(ক)
মাত্রাগত উৎপাদন একটি দীর্ঘকালীন ধারণা। দীর্ঘকালীন সময়ে উৎপাদনের সব উপকরণ পরিবর্তনীয় হয়। তাই উৎপাদনের সব উপকরণের পরিবর্তনের ফলে মোট উৎপাদনের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকে মাত্রাগত উৎপাদন বলে।
(খ)
একচেটিয়া বাজার ও একচেটিয়ামূলক প্রতিযোগিতা বাজারের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যে বাজারে একজন মাত্র উৎপাদনকারী বা বিক্রেতা থাকে, উৎপাদিত দ্রব্যের কোনো ঘনিষ্ঠ বিকল্প বা পরিবর্তক থাকে না এবং নতুন বিক্রেতার জন্য বাজারে প্রবেশে কঠোর বাধা থাকে, তাকে একচেটিয়া বাজার বলে।
অন্যদিকে, একচেটিয়ামূলক প্রতিযোগিতা বাজার বলতে এমন এক বাজার কাঠামোকে বোঝায় যেখানে অনেকগুলো ছোট ছোট ফার্ম থাকে। তারা সদৃশ্য কিন্তু সামান্য বিভেদিকৃত দ্রব্য উৎপাদন করে। এই বাজারে নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ ও প্রস্থানের স্বাধীনতা থাকে এবং বাজার সম্পর্কে ক্রেতা ও বিক্রেতার জ্ঞান অপূর্ণাঙ্গ হয়।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত $X$ বাজারটি হলো একটি পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার। কারণ এখানে যোগান বাড়লে বা কমলে দ্রব্যের দামের কোনো পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ দাম নির্ধারিত।
পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা: এই বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা থাকে, ফলে একক কোনো ক্রেতা বা বিক্রেতা দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে না।
২. সমজাতীয় দ্রব্য: সকল বিক্রেতা একই গুণসম্পন্ন বা সমজাতীয় দ্রব্য বিক্রি করে। ফলে সকল পণ্যের দাম একই থাকে।
৩. বাজার সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান: ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই বাজারের দাম ও অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে পূর্ণ অবগত থাকে।
৪. অবাধ প্রবেশ ও প্রস্থানের স্বাধীনতা: বাজারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অবস্থা বিবেচনা করে যেকোনো প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে শিল্পে প্রবেশ করতে পারে বা প্রস্থান করতে পারে।
৫. উপকরণের পূর্ণ গতিশীলতা: উৎপাদনের উপকরণগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা এক শিল্প থেকে অন্য শিল্পে সহজেই স্থানান্তরিত হতে পারে।
৬. ভোগের ও উৎপাদনের স্বাধীনতা: ক্রেতা স্বাধীনভাবে কম-বেশি ক্রয় করতে পারে এবং বিক্রেতা তার ইচ্ছামতো দ্রব্যের উৎপাদন বাড়াতে বা কমাতে পারে।
৭. পরিবহন ব্যয় শূন্য: এই বাজারে পরিবহন ব্যয় নগণ্য বা শূন্য ধরা হয়, ফলে বাজারের সর্বত্রই একই দাম বিরাজ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, $X$ বাজারের পণ্য ২০ টাকা দরে বিক্রি হয় এবং যোগান পরিবর্তন হলেও দামের কোনো পরিবর্তন হয় না। এই বৈশিষ্ট্যগুলো পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে সংগতিপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের $X$ বাজারটি একটি পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার।
(ঘ)
উদ্দীপকের আলোকে $X$ বাজারটি একটি পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার। পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পণ্যের দাম স্থির থাকে, যার ফলে গড় আয় ($AR$) এবং প্রান্তিক আয় ($MR$) পরস্পর সমান হয় এবং তা দামের সমান হয়। অর্থাৎ, $P = AR = MR$।
দ্রব্যের প্রতি একক বিক্রয় করে বিক্রেতা যে আয় পায় তাকে গড় আয় ($AR$) বলে।

আবার কোনো দ্রব্যের বিক্রয় এক একক বাড়লে মোট আয় যতটুকু বাড়ে, তাকে প্রান্তিক আয় ($MR$) বলে।
বিক্রয়ের পরিমাণ $Q$ এবং দাম $P$ হলে মোট আয় $TR = Q \times P$।
উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী, $X$ দ্রব্যের দাম $P = 20$ টাকা। এই তথ্যের ভিত্তিতে $AR$ ও $MR$ নির্ণয় করা হলো:
উপরের ছক থেকে দেখা যায়, ২০ টাকা দামে দ্রব্য বিক্রয়ের ফলে মোট আয় নির্দিষ্ট হারে বাড়ে। এর ফলে গড় আয় ($AR$) এবং প্রান্তিক আয় ($MR$) উভয়ই ২০ টাকার সমান থাকে। অর্থাৎ,
$$P = AR = MR = 20$$
চিত্রে ২০ টাকা দামে গড় আয় ($AR$) ও প্রান্তিক আয় ($MR$) রেখা পরস্পর সমান এবং ভূমি অক্ষের সমান্তরাল। এটিই পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের চাহিদা রেখা।