Facebook Pixel

রত্না ও রতনের দাম্পত্য জীবন বেশ সুখে - শান্তিতেই কাটছিল। কিন্তু বিনা মেঘে বজ্রপাতের ন্যায় মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল রতন। কালের বিবর্তনে জীবন নামের একজন ভালো মানুষের সাথে রত্নার পুনরায় বিয়ে হলেও প্রথম স্বামীর স্মৃতি এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারেনি সে। কেননা , প্রথম স্বামী ছিল তার সকল কাজের সহযোগী ও প্রেরণাদাতা । প্রতি বসন্তে রত্না তাই প্রথম স্বামীর কথা বিশেষভাবে স্মরণ করে নীরবে কাঁদে। কারণ , তার ভালোবাসার মানুষটি বসন্তকালের পূর্বলগ্নেই , তাকে ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছে। ক. ‘ কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি '– কার কথা বলা হয়েছে ? খ. ‘ পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে '— বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? গ. “ উদ্দীপকে ' তাহারেই পড়ে মনে ' কবিতার বিষয়বস্তু ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে । ”— বুঝিয়ে লেখো। ঘ. “ উদ্দীপকের রত্না আর ‘ তাহারেই পড়ে মনে ' কবিতার কবির কষ্ট একসূত্রে গাঁথা। ”— বিশ্লেষণ করো

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: কবিতা - তাহারেই পড়ে মনে

উৎস: Board Exam Question DB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি'— চরণটির মাধ্যমে বিরহকাতর কবির কথা বলা হয়েছে। খ. ‘পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে' বলতে কবি বিবর্ণ ও নিষ্প্রাণ প্রান্তরকে বুঝিয়েছেন। আলোচ্য কবিতাটিতে নিঃসঙ্গ ও নিষ্প্রাণ প্রকৃতি এবং কবির চেতনা যেন একাত্ম হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে শীতকালীন প্রকৃতি যেমন তার সজীবতা হারিয়ে রুক্ষমূর্তি ধারণ করেছে, তেমনি শোকে মুহ্যমান কবির চেতনাও যেন প্রিয়জনের চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিষণ্নতার রূপ পরিগ্রহ করেছে। আর তাই অকালে অপ্রাপ্তি নিয়ে স্বজনের চলে যাওয়ার এ বিষয়টিকে তিনি 'পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে' বলে অভিহিত করেছেন। গ. প্রিয়জন হারানোর বিরহ বেদনাকে উপজীব্য করার দিক থেকে উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষয়বস্তুর প্রতিফলন ঘটেছে। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় স্মৃতিকাতর ব্যক্তিমনের বেদনার আবেগঘন প্রকাশ ঘটেছে । কবিতাটিতে বসন্ত-প্রকৃতির অনুষঙ্গে ভর করে ব্যক্তিহৃদয়ের বেদনাবোধের অসাধারণ অভিব্যক্তি ঘটিয়েছেন কবি। এছাড়াও এ কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল বসন্ত ও শীত ঋতুর প্রতীকে জীবনের কোমল ও রুদ্ররূপকে উন্মোচন করেছেন। উদ্দীপকের রতন হঠাৎ করেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যু স্ত্রী রত্নার জীবনে ছন্দপতন ঘটায়। পরবর্তী সময়ে আরেকজনের সঙ্গে রত্নার বিয়ে হলেও রতনের কথা সে কোনোভাবেই ভুলতে পারেনি। সকল কাজের প্রেরণাদাতা রতনের স্মৃতি সর্বদাই তার মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। একইভাবে, আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনেরও আকস্মিক মৃত্যু হয়। ফলে কবির জীবনে নেমে আসে শূন্যতা। সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামীর মৃত্যু কবির জীবনে বয়ে আনে দুঃসহ বিষণ্ণতা। এক্ষেত্রে যদিও উদ্দীপকের রত্না দ্বিতীয় বিয়ে করে সুখী হওয়ার চেষ্টা করেছে, তবুও প্রথম স্বামীকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি সে। এ বিবেচনায়, কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে হলেও উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতার বিষয়বস্তুর ছায়াপাত ঘটেছে। ঘ. শোকানুভূতির প্রগাঢ়তার দিক থেকে উদ্দীপকের রত্না আর ‘তাহারেই পাড়ে মনে' কবিতার কবির কষ্ট একসূত্রে গাঁথা ! 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবিহৃদয়ের শোকানুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাই সময়ের আবর্তনে প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও বিরহকাতর কবির কাছে আজ তা প্রকৃত অর্থেই মূল্যহীন। একদা পুষ্প, বৃক্ষ, পাখি তথা প্রকৃতির মহাসমারোহে কবির জীবন পূর্ণতা লাভ করলেও এখন তাঁর মনে কেবলই শূন্যতাবোধের হাহাকার। উদ্দীপকের রত্নার স্বামী দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরে আবার বিয়ে করলেও রতনের স্মৃতি তাকে সর্বদাই তাড়িয়ে বেড়ায়। একইভাবে, আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যুতে কবির জীবনও বিষাদময় রিক্ততায় ভরে ওঠে। হাহাকার নেমে আসে জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে। অর্থাৎ প্রিয়জন হারানোর বিরহ-বেদনা উভয়কেই ভারাক্রান্ত করে তোলে। প্রিয়জনের মৃত্যু স্বভাবতই মানুষের হৃদয়কে শোকে কাতর করে তোলে । আর তা যদি হয় জীবনসঙ্গীর মৃত্যু তবে তা আরও বেশি বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে । আলোচ্য কবিতার কবির স্বামী ছিলেন তাঁর সকল কাজের উৎসাহদাতা। এমন একজন জীবনসঙ্গী হারিয়ে কবি নিমজ্জিত হন সীমাহীন কষ্টের সাগরে। ফলে বসন্ত এলেও কবিমনে শিহরণ জাগে না বরং তাঁর হৃদয় জুড়ে শীতের রিক্ততা, অর্থাৎ স্বামী বিরহের বেদনাবিধুর অনুভূতিই সদা জাগরূক থাকে। এরকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে উদ্দীপকের রত্নার ক্ষেত্রেও। তাই প্রাণপ্রিয় স্বামীর মৃত্যুতে তার সুখময় জীবনের ছন্দপতন ঘটেছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2019)

