ক.
জাতীয় সংসদের কাজ যে পরিমাণ সদস্যের উপস্থিতিতে পরিচালনা করা যায় তাকে কোরাম বলা হয়।
খ.
স্থানীয় উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) বৃহত্তর সমাজ উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে অগ্রগতি সাধিত হওয়ার পেছনে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও) এর ভূমিকা বেশ প্রশংসার দাবিদার। স্থানীয় পর্যায়ের জনগোষ্ঠীর জন্য মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচিসহ নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত এবং আইনের শাসন সুসংহত করার ক্ষেত্রে এ সংস্থার ভূমিকা অগ্রগণ্য।
গ.
উদ্দীপকের জনাব 'ক' এর সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মিল রয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদমর্যাদার দিক হতে এক বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী। রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে। তিনি সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। তার নামে রাষ্ট্রের সকল নির্বাহী কাজ পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের জনাব 'ক' বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিরই নামান্তর মাত্র।
উদ্দীপকের জনাব 'ক' রাষ্ট্রের প্রধান। তবে তার ক্ষমতা নাম সর্বস্ব। তিনি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত। তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা যায় না। তিনি বছরের প্রথম অধিবেশনে সংসদে ভাষণ দেন। একই ভাবে জনাব 'ক' এর মতো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী হলেও শুধু নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান। তার নামে নির্বাহী কার্য সম্পাদন করা হলেও তিনি মূলত কিছুই করেন না। প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভাই সকল দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও স্থগিত করেন। প্রতিটি নতুন সংসদের শুরুতে এবং ইংরেজি নববর্ষের শুরুতে তিনি সংসদে ভাষণ দান করেন। রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তিনি বিশেষ কিছু সুবিধা ভোগ করবেন। রাষ্ট্রপতি অবস্থায় তিনি কোনো কাজ করলে বা না করলে সেজন্য তাকে আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কোনো প্রকার ফৌজদারি মামলা করা যাবে না এবং তাঁকে গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোনো আদালত পরোয়ানা জারি করতে পারবে না। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের জনাব 'ক' এর সাথে বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক প্রধান রাষ্ট্রপতিই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তি অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী পদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি নিচে পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রী হলেন বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করেন। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার যে তালিকা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করেন তারাই মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রজাতন্ত্রের প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদের হাতে ন্যস্ত থাকে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্রের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের নিয়োগ দান করেন। আইন, বিচার, শাসন ও পররাষ্ট্রবিষয়ক সকল কর্তৃত্ব প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকে। মন্ত্রিসভার নেতা হিসেবে মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন এবং কতজন থাকবেন তা প্রধানমন্ত্রীই নির্ধারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের নেতা। প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে স্পিকার সংসদের কার্যসূচি নির্ধারণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সরকারি উচ্চপদে কর্মচারী, বিচারক, রাষ্ট্রদূত ও সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দান করেন। প্রধানমন্ত্রী কেবল সংসদের নেতা নন, তিনি তার নিজ দলেরও প্রধান। দলের স্বার্থ রক্ষা, ঐক্য ধরে রাখা, দলের সাফল্য প্রভৃতি বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা তার কর্তব্য। প্রধানমন্ত্রী জাতির নেতা ও পথপ্রদর্শক। এ জন্য তিনি সরকারি কর্মসূচি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন এবং সময়োপযোগী বিবৃতি ও বক্তৃতা প্রদান করেন।
পরিশেষে বলা যায়, সংসদীয় সরকারের সফলতা প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ও কার্যকলাপের ওপর নির্ভর করে। তাই বাংলাদেশের সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রভৃত ক্ষমতা ও মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।