Facebook Pixel

ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয়। ব্রিটিশ আইনসভা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। উচ্চ কক্ষের নাম হাউস অব কমন্স ও নিম্ন কক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস। মূলত হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অপরদিকে, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হাউস অব লর্ডসের সদস্যগণ দেশের সার্বিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সুচিন্তিত মতামত প্রদান করেন। ক. খুলাফায়ে রাশেদিনের চতুর্থ খলিফার নাম কী? খ. বায়তুল মাল কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনসভার সাথে তোমার পঠিত খলিফা প্রবর্তিত পরিষদের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. ইসলামি খিলাফত পরিচালনায় উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিষদের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কখুলাফায়ে রাশেদীনের চতুর্থ খলিফার নাম হযরত আলী (রা.)। খ. ইসলামি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে বায়তুলমাল বলা হয়। ইসলামি শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সরকারি কোষাগারকে বায়তুল মাল বলা হয়। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থাকলেও তা বায়তুল মাল হিসেবে অভিহিত হতো না। পরবর্তীতে হযরত আবু বকর (রা)-এর সময় আংশিক ও হযরত উমর (রা)-এর সময় পূর্ণাঙ্গ বায়তুলমাল গঠন করা হয়। হযরত উমর (রা.) ওয়ালিদ-ইবনে হিশামের পরামর্শে আব্দুল্লাহ বিন আল কামকে বায়তুল মালের কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত করেন। বায়তুল মালের সঠিক হিসাব রাখার জন্য তিনি দিওয়ান নামে পৃথক বিভাগ গঠন করে একে আয় ও ব্যয় বিভাগ নামক দুটি বিভাগে বিভক্ত করেন। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত আইনসভার সাথে হযরত উমর (রা.) প্রবর্তিত মজলিস-উশ-শুরার সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আইনসভাটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স। মূলত হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অপরদিকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হাউস অব লর্ডসের সদস্যগণ দেশের সার্বিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সুচিন্তিত মতামত দেন। এ আইন সভার সাথে হযরত উমর (রা.)-এর প্রবর্তিত মজলিস-উশ-শুরার মিল রয়েছে। হযরত উমর (রা.) ইসলামি বিধি মোতাবেক রাষ্ট্রের যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিমিত্তে কতিপয় সদস্যের সমন্বয়ে একটি 'পরিষদ গঠন করেন, যাকে মজলিস-উশ-শূরা বলে। কল্যাণধর্মী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই ছিল এ পরিষদের মূল লক্ষ্য। রাষ্ট্র পরিচালনা, বিজয়াভিযান, সীমান্তে গোলযোগ, বিদ্রোহ দমন প্রভৃতি ক্ষেত্রে তিনি এ পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। এ মজলিস-উশ-শুরা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন- মজলিস-উশ-খাস এবং মজলিস-উশ-আম। মজলিস-উশ-শূরার পরামর্শ ব্যতীত হযরত উমর (রা.) কোনো কাজ সম্পাদন করতেন না। মজলিস-উশ-শূরা ছিল রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এ পরিষদের বৈঠক ডাকা হতো এবং আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে এবং স্বচ্ছভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য গঠিত এ পরিষদ তৎকালীন ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে সকলের নিকট জনপ্রিয় করে তোলে। অতএব আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকে বর্ণিত আইনসভার কার্যক্রম হযরত উমর (রা.)-এর মজলিস-উশ-শূরার কার্যকলাপের অনুরূপ। ঘ. উক্ত পরিষদের কার্যাবলি অর্থাৎ মজলিস-উশ-শূরার কার্যাবলি ইসলামি রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শূরা আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ পরামর্শ। প্রাক-ইসলামি যুগের দারুন নদওয়ায় বয়োজ্যেষ্ঠ পরিষদের আদলে রাসুল (সা.) এ পরামর্শ সভা চালু করেন। এ ব্যবস্থা হযরত আবু বকর (রা.)-এর সময়কালেও চালু ছিল। হযরত উমর (রা.) এ ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রণাপরিষদ গঠন করেন, যা মজলিস-উশ-শূরা বলা হতো। এটি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। তা হলো- ১. মজলিস-উশ-খাস ও ২. মজলিস-উশ-আম। মজলিস-উশ-খাস ছিল উচ্চ পরিষদ। এটাকে Cabinet বলা হয়। মজলিস-উশ-আসের সদস্য ছিলেন প্রাদেশিক শাসকগণ, মদিনার গণ্যমান্য ব্যক্তি, মুহাজির ও আনসারগণ। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য মজলিস-উশ-আমের বৈঠক ডাকা হতো এবং সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। হযরত উমর (রা.) তাঁর মজলিসে শূরায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যা উপস্থাপন করতেন আর সকলের মতামতের ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতো তা তিনি কার্যকর করতেন। তিনি বলতেন, “পরামর্শ ছাড়া খিলাফত চলতে পারে না।” মজলিস-উশ-শূরা ছিল রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এ পরিষদের বৈঠক ডাকা হতো এবং আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে এবং স্বচ্ছভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য গঠিত এ পরিষদ তৎকালীন ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে সকলের নিকট জনপ্রিয় করে তোলে। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়, মজলিস-উশ-শূরার কার্যাবলি ইসলামি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয়। ব্রিটিশ আইনসভা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। উচ্চ কক্ষের নাম হাউস অব কমন্স ও নিম্ন কক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস। মূলত হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অপরদিকে, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হাউস অব লর্ডসের সদস্যগণ দেশের সার্বিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সুচিন্তিত মতামত প্রদান করেন। 

ক.

খুলাফায়ে রাশেদিনের চতুর্থ খলিফার নাম কী? 

খ.

বায়তুল মাল কী? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত আইনসভার সাথে তোমার পঠিত খলিফা প্রবর্তিত পরিষদের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

ইসলামি খিলাফত পরিচালনায় উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিষদের ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।