রত্না ও রতনের দাম্পত্য জীবন বেশ সুখে-শান্তিতেই কাটছিল। কিন্তু বিনা মেঘে বজ্রপাতের ন্যায় মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল রতন। কালের বিবর্তনে জীবন নামের একজন ভালো মানুষের সাথে রত্নার পুনরায় বিয়ে হলেও প্রথম স্বামীর স্মৃতি এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারেনি সে। কেননা, প্রথম স্বামী ছিল তার সকল কাজের সহযোগী ও প্রেরণাদাতা । প্রতি বসন্তে রত্না তাই প্রথম স্বামীর কথা বিশেষভাবে স্মরণ করে নীরবে কাঁদে। কারণ, তার ভালোবাসার মানুষটি বসন্তকালের পূর্বলগ্নেই, তাকে ছেড়ে চিরবিদায় নিয়েছে। 

ক. ‘কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি'– কার কথা বলা হয়েছে?

খ. ‘পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে'— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. “উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষয়বস্তু ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে ।”— বুঝিয়ে লেখো।

ঘ. “উদ্দীপকের রত্না আর ‘তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির কষ্ট একসূত্রে গাঁথা।”— বিশ্লেষণ করো

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'বেজেছে কি আগমনী গান?' উক্তিটিতে কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?

'হে কবি, নীরব, কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়'-এ চরণটিতে 'নীরব কেন' বলতে কবির কোন অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে?

'কুহেলি' শব্দের অর্থ কী?

ঈশিতা বাংলা বিভাগের উচ্ছল প্রাণবন্ত মেয়ে। আড্ডার আসরকে সে মাতিয়ে রাখে। বাংলা বিভাগ প্রতিবারের মতো এবারও বসন্ত উৎসব পালনে...

তোমার পঠিত কোন কবিতাটি সংলাপনির্ভর?

পুনর্মিলন অনুষ্ঠানের প্রস্তাবনা, পরিকল্পনা, প্রযোজনা ও কর্মপন্থা নির্ধারণে পাঁচ মাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করে আয়োজন প্রায় ...

“হে কবি, নীরব কেন? ফাগুন যে এসেছে ধরায়!”- এ চরণটিতে ‘নীরব কেন’ বলতে কবির কেমন অবস্থা বোঝায়?

বষণ্ণ বিরহী বাতাস মনের জানালায় দেয় উঁকি। উš§না মন আজ মাধবীর। পড়ন্ত বিকেলে দখিনের বারান্দায় বেদনার রাগিনী ওঠে তার। শোকের ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নটির উত্তর দাও: জাতীয় দলের খেলোয়াড় মুন্না তিন বছরের শিশুপুত্রকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান। না ফেরার দেশে ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নটির উত্তর দাও: জাতীয় দলের খেলোয়াড় মুন্না তিন বছরের শিশুপুত্রকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান। না ফেরার দেশে ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।