(ক) ট্যালকম পাউডার হলো হাইড্রেটেড ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেট। এর রাসায়নিক সংকেত হলো $\mathrm{H}_{2} \mathrm{Mg}_{3}(\mathrm{SiO}_{3})_{4}$ বা $\mathrm{Mg}_{3} \mathrm{Si}_{4} \mathrm{O}_{10} \cdot \mathrm{H}_{2} \mathrm{O}$।
(খ) কলয়েড ও প্রকৃত দ্রবণের মধ্যে প্রধান পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য |
প্রকৃত দ্রবণ |
কলয়েড |
| কণার আকার |
$1$ ন্যানোমিটারের চেয়ে ছোট। |
$1$ থেকে $1000$ ন্যানোমিটারের মধ্যে। |
| দৃশ্যমানতা |
অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। |
সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায় না, তবে আল্ট্রামাইক্রোস্কোপে দেখা যায়। |
| ফিল্টারযোগ্যতা |
সাধারণ কাগজ বা পার্চমেন্ট কাগজ দিয়ে সহজেই ফিল্টার করা যায়। |
সাধারণ কাগজ দিয়ে ফিল্টার করা যায় না, তবে অতিসূক্ষ্ম ঝিল্লি দিয়ে করা যায়। |
| স্থায়িত্ব |
অত্যন্ত স্থায়ী। |
তুলনামূলকভাবে কম স্থায়ী। |


(গ) উদ্দীপকের A ও B হলো যথাক্রমে দুধ ও মাখন। দুধ হতে মাখন প্রস্তুতি প্রক্রিয়াটি নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. দুধের pH নিয়ন্ত্রণ: দুধ সংগ্রহের পর এর pH মান $6.9$ থেকে $7.2$ এর মধ্যে রাখা জরুরি। pH মান $6.5$ এর নিচে নেমে গেলে দুধের অম্লত্ব বেড়ে যায় এবং ল্যাকটিক এসিড তৈরির ফলে কেইজিন জমাট বেঁধে যায়। এটি রোধ করতে স্বল্প মাত্রার সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ($\mathrm{NaHCO}_{3}$) যোগ করা হয়।
২. দুধের পাস্তুরায়ন: দুধে চর্বি থাকায় এটি দ্রুত পচনশীল। উচ্চ তাপমাত্রায় ফুটিয়ে দ্রুত শীতল করার মাধ্যমে দুধকে জীবাণুমুক্ত করা হয়, যা দুধের সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি করে।
৩. শীতলীকরণ: পাস্তুরায়নের পর দুধকে গ্রীষ্মকালে $7^{\circ}\mathrm{C}$ থেকে $10^{\circ}\mathrm{C}$ এবং শীতকালে $10^{\circ}\mathrm{C}$ থেকে $12^{\circ}\mathrm{C}$ তাপমাত্রায় শীতল করা হয়।
৪. ঘূর্ণায়ন বা সেন্ট্রিফিউগেশন: সেন্ট্রিফিউজ মেশিনে দুধ প্রবেশ করিয়ে দ্রুত ঘোরানোর ফলে দুধের ক্রিম ও ঘোল আলাদা হয়ে যায়। এই ক্রিম থেকেই মাখন তৈরি হয়।
৫. মাখন পানিমুক্তকরণ: ক্রিম থেকে মাখন আলাদা করার পর পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে এবং বারবার পানি দিয়ে ধুয়ে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি অপসারণ করা হয়। পানি স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলে। সবশেষে মাখনকে $10^{\circ}\mathrm{C}$ এর নিচে সংরক্ষণ করা হয়।
(ঘ) কলয়েড কণাগুলো সাধারণত একই ধরনের আধান বহন করে, ফলে তারা একে অপরকে বিকর্ষণ করে এবং জমাট বাঁধতে পারে না, যা কলয়েডকে স্থিতিশীল রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত ইলেকট্রোলাইট যোগ করলে কলয়েড কণাগুলোর আধান প্রশমিত হয়ে যায়। ফলে কণাগুলোর মধ্যবর্তী বিকর্ষণ বল হ্রাস পায় এবং ভ্যান ডার ওয়ালস আকর্ষণ বলের প্রভাবে কণাগুলো একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করে অধঃক্ষিপ্ত হয়। এই প্রক্রিয়াকেই কোয়াগুলেশন বা জমাট বাঁধা বলা হয়।
কলয়েডের সুস্থিতি বিনষ্ট করার উপায়সমূহ:
১. বিপরীত আধানযুক্ত কলয়েড যোগ করা: বিপরীত আধানযুক্ত দুটি কলয়েড সমমোল অনুপাতে মিশ্রিত করলে তারা একে অপরকে প্রশমিত করে জমাট বেঁধে যায়।
২. স্ফুটন: তাপ প্রয়োগ করলে কলয়েড কণার গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং আধানের স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে কণাগুলো জমাট বাঁধে।
৩. তড়িৎ চালনা (Electrophoresis): তড়িৎ ক্ষেত্রে কলয়েড দ্রবণ স্থাপন করলে কণাগুলো বিপরীত তড়িৎদ্বারে গিয়ে আধান হারিয়ে জমাট বেঁধে যায়।
৪. ডায়ালাইসিস: বারবার ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ায় কলয়েড দ্রবণ থেকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ অপসারিত করলে কলয়েডের স্থায়িত্ব নষ্ট হয় এবং জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।