Facebook Pixel

বিক্রমপুর রাজ্যের শাসকের শোষণ হতে মুক্ত হওয়ার জন্য শাহবাজপুর রাজ্যের শাসক স্বাধীনতা ঘোষণা করে। শাহবাজপুরের স্বাধীনতার দাবিকে চিরতরে নির্মূল করতে বিক্রমপুর রাজ্যের সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকারে গণহত্যা কর্যক্রম পরিচালনা করে। এই হত্যাকাণ্ড হতে ছাত্র-শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক, মন্দিরবাসী, নিঃস্ব বস্তিবাসী ও সাধারণ জনতা কেউ রক্ষা পায়নি। পুড়িয়ে দেওয়া হয় সংবাদপত্রের অফিস। ক. আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেছিলেন কে? খ. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান কী? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত হত্যাকান্ডের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? বর্ণনা কর। ঘ. -'হত্যাকান্ডটি ছিল জাতিকে মেধাশূন্য করার নীল নকশার সূচনা' বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ স্বাধীন ও সার্ভভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেছিলেন ইয়াহিয়া খান। খ. ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে যে ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে ওঠে তাকে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বলে। আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের মনে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আগরতলা মামলার প্রেক্ষিতে সমগ্র পাকিস্তানে যে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে তা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। এ আন্দোলনে ছাত্রদের পাশাপাশি কৃষক-শ্রমিক, কর্মচারী, কুলি, মাঝি থেকে শুরু করে সবশ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করে। এ গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খান ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা গ্রহণ করে। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত হত্যাকান্ডের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাকান্ডের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে বিক্রমপুর রাজ্যের শাসকের শোষণ হতে মুক্ত হওয়ার জন্য শাহবাজপুর রাজ্যের শাসক স্বাধীনতা ঘোষণা করে। শাহবাজপুরের স্বাধীনতার দাবিকে চিরতরে নির্মূল করতে বিক্রমপুর রাজ্যের সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকারে গণহত্যা কর্যক্রম পরিচালনা করে। যা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীরা ২৫ শে মার্চের হত্যাকান্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে টিক্কা খান ও রাওফরমান আলী পূর্ব পাকিস্তানে তথা বাংলাদেশে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ১১ চৈত্রের বৃহস্পতিবারে পাকিস্তানি বাহিনী ট্যাংক ও সামরিক যানসহ শহরের মূলকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও ঢাকা পিলখানায় হামলা চালায়। প্রথমে ফার্মগেটে বাঙালি জনতাকে হত্যা করে এবং পিলখানায় অসংখ্য ইপিআর সদস্য শহিদ হন। বালুচ ও পাঞ্জাব রেজিমেন্টের বাছাইকৃত কসাই সেনারা প্রতিটি হলে ঢুকে ছাত্রদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। সমগ্র ঢাকা শহরে তাদের নৃশংস হত্যাকান্ডের ফলে লাশ আর লাশ পড়ে থাকে। চারদিকে শুধু আগুন আর আহাজারি। দি পিপসল, ইত্তেফাক, সংবাদ ও গণবাংলা পত্রিকা অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং আত্মভোলা কবি শহিদ সাবেরসহ বহু সাংবাদকর্মী আগুনে পুড়ে মারা যায়। উঠে। তাদের হাত থেকে নারী, শিশু, বৃদ্ধ কেউ রেহাই পায়নি। ঢাকার বাইরে রংপুর, সৈয়দপুর, জয়দেবপুরসহ নানা স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণে বহু নিরস্ত্র বাঙালি নিহত হয়। তারা অসংখ্য বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। তাদের নৃশংসতায় ৩০ লক্ষ নর-নারী শহিদ হন এবং ২ লক্ষ মা-বোন তাদের ইজ্জত হারান। অতএব, উদ্দীপকের মতো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে ইতিহাসের জঘন্যতম ও নিমর্ম হত্যাকাণ্ড চালায়। ঘ. উক্ত হত্যাকাণ্ড তথা বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল জাতীয় মেধাশূন্য করার নীল নকশা। উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবীরা ব্যাপক অবদান রাখে বিধায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তাদের হত্যা করে জাতিকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা করে। মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের অবদান ছিল গৌরবোজ্জ্বল। যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও নৈতিক শক্তি ধরে রাখার ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীর অবদান ছিল খুবই প্রশংসনীয়। তারা নিজের ও পরিবারের সদস্যদের রুজি-রোজগার ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নানাভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাভিত্তিক লেখালেখি স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র খবর পাঠ, দেশাত্মবোধক গান, কবিতা পাঠ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, নাটক, কথিকা, এম. আর. আখতার মুকুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় 'চরমপত্র' অনুষ্ঠান এবং 'জল্লাদের দরবার' ইত্যাদি অনুষ্ঠান ছিল শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের। এসব অনুষ্ঠান যুদ্ধের ময়দানের মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল ধরে রাখতে সাহায্য করেছে, সাহস যুগিয়েছে, জনগণকে শত্রুর বিরুদ্ধে দুর্দমনীয় করেছে। তাই তাদের হত্যা করে হানাদাররা জাতিকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, হানাদার বাহিনী জাতির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান তথা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে এদেশকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা চালায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

বিক্রমপুর রাজ্যের শাসকের শোষণ হতে মুক্ত হওয়ার জন্য শাহবাজপুর রাজ্যের শাসক স্বাধীনতা ঘোষণা করে। শাহবাজপুরের স্বাধীনতার দাবিকে চিরতরে নির্মূল করতে বিক্রমপুর রাজ্যের সেনাবাহিনী রাতের অন্ধকারে গণহত্যা কর্যক্রম পরিচালনা করে। এই হত্যাকাণ্ড হতে ছাত্র-শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক, মন্দিরবাসী, নিঃস্ব বস্তিবাসী ও সাধারণ জনতা কেউ রক্ষা পায়নি। পুড়িয়ে দেওয়া হয় সংবাদপত্রের অফিস।

ক.

আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেছিলেন কে?

খ.

১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান কী? ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত হত্যাকান্ডের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল রয়েছে? বর্ণনা কর।

ঘ.

-'হত্যাকান্ডটি ছিল জাতিকে মেধাশূন্য করার নীল নকশার সূচনা' বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c|c| hline textbfদলের নাম & textbfপূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা & textbfপশ্চিম পাকিস্তানের প্রাপ্ত আ...

ক. বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম কোন দেশ স্বীকৃতি দেয় ? খ. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান কী ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐ...

ক. মুক্তিযুদ্ধে কয়টি সেক্টর ছিল? খ. ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। গ. প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত '?' দ্বারা ঐতিহাসিক ক...

“ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” ক. মহান মুক্তিযুদ্ধের সর...

‘ ক ’ অঞ্চলের জনগণ সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গেলেও প্রয়োজন ছিল যৌক্তিকভাবে যুদ্ধ পরিচাল...

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের কতটি আসন লাভ করে?

অটোমান তুর্কী সুলতানদের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের কারণে বুলগেরিয়ার জনগণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে। অটোমান সুলতান এ আ...

অটোমান শাসনাধীনে থাকা বুলগেরিয়ার মানুষ জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তুর্কি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে ...

অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করা হয় ১৯৭১ সালের কত তারিখে?

অপারেশন সার্চলাইট কত তারিখে পরিচালিত হয়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।