ক.
জাতীয়তা ধারণার প্রবক্তা হলেন ম্যাকিয়াভেলি।
খ.
রাজনৈতিক চেতনা মূলত রাজনৈতিক অনুভূতি। রাজনৈতিক চেতনা বলতে বুঝায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, আদর্শ ও মূল্যবোধ যা সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামো, ক্ষমতার বণ্টন এবং শাসনব্যবস্থার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব প্রকাশ করে। রাজনৈতিক অনুভূতি না থাকলে ধর্মীয় বা বংশগত ঐক্য, ভৌগোলিক অখণ্ডতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত উপাদানসমূহকে মানুষের হৃদয়ে বদ্ধমূল করার কোনো উপায় থাকে না। জাতীয়তা গঠনে ও বিকাশে রাজনৈতিক চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গ.
উদ্দীপকে ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের ধারণা ফুটে উঠেছে।
এ বিশাল পৃথিবীর যে ভূখণ্ডে মানুষ জন্ম নেয়, যে দেশের আলো-বাতাস, মাটি ও পানিতে সে বড় হয়, সেই মাটির প্রতি, সেই দেশের প্রতি ভালোবাসা মানুষের জন্মগত একটি বিষয়। এ ভালোবাসাই হলো দেশপ্রেম। দেশপ্রেম পবিত্র এবং দেশ ও জাতির জন্য গৌরবের বিষয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ফিলিস্তিনিরা নিজ ভূমি রক্ষা ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ সংগ্রাম করে আসছে। আত্মবিসর্জন দিয়েও তারা দেশমাতৃকাকে হারাতে চায় না। এ বিষয়টি দেশপ্রেমকেই উপস্থাপন করে। দেশের উন্নয়নে, দেশরক্ষায় এবং দেশের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকার সদিচ্ছাই হলো দেশপ্রেম। জাতীয়তাবোধ একটি জাতিকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে থাকে। প্রকৃত দেশপ্রেমিক জাতি দেশের প্রতি পূর্ণাঙ্গ আনুগত্য প্রকাশ করে, দেশের প্রচলিত রীতিনীতি মেনে দেশের জন্য কাজ করে এবং প্রয়োজনে পূর্ণাঙ্গ আত্মত্যাগ করে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং দেশমাতৃকাকে মুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। প্রত্যেক নাগরিকের অন্তরেই দেশপ্রেম গ্রথিত থাকে। নিজ মাতৃভূমি বা জন্মভূমির প্রতি মানুষের ভালোবাসা, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ থেকেই দেশপ্রেমের উদ্ভব ঘটে থাকে যা ফিলিস্তিন জনগণের মাঝে লক্ষণীয়।
ঘ.
উদ্দীপকে ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধতার ক্ষেত্রে জাতীয়তার যে উপাদানটির ভূমিকা মুখ্য সেটি হলো ভৌগোলিক ঐক্য।
কোনো একটি জনসমাজকে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে যেসব উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে সেগুলোকে জাতীয়তার উপাদান বলা হয়। এ উপাদানগুলো জাতীয় জনসমাজকে জাতি গঠনে সহায়তা করে থাকে। উদ্দীপকে ফিলিস্তিনিদের দেশাত্মবোধের দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে। নিজ ভূমি রক্ষার্থে ও স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য ইসরাইলীদের অত্যাচার সহ্য করেও ফিলিস্তিনিরা আত্মবিসর্জন দিতে প্রস্তুত। ভৌগোলিক ঐক্যই মূলত তাদের মাঝে ঐতিহাসিক, ভাষা ও সংস্কৃতিগত ঐক্য ইত্যাদির জন্ম দিয়েছে। ভৌগোলিক ঐক্য জাতীয়তাবোধের। এক অন্যতম উপাদান। নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারীরা খুব সহজেই জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হতে পারে। জাতীয়তার অন্যান্য উপাদান থাকা সত্ত্বেও শুধু ভৌগোলিক ঐক্যের অনুপস্থিতিতে কোনো জনগোষ্ঠী জাতি গঠন করতে পারে না। তাই এটি জাতীয়তার মুখ্য উপাদান। আবার প্রত্যেক জাতির অতীত স্মৃতি ও ঐতিহ্য তাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। এ অনুপ্রেরণা জাতীয়তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে। জাতীয়তাবোধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি। যখন কোনো জনসমাজে অধিকাংশ লোকের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি একই হয়, তখন তাদের মধ্যে এক সহজাত জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। একই সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। অতএব দেখা যায় যে, জাতীয়তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তবে ক্ষেত্র বিশেষে একেক উপাদান একেক জাতির জাতীয়তা সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা রাখে। আর উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে এ মুখ্য উপাদানটি হলো ভৌগোলিক ঐক্য।