Facebook Pixel

প্রজাতন্ত্রের কল্যাণে সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিলে ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াতে থাকে। সেজন্য সরকার দ্রব্যমূল্যের তালিকা তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে প্রচারের ব্যবস্থা করেন। ফলে ব্যবসায়ীদের অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, প্রজারা স্বাচ্ছন্দে দিনযাপন শুরু করে। ক. ভারতের তোতা পাখি বলা হয় কাকে? খ. মুহাম্মদ বিন তুঘলকের তাম্রমুদ্রা প্রচলনের কারণ কী ছিল? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবস্থার সাথে কোন শাসকের গৃহীত ব্যবস্থার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে প্রজাসাধারণের যে সুবিধা হয়েছিল তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে লিপিবদ্ধ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ দিল্লি সুলতানাত যুগ (১২০৬-১৫২৬খ্রি.)

উৎস: Others

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ভারতের তোতা পাখি বলা হয় আমির খসরুকে। (খ) মুহাম্মদ বিন তুঘলক রাজকোষের সংকট দূর করতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাম্রমুদ্রা প্রচলন করেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে এর কারণগুলো নিম্নরূপ: ১. ঐতিহাসিক বারানির মতে, সুলতানের অপরিমিত দানের ফলে রাজকোষে মুদ্রার সংকট দেখা দেয়, যা পূরণের জন্য তিনি তাম্রমুদ্রা প্রচলন করেন। ২. ঐতিহাসিক ফিরিশতার মতে, রাজ্যজয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ৩. বদাউনির মতে, দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তরের ফলে রাজকোষে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণের জন্য তাম্রমুদ্রার প্রচলন করা হয়। ৪. গার্ডনার ব্রাউনের মতে, চতুর্দশ শতকে বিশ্বব্যাপী রৌপ্যের সংকট ছিল, যার প্রভাব ভারতেও পড়েছিল। এই রৌপ্যের অভাব পূরণে তিনি তাম্রমুদ্রা প্রবর্তন করেন, যেমনটি রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ড ইংল্যান্ডে করেছিলেন। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবস্থার সাথে দিল্লি সুলতানাতের শাসক আলাউদ্দিন খলজির গৃহীত মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মিল রয়েছে। প্রজাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য রাখা এবং স্বল্পমূল্যে একটি বিশাল সেনাবাহিনী পোষণের জন্য সুলতান আলাউদ্দিন খলজি কঠোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি প্রতিটি দ্রব্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট মূল্য ধার্য করে দিয়েছিলেন, যাতে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভে দাম বাড়াতে না পারে। তাঁর মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতির আওতায় নির্ধারিত কয়েকটি দ্রব্যের মূল্য তালিকা নিচে দেওয়া হলো: দ্রব্যের নাম পরিমাণ নির্ধারিত মূল্য গম প্রতি মণ ৭ ১/২ জিতল মোঠ প্রতি মণ ৩ জিতল বার্লি প্রতি মণ ৪ জিতল চাল প্রতি মণ ৫ জিতল শিম প্রতি মণ ৫ জিতল ডাল প্রতি মণ ৫ জিতল লবণ ২ ১/২ মণ ৫ জিতল চিনি প্রতি সের ১ ১/২ জিতল চিনি (লাল) প্রতি সের ১/৮ জিতল মাখন ২ ১/২ সের ১ জিতল ঘি ২ ১/২ সের ১ জিতল তেল ৩ সের ১ জিতল (দ্রষ্টব্য: তাম্রমুদ্রাকে জিতল বলা হয়। ১ জিতল = প্রায় ১ আনা বা ছয় পয়সা। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ঘোড়ার মূল্য ছিল ১২০ টঙ্কা, দ্বিতীয় শ্রেণির ৯০ টঙ্কা, তৃতীয় শ্রেণির ৭০ টঙ্কা এবং ছোট টাট্টু ঘোড়ার মূল্য ছিল ১০-২০ টঙ্কা।) পরিশেষে বলা যায়, সুলতান আলাউদ্দিন খলজি নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে তা কার্যকর করেছিলেন, যা উদ্দীপকের সরকারি পদক্ষেপের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে প্রজাসাধারণের যে সুবিধা হয়েছিল, তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নিচে আলোচনা করা হলো: সুলতান আলাউদ্দিন খলজির মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানি এই পদ্ধতির প্রশংসা করে বাজারে শস্যের অপরিবর্তিত মূল্যকে সে যুগের অন্যতম বিস্ময় বলে উল্লেখ করেছেন। লেনপুল, ডব্লিউ হেইগ, ঈশ্বরীপ্রসাদ এবং কে. কে. দত্তের মতো ঐতিহাসিকেরা এই ব্যবস্থাকে সফল ও কল্যাণকর বলে অভিহিত করেছেন। এই ব্যবস্থার ফলে প্রজাসাধারণের প্রধান সুবিধাগুলো ছিল নিম্নরূপ: ১. মুদ্রাস্ফীতি রোধ ও জীবনমান উন্নয়ন: নির্ধারিত মূল্যে পণ্য পাওয়ার ফলে মুদ্রাস্ফীতি রোধ হয় এবং সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য ও পণ্য ক্রয় করতে পারে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। ২. খাদ্য নিরাপত্তা ও রেশনিং ব্যবস্থা: কে. এস. লাল রেশনিং ব্যবস্থাকে আলাউদ্দিন খলজির মহান উদ্ভাবন বলে অভিহিত করেছেন। সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী প্রতিটি পরিবার সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য ক্রয় করতে পারত, যার ফলে দিল্লির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কখনো দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়নি। ৩. সংকটকালীন সরবরাহ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনাবৃষ্টির সময় খাদ্য ঘাটতি রোধ করতে দিল্লিতে কয়েকটি রাজকীয় শস্যাগার স্থাপন করা হয়েছিল। সংকটের সময় এখান থেকে শস্য সরবরাহ করে প্রজাদের রক্ষা করা হতো। ৪. মজুতদারি রোধ: অধিক মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্যের গুদামজাত বা মজুতদারি করতে না পারে, সেজন্য সুলতান কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মজুতদারি রোধে জরিমানা ও পণ্য বাজেয়াপ্ত করাসহ কঠোর শাস্তি দেওয়া হতো, ফলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। Таким образом, সুলতানের দৃঢ় সংকল্প, কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা লাভ করেছিল এবং তাদের জীবন স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenঅন্যান্য

