Facebook Pixel

ব্রিটেনের সরকার প্রধান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান উত্তরাধিকারসূত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। সে দেশের সরকার প্রধান আইন প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন। তবে তিনি আইনসভায় জবাবদিহি করতে বাধ্য। শাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধানের নামে সকল কার্য সম্পাদিত হয়। ক. জাতীয় সংসদের অধিবেশন কে আহ্বান করেন? খ. বাংলাদেশের আইনসভার গঠন লেখো। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রিটেনের সরকার প্রধানের সাথে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সাদৃশ্য দেখাও। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রধানের পদমর্যাদাগত পার্থক্য নির্ণয় করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ বাংলাদেশ সরকার ও প্রাশাসনিক কাঠামো

উৎস: Board Exam Question DB 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি। খ. বাংলাদেশের আইনসভার নাম হলো জাতীয় সংসদ। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে জাতীয় সংসদ ৩৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৩০০ জন সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনি এলাকাসমূহ হতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। এছাড়া ৫০ টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। এরা সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন। সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য সংসদ সদস্যদের ভোটে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রিটেনের সরকার প্রধানের সাথে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের বেশকিছু সাদৃশ্য রয়েছে। বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। এই ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান এবং শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তাকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। তার নিয়োগ এবং কাজের সাথে উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারের মিল লক্ষণীয়। ব্রিটেনের সরকার প্রধান জনগণের ভোটে নির্বাচিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও এমনটি দেখা যায়। সংবিধান অনুযায়ী যে সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হবেন, রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় নেতাকেই রাষ্ট্রপতি সংসদের আস্থাভাজন সদস্য বলে মনে করেন। আবার, ব্রিটেনের সরকার প্রধান আইন প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন। তবে তিনি আইনসভায় জবাবদিহি করতে বাধ্য। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীই জাতীয় সংসদের নেতা বলে বিবেচিত হন। সংসদ নেতা হিসেবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তার ভূমিকাই মুখ্য। সংসদের উত্থাপিত কোনো বিল পাস না হলে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। তবে এতো ক্ষমতা সত্ত্বেও তার কাজের জন্য আইনসভায় তাকে জবাবদিহি করতে হয়। এই আলোচনা থেকেই উদ্দীপকের সরকার প্রধান এবং বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সাদৃশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বেশকিছু পদমর্যাদাগত পার্থক্য রয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন রাষ্ট্রের প্রধান, সরকার প্রধান নন। রাষ্ট্রপ্রধান রূপে তিনি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির উর্ধ্বে স্থান লাভ করেন। তিনি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মতো কর্ম করেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন নামমাত্র শাসক। উদ্দীপকের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পদমর্যাদা ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে কিছু বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। উদ্দীপকের রাষ্ট্রপ্রধান উত্তরাধিকার সূত্রে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। কিন্তু বাংলাদেশে এ রাষ্ট্রপ্রধান জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে। আবার উদ্দীপকের ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধান তার কাজের জন্য আইনসভায় জবাবদিহি করতে বাধ্য। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। কেননা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কারো নিকট দায়বদ্ধ নন। তিনি আইনসভার নিকটও জবাবদিহি করেন না। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি অন্য সকল ব্যক্তির উর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন। তিনি সংবিধান অনুসারে তার ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করেন। কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া সব সময়ই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো কিছু করা বা না করার জন্য তাঁকে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না এবং তার বিরুদ্ধে আদালতে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ও উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)

ব্রিটেনের সরকার প্রধান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধান উত্তরাধিকারসূত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। সে দেশের সরকার প্রধান আইন প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন। তবে তিনি আইনসভায় জবাবদিহি করতে বাধ্য। শাসন বিভাগের প্রধান হিসেবে ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধানের নামে সকল কার্য সম্পাদিত হয়।

ক.

জাতীয় সংসদের অধিবেশন কে আহ্বান করেন?

খ.

বাংলাদেশের আইনসভার গঠন লেখো।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রিটেনের সরকার প্রধানের সাথে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের সাদৃশ্য দেখাও।

ঘ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রধানের পদমর্যাদাগত পার্থক্য নির্ণয় করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Court of Record হিসেবে কাজ করে কোনটি?

'Key stone of the Cabinet Arch'- উক্তিটি কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

ক. বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইনজীবী কে? খ. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত অংশটির সাথে তোম...

ক. নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সভাপতি কে ছিলেন? খ. সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনা ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়? গ. ছক-A এর (?) চিহ্নিত স...

ক. অধ্যাদেশ কে জারি করেন? খ. অর্থ বিল বলতে কী বুঝায়? গ. খ ছকের (?) স্থান কোন প্রশাসন নির্দেশ করে এবং এ স্তরের প্রধান প্...

ক. মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান কে? খ. স্পিকারের কার্যাবলি লিখ। গ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠানটির শাসন সংক্রান্ত কার...

ক. কোরাম কাকে বলে? খ. স্থানীয় উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) কীভাবে ভূমিকা রাখে গ. উদ্দীপকের জনাব 'ক' এর সাথে বাংলা...

ক. প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কাকে বলে? খ. ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। গ. '?' চিহ্নিত বিভাগটির...

অধ্যাদেশ কখন জারি করা হয়? [ঢা. বো. '১৫] i. সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময় ii. সংসদ না থাকা অবস্থায় iii. সংসদ মুলতবি থাকা অবস্...

অধ্যাদেশ জারি করেন কে? [রা. বো. '১৬; য. বো. '১৫; ব. বো. ১৬; সি. বো. ১৬]

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।