরেই বিতরণ করা হয়েছিল। এটি তাজউদ্দীন আহমদ কর্তৃক কিছু পরিমার্জিত হয়েছিল। পরিমার্জনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবীটির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা। ১৩টি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়। ১৩ তম হিসাবে মাহাতো নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর কুড়মালি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়, যা নৃ তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষায় ১ম অনুবাদ। নিউজউইক ম্যাগাজিন শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে উল্লেখ করে। ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
ঘ.
৭ই মার্চের ভাষণের ফলাফলঃ
৭ মার্চের ভাষণকে বলা যেতে পারে মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভিক দিকনির্দেশনা। পাকিস্তানিদের ক্ষমতা হস্তান্তরের টালবাহানা দেখেই আওয়ামী লীগের নেতৃবর্গ বুঝতে পেরেছিলেন যে কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে জাতীয় পরিষদে সরকার গঠন করতে দেবে না পশ্চিমারা। দেশের সাধারণ জনগোষ্ঠী দিশেহারা হওয়া শুরু করে। নির্বাচনে বিজয়ী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরাসরি স্বাধীনতার ডাকও দিতে পারছিল না আবার পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র মুখে বুজে সহ্য করাও ছিল কঠিন। সেজন্যই বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে একটি নির্দেশনামূলক ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। ভাষণের শেষের দিকে ছিল তার নির্দেশমালা।
তিনি অসহযোগিতার ডাক দিলেন। কোর্ট-কাছারি, স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেও নিম্নবর্গীয় খেটে খাওয়া মানুষের যাতে কোনোপ্রকার অসুবিধা না হয় সেকারণে রিক্সা-ভ্যান, গরুর গাড়ি, রেল, লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দিলেন। ২৮ মার্চ সব সরকারি চাকুরেদের বেতন নিয়ে আসতে বললেন।
গণযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি পাকিস্তানিরা আধিপত্য বিস্তার করে তাহলে সেখানে চাকুরিরত বাঙালিদের অফিস বয়কটের নির্দেশ দিলেন। সাথে সাথে বিদেশি মিডিয়াগুলো যাতে বাংলার সঠিক অবস্থা বুঝতে পারে সেজন্য তাদের সাথে লিঁয়াজো রাখারও হুকুম দিলেন। এভাবে, সবক্ষেত্রে কর্মরত বাঙালিদের সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে তিনি সামরিক সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেন।
আওয়ামী লীগের নেতাদের রিলিফ কমিটি ও সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রদান করলেন। ভাষণের শেষের দিকে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিকটি খুব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এই উক্তিতে– ‘এই বাংলায় হিন্দু মুসলমান, বাঙালি অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দ্বায়িত্ব আপনাদের ওপর।
পরিশেষে বলা যায় যে, সাতই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব অনেক।