(ক)
অপুষ্টি হলো খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত ভারসাম্যহীনতার ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি।
(খ)
বেসরকারি সংস্থা বলতে আইনি কাঠামোর অধীনে বেসরকারি ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের দ্বারা গঠিত এমন সংগঠনকে বোঝায়, যাতে সরকারের কোনো অংশীদারিত্ব থাকে না।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ মূলত সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এগুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। অর্থাৎ, এই সংস্থাগুলো আর্থিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে না, বরং জনস্বার্থে বিভিন্ন সেবা প্রদান করে। যেমন- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তারা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
(গ)
উদ্দীপকের দবিরের পরিবারের অপূরিত মৌল মানবিক চাহিদাসমূহ হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিত্তবিনোদন।
মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য যেসব চাহিদা পূরণ করা অপরিহার্য, সেগুলোকে মৌল মানবিক চাহিদা বলা হয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিত্তবিনোদন ইত্যাদি। এই চাহিদাগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি অপূরিত থাকলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও সামগ্রিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, দবির রিকশা চালিয়ে অনেক কষ্টে তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতে পেরেছে, অর্থাৎ খাদ্য ও বাসস্থানের চাহিদা কোনোমতে পূরণ হয়েছে। কিন্তু অভাবের তাড়নায় সে তার ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, দবিরের পরিবারের শিক্ষার চাহিদা অপূরিত রয়েছে। এছাড়া চরম দারিদ্র্যের কারণে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ এবং চিত্তবিনোদনের মতো প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলোও তাদের জীবনে অনুপস্থিত। সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠন ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের জন্য শিক্ষা অপরিহার্য, যা দবিরের সন্তানদের ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য চিত্তবিনোদন প্রয়োজন, যা দবিরের পরিবারের ক্ষেত্রে অপূরিত রয়ে গেছে।
(ঘ)
দবিরের পরিবারের অপূরিত মৌল মানবিক চাহিদাসমূহের প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং নেতিবাচক। নিচে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রথমত, শিক্ষার অভাব দবিরের সন্তানদের ভবিষ্যৎ জীবনকে অনিশ্চিত করে তুলবে। শিক্ষার মাধ্যমেই একজন মানুষ তার জীবন ও জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে এবং দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হয়। দবিরের সন্তানরা স্কুলে যেতে না পারায় তারা মৌলিক জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে পারবে না, যার ফলে তারা বড় হয়ে দবিরের মতোই অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে জীবন কাটাতে বাধ্য হবে। এটি দারিদ্র্যের একটি দুষ্টচক্র তৈরি করবে, যেখান থেকে বের হওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যসেবার অভাব তাদের শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দেবে। স্বাস্থ্য হলো সকল সুখের মূল। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার ফলে শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগতে পারে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অসুস্থ শরীর নিয়ে পড়াশোনা বা কাজ করা সম্ভব নয়, যা তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেবে এবং জীবনযাত্রার মান আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাবে।
তৃতীয়ত, চিত্তবিনোদনের অভাব তাদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে। চিত্তবিনোদন মানুষের একঘেয়েমি দূর করে এবং মনে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জোগায়। দবিরের পরিবারের সদস্যরা সারাদিন অভাবের সাথে লড়াই করে ক্লান্ত থাকে, কিন্তু মনকে চাঙ্গা করার মতো কোনো সুযোগ তাদের নেই। এর ফলে তাদের মধ্যে মানসিক চাপ ও হতাশা তৈরি হতে পারে, যা তাদের সামগ্রিক জীবনতৃপ্তিকে কমিয়ে দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিত্তবিনোদনের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো অপূরিত থাকার ফলে দবিরের পরিবারটি কেবল অর্থনৈতিকভাবে নয়, বরং সামাজিকভাবেও পিছিয়ে পড়বে। সুস্থ, শিক্ষিত ও মানসিকভাবে প্রফুল্ল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ না পাওয়ায় তারা সমাজের মূলধারার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না, যা তাদের জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে কষ্টদায়ক করে তুলবে।