(ক)
তথ্য ও প্রযুক্তির (ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি) ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক নাগরিককে যে সেবা প্রদান করা হয়, তাকে ই-সেবা বলে।
(খ)
ইন্টারনেট হলো বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য কম্পিউটারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। একে ইন্টারকানেক্টেড নেটওয়ার্ক বা সংক্ষেপে ইন্টারনেট বলা হয়।
ইন্টারনেট বর্তমান বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এর মাধ্যমে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের মানুষের সাথে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারে। বর্তমানে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ব্রাউজার (যেমন: গুগল ক্রোম, ফায়ারফক্স) ব্যবহারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে বিভিন্ন তথ্যের অনুসন্ধান ও আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়।
(গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি হলো ই-গভর্ন্যান্স বা ইলেকট্রনিক শাসন। 'X' নামক রাষ্ট্রে টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল পরিশোধ, সার্টিফিকেট ও লাইসেন্স প্রাপ্তি এবং সরকারি তথ্যের আদান-প্রদান অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে, যা ই-গভর্ন্যান্সের বহিঃপ্রকাশ।
এই ব্যবস্থার সুফলগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সময়ের সাশ্রয়: নাগরিকরা এখন সরকারি দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে ঘরে বসেই সেবা পাচ্ছেন, ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি দূর হয়েছে এবং সময়ের সাশ্রয় হচ্ছে।
২. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি: অনলাইন টেন্ডার এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়ার ফলে সরকারি কাজে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং দুর্নীতির সুযোগ হ্রাস পায়। প্রতিটি পদক্ষেপের ডিজিটাল রেকর্ড থাকায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
৩. সহজলভ্যতা: ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে সরকারি ঘোষণা ও সেবা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি সেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজ করে তুলেছে।
৪. ব্যয় হ্রাস: কাগজের ব্যবহার কমে যাওয়ায় এবং যাতায়াত খরচ হ্রাস পাওয়ায় নাগরিক ও সরকার উভয় পক্ষেরই ব্যয় কমছে।
সুতরাং, উদ্দীপকে বর্ণিত ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা নাগরিক জীবনকে সহজ, গতিশীল এবং দুর্নীতিমুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা থেকে অধিক সুফল পেতে হলে বেশ কিছু বাধা অতিক্রম করতে হবে। এই বাধাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ডিজিটাল বিভাজন দূর করা: সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে কম্পিউটার বা স্মার্টফোন এবং উচ্চগতির ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামীণ ও শহরের ডিজিটাল বৈষম্য দূর না হলে সবাই এই সেবার সুফল পাবে না।
২. ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি: কেবল প্রযুক্তি থাকলেই হবে না, সাধারণ মানুষকে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অনেক নাগরিক প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে অনলাইন সেবা নিতে পারেন না, তাই ব্যাপক জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
৩. সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। হ্যাকিং বা তথ্য চুরির ভয় দূর করতে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৪. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা সার্ভার ডাউন থাকলে ই-সেবা ব্যাহত হয়।
৫. মানসিকতার পরিবর্তন: সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং পুরনো ধ্যানধারণার কারণে ডিজিটাল রূপান্তর বাধাগ্রস্ত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্দীপকের বর্ণিত ব্যবস্থার পূর্ণ সুফল অর্জন করা সম্ভব।