ক. খাদ্য নিরাপত্তা বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে সকল মানুষ সব সময় সক্রিয় ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের ভৌত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পারে।
খ. গ্লাস ক্লিনার হিসেবে সাধারণত অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ($NH_4OH$) বা অ্যামোনিয়া দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। এটি একটি মৃদু ক্ষারক। গ্লাসের উপরিভাগে জমে থাকা তেল বা গ্রিজ মূলত ফ্যাটি অ্যাসিডের এস্টার বা চর্বি জাতীয় পদার্থ। অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড এই তেল বা চর্বির সাথে বিক্রিয়া করে সাবান বা ফ্যাটি অ্যাসিডের অ্যামোনিয়াম লবণ তৈরি করে, যা গ্লাসের উপরিপৃষ্ঠ থেকে ময়লাকে আলগা করে ফেলে।
বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
$$RCOOR' + NH_4OH \rightarrow RCOONH_4 + R'OH$$
এখানে $R$ হলো দীর্ঘ কার্বন শিকল বিশিষ্ট অ্যালকাইল গ্রুপ এবং $R'$ হলো অ্যালকাইল মূলক। উৎপন্ন সাবান বা লবণটি পানির উপস্থিতিতে ময়লাকে দ্রবীভূত করে, যা পরে মুছে ফেলা সহজ হয়। এছাড়া অ্যামোনিয়া উদ্বায়ী হওয়ায় এটি গ্লাসের ওপর কোনো দাগ ফেলে না এবং কাচের মূল উপাদান সিলিকা ($SiO_2$) এর সাথে কোনো বিক্রিয়া করে না।
গ.
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি থেকে দেখা যায় যে, ইথানল ($C_2H_5OH$) থেকে ইথানয়িক অ্যাসিড বা ভিনেগার ($CH_3COOH$) উৎপন্ন হচ্ছে। সুতরাং, $E$ যৌগটি হলো ভিনেগার।
ভিনেগার উৎপাদন প্রক্রিয়া (দ্রুত জারণ পদ্ধতি বা কুইক ভিনেগার প্রসেস):
প্রক্রিয়াটি হলো, একটি কাঠের পিপায় বীচ কাঠের গুঁড়া রাখা হয় এবং তাতে 'মাইকোডার্মা অ্যাসিটি' নামক ব্যাকটেরিয়া যুক্ত করা হয়। পিপার ওপর থেকে ১০% ইথানলের জলীয় দ্রবণ স্প্রে করা হয় এবং নিচ থেকে ৩৫°C তাপমাত্রার বাতাস চালনা করা হয়। ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে ইথানল বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়ে ৬-১০% অ্যাসিটিক অ্যাসিড বা ভিনেগার উৎপন্ন করে। পিপার তলদেশের নির্গমন পথ দিয়ে এই ভিনেগার সংগ্রহ করা হয়।
ঘ. উদ্দীপকের $E$ যৌগটি হলো ভিনেগার, যা খাদ্য সংরক্ষণ এবং রোগ প্রতিরোধ উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগার: ভিনেগার অম্লীয় প্রকৃতির হওয়ায় এটি খাদ্যের pH কমিয়ে দেয়, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার রোধ করে। একে 'পিকলিং' (pickling) পদ্ধতি বলা হয়। ভিনেগারের ইথানয়িক অ্যাসিড অণু থেকে বিমুক্ত প্রোটন ($H^+$) ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন ও চর্বিকে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে তাদের ধ্বংস করে।
$$CH_3COOH + H_2O \rightleftharpoons CH_3COO^- + H^+$$
এটি খাদ্যের জারণ প্রক্রিয়া ধীর করে এবং পচন রোধে সহায়তা করে। সবজি, মাংস, মাছ, ডিম, ফল ও বাদাম সংরক্ষণে ৪-৬% ভিনেগার দ্রবণ ব্যবহৃত হয়।
রোগ প্রতিরোধে ভিনেগার: অল্প পরিমাণ ভিনেগার খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে শরীরের পেশিতে ল্যাকটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে এবং পেশির ক্লান্তি দূর হয়। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে এবং শরীরের পরিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। ভিনেগারে বিদ্যমান কিছু সক্রিয় উপাদান ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধে সহায়ক এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে। পরিশেষে বলা যায়, ভিনেগার কেবল খাদ্য সংরক্ষক হিসেবেই নয়, বরং মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।