প্রজাতন্ত্রের কল্যাণে সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিলে ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়াতে থাকে। সেজন্য সরকার দ্রব্যমূল্যের তালিকা তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে প্রচারের ব্যবস্থা করেন। ফলে ব্যবসায়ীদের অসৎ উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, প্রজারা স্বাচ্ছন্দে দিনযাপন শুরু করে।

ক. ভারতের তোতা পাখি বলা হয় কাকে? খ. মুহাম্মদ বিন তুঘলকের তাম্রমুদ্রা প্রচলনের কারণ কী ছিল? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবস্থার সাথে কোন শাসকের গৃহীত ব্যবস্থার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে প্রজাসাধারণের যে সুবিধা হয়েছিল তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে লিপিবদ্ধ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

M একজন ক্রীতদাস হওয়া সত্ত্বেও তার যোগ্যতা ও প্রতিভা দিয়ে প্রভুর মন জয় করেন। বিচক্ষণ এ রাজনীতিবিদ প্রভুর মৃত্যুর পর এক...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময়...

অনলাইন শপিং-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলছে। মানুষের ব্যস্ততা ও কর্মপরিধি বাড়তে থাকায় তারা আজ বাজারে যাবার পর্যাপ্ত সময় ...

'আইবেক' শব্দের অর্থ কী?

আলাউদ্দিন খলজির শাসনব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল-

আলী ইমাম খুবই বুদ্ধিমান ও সুন্দর দেহের অধিকারী ছিলেন। তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও সৌন্দর্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার ভ্রাতাগণ তাকে ক্রী...

ইলতুৎমিশ দাস রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন-ব্যাখ্যা কর।

ইলতুৎমিশকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলার কারণ তিনি-

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।