(ক)
রাষ্ট্রীয় মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে।
(খ)
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় ন্যায্যমূল্যে পণ্য বা সেবা সরবরাহের মাধ্যমে একচেটিয়া প্রবণতা রোধ করে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন মুনাফার লোভে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করে বা সেবার মান কমিয়ে দেয়, তখন সরকার রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মাধ্যমে একই পণ্য বা সেবা সুলভ মূল্যে জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়। এর ফলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আর ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করতে পারে না এবং বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, বেসরকারি বাসের পাশাপাশি সরকারি বাস পরিচালনা করার ফলে সাধারণ যাত্রী ন্যায্যমূল্যে যাতায়াত করতে পারে, যা বেসরকারি খাতের একচেটিয়া আধিপত্য কমিয়ে আনে।
(গ)
X নামক রাষ্ট্রে ১ম পর্যায়ের কাজগুলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (Public-Private Partnership বা PPP) ব্যবসায় কাঠামোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি বা PPP হলো এমন এক দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক ব্যবসায় ব্যবস্থা, যেখানে জনকল্যাণমূলক সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে সরকার এবং বেসরকারি খাত যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এই ব্যবস্থায় সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও পুঁজির সমন্বয় ঘটে এবং অর্জিত মুনাফা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উভয় পক্ষ ভাগ করে নেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, X নামক রাষ্ট্রটি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঐ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রিজ, ফ্লাইওভার এবং মেট্রোরেলের মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণ করছে এবং অর্জিত মুনাফা সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উভয়েই পাচ্ছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল লক্ষ্যের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। সুতরাং, X নামক রাষ্ট্রে ১ম পর্যায়ের কাজগুলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি ব্যবসায় কাঠামোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
(ঘ)
উদ্দীপকের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে 'রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়' (State Business) সংগঠন কাঠামো নির্বাচন করা যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি।
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় হলো সরকারের মালিকানাধীন এমন এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যা রাষ্ট্রের পরিকল্পনা ও নীতি অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এর প্রধান লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং জনকল্যাণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাষ্ট্র X তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার জন্য একটি অস্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অস্ত্র উৎপাদন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কৌশলগত বিষয়। যদি অস্ত্র তৈরির কারখানা বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে মুনাফার লোভে তারা জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে পারে, যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া অস্ত্রের সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে থাকা জরুরি যাতে তা অপব্যবহার না হয় এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত না হয়।
অতএব, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে অস্ত্র তৈরির কারখানাটি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় বা রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় কাঠামোর অধীনে স্থাপন করা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।