Facebook Pixel

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এ উপমহাদেশে ব্রিটিশ প্রণীত একটি ভারত শাসন আইন পাশ হয়। এই আইনে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'সংরক্ষিত' ও 'হস্তান্তরিত' এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ক. মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়? খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে প্রণীত আইনটির সাথে তোমার পঠিত যে আইনের সাদৃশ্য আছে? তার তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইনটি ভারতে গণতন্ত্র বিকাশে কতটুকু সহায়ক ছিল? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায় -১০ঃ নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয়

উৎস: Board Exam Question RB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন ১৯০৯ সালে প্রণয়ন করা হয়। (খ) দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো ভারতবর্ষের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ মতবাদ, যার মূল কথা হলো হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মতে, এই দুই সম্প্রদায়ের ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জীবনধারা সম্পূর্ণ আলাদা। তাই তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি সাধারণ রাষ্ট্রকাঠামো যথেষ্ট নয়। এই তত্ত্বের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন বা মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার আইন। উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'সংরক্ষিত' ও 'হস্তান্তরিত' এই দুই ভাগে বিভক্ত করার বিষয়টি ১৯১৯ সালের আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই আইনের তিনটি বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. দ্বৈত শাসনব্যবস্থা: এই আইনের মাধ্যমে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থায় দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করা হয়। প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, গভর্নরের নির্বাহী পরিষদের অধীনে 'সংরক্ষিত' বিষয় এবং নির্বাচিত মন্ত্রীদের অধীনে 'হস্তান্তরিত' বিষয়। ২. দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থার সূচনা: প্রাদেশিক পর্যায়ে আংশিক দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের চেষ্টা করা হয়। হস্তান্তরিত বিষয়গুলোর দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীরা প্রাদেশিক আইনসভার নিকট দায়বদ্ধ ছিলেন। ৩. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ ও রাষ্ট্রীয় পরিষদ) গঠন করা হয়, যা ভারতীয়দের সংসদীয় গণতন্ত্রের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। (ঘ) উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন ভারতে গণতন্ত্র বিকাশে সহায়ক ছিল কি না, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এটি গণতন্ত্রের পথে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হলেও এর কার্যকারিতা ছিল অত্যন্ত সীমিত। প্রথমত, দ্বৈত শাসনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা: এই আইনে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত ভাগে ভাগ করায় প্রকৃত ক্ষমতা গভর্নরের হাতেই রয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো (যেমন- অর্থ, পুলিশ) সংরক্ষিত থাকায় নির্বাচিত মন্ত্রীদের হাতে কোনো কার্যকর ক্ষমতা ছিল না, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করে। দ্বিতীয়ত, ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণ: আইনসভায় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ থাকলেও গভর্নর জেনারেলের হাতে ভেটো প্রদান, অধ্যাদেশ জারি এবং আইনসভা ভেঙে দেওয়ার মতো ব্যাপক ক্ষমতা ছিল। ফলে আইনসভা কেবল একটি পরামর্শক সংস্থায় পরিণত হয়। তৃতীয়ত, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী: এই আইনে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর ব্যবস্থা রাখা হয়, যা ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয় ঐক্য নষ্ট করে এবং গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার পরিপন্থী ছিল। পরিশেষে বলা যায়, ১৯১৯ সালের আইনটি ভারতীয়দের প্রশাসনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করলেও এটি ব্রিটিশ শাসনের কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্যই প্রণীত হয়েছিল। এটি গণতন্ত্রের বিকাশে সহায়ক হওয়ার চেয়ে ব্রিটিশ আধিপত্য বজায় রাখতেই বেশি কার্যকর ছিল। তাই বলা যায়, এই আইনটি ভারতে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র বিকাশে ব্যর্থ হয়েছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2025)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এ উপমহাদেশে ব্রিটিশ প্রণীত একটি ভারত শাসন আইন পাশ হয়। এই আইনে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'সংরক্ষিত' ও 'হস্তান্তরিত' এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়।

ক. মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন কত সালে প্রণয়ন করা হয়?

খ. দ্বিজাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে প্রণীত আইনটির সাথে তোমার পঠিত যে আইনের সাদৃশ্য আছে? তার তিনটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আইনটি ভারতে গণতন্ত্র বিকাশে কতটুকু সহায়ক ছিল? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

AIDS এর পূর্ণরূপ কোনটি?

AIDS শব্দটির পূর্ণরূপ লেখো।

'Corruption' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?

Immune অর্থ কী?

‘M’ একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগ হলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। বায়ু, খাবার, মূত্র, ঘাম কিংবা বমির...

‘S’ সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অঞ্চল। বিগত কয়েক দশকে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ঐ অঞ্চলের অনেক আবাদি জমি উর্বরতাশ...

SSC পরীক্ষায় GPA-5.00 পাওয়া ফিরোজের কোনো হাতেই আঙুল নেই। ক. AIDS কী? খ. খাদ্যে ভেজাল বলতে কী বোঝায়? গ. ফিরোজ যে ধরনের...

‘X’ একজন রোগী। দীর্ঘদিন ধরে তার শুকনো কাশি লেগে আছে এবং দিন দিন শরীরের ওজন হ্রাস পাচ্ছে। তিনি প্রায়শই ক্লান্তি বোধ করেন...

'X' একজন সবজি চাষী। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে তিনি অপরিপক্ক টমেটোতে ক্ষতিকর স্প্রে করে রং পরিবর্তন করেন। যা দেখতে অবিকল পাকা...

‘X’ একটি বড় ও পরিচিত রেস্টুরেন্ট। প্রতিদিন অনেক লোক সেখানে খাবার খায়। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত রেস্টুরেন্টে অভিযান চা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।