Facebook Pixel

পড়াশুনা শেষ করে সবিতা এখন গ্রামের একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বছর কয়েক আগে শহরের এক ধনী ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে তাঁর বিবাহ স্থির হয়। পাত্রপক্ষ বিয়েতে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করলে তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। সবিতা নিজেই যৌতুককে প্রত্যাখ্যান করে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পিতা-মাতা ও সহকর্মীদের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তাঁর চিন্তা চেতনায় কোনো পরিবর্তন আনেননি। তিনি ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণ। মায়ের মতো ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখেন সবাইকে। তিনি বলেন, “দেশকে মাতৃজ্ঞানে সেবা করা, দেশকে ভালোবাসা প্রত্যেকের কর্তব্য।" পরহিতে জীবন উৎসর্গ করাই তাঁর ধর্ম। ক. অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কাজ করে? খ. "এইটে একবার পরখ করিয়া দেখো।” ব্যাখ্যা কর। গ. “উদ্দীপকের 'সবিতা' ও 'অপরিচিতা' গল্পের 'কল্যাণী' উভয়েই যৌতুকের শিকার। " মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। ঘ. “সবিতার দেশপ্রেম কল্যাণীর মাতৃআজ্ঞার সাথে একই সূত্রে গাঁথা।”-উক্তিটির যথার্থতা বিচার কর।

বিষয়: বাংলা ১ম পত্র | অধ্যায়: গদ্য - অপরিচিতা

উৎস: Board Exam Question DB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. অনুপমের বন্ধু হরিশ কানপুরে কাজ করে। খ. শম্ভুনাথ সেন আলোচ্য উক্তির মধ্য দিয়ে একজোড়া এয়ারিং সেকরার হাতে দিয়ে তা খাঁটি সোনার কি না পরখ করে দেখতে বলেছেন।'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের সঙ্গে শম্ভুনাথ সেনের কন্যা কল্যাণীর বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু অনুপমের মামার চরম যৌতুকলোভী মানসিকতার প্রকাশ ঘটে বিয়ের আসরে। যৌতুকের গহনা কল্যাণীর শরীর থেকে খুলে পরীক্ষা করান অনুপমের মামা। তখন শম্ভুনাথ সেন এক জোড়া এয়ারিং এগিয়ে দেন সেকরার হাতে তা পরখ করে দেখার জন্য। কেননা সেটা ছিল অনুপমের মামার দেওয়া বিলাতি জিনিস, যাতে সোনার ভাগ আছে সামান্যই। গ. "উদ্দীপকের 'সবিতা' ও 'অপরিচিতা' গল্পের 'কল্যাণী' উভয়েই যৌতুকের শিকার।”- মন্তব্যটি যথার্থ। যৌতুকপ্রথা একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি আমাদের সমাজে ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। বরপক্ষের দাবি পূরণ করতে কন্যার পিতাকে কখনো কখনো সর্বস্বান্ত হতে হয়। বিয়েতে যারা যৌতুক দাবি করে তারা আত্মসম্মানবোধহীন অমানবিক প্রকৃতির লোক। উদ্দীপকে যৌতুকের জন্য বিয়ে ভেঙে যাওয়া এবং যৌতুক দিয়ে বিয়ে না করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে মানবকল্যাণে আত্মনিবেদনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে যৌতুককে প্রত্যাখ্যান করে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে সবিতার অটল থাকার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পিতা-মাতা ও সহকর্মীদের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও সবিতা আর বিয়ে করতে চাননি। এ বিষয়টি 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর বিয়ে করতে না চাওয়ার সঙ্গে মিলে যায়। উদ্দীপকে সবিতাকে বিয়ে করতে আসা বর শহরের ধনী ব্যবসায়ীর ছেলে হলেও মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করে লোভী মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে 'অপরিচিতা' গল্পে বরপক্ষ কল্যাণীর গহনা পরীক্ষা করতে বিয়েবাড়িতে সেকরা নিয়ে এসেছে এবং অত্যন্ত অমর্যাদাকরভাবে কনের শরীর থেকে গহনা খুলে নিয়ে তা খাঁটি কি না পরীক্ষা করেছে। তাই কল্যাণীর বিয়ে হয়নি। এই দিক বিচারে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। ঘ. "সবিতার দেশপ্রেম কল্যাণীর মাতৃআজ্ঞার সাথে একই সূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ। দেশসেবা মহৎ কাজ। যৌতুকলোভীদের অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে বহু নারী বিয়ে না করে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করে থাকেন। এমনকি পরাধীন না থেকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করেন। 'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন বরযাত্রীদের যথার্থ আপ্যায়ন শেষে বিয়ে ভেঙে দেন। কারণ বিয়ের আসরে বরের মামা কনের শরীর থেকে গহনা খুলে এনে পরীক্ষা করতে চাইলে তিনি ব্যথিত হন। তাই তিনি কোনো হীন মানসিকতার মানুষের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কে জড়াতে চাননি। কল্যাণী তার বাবার সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে নিজের আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিত্বকে রক্ষা করেছে। গল্পের কল্যাণীর এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে উদ্দীপকের সবিতার সিদ্ধান্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে সবিতার বাবা-মা ও সহকর্মীরা চাইলেও সবিতা বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থেকেছে। এ বিষয়টি কল্যাণীর বিয়ে না করার সিদ্ধান্তের অনুরূপ। 'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের সঙ্গে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যায় পাত্র অনুপমের মামার লোভী মানসিকতা এবং বিয়ের আসরে কনের শরীর থেকে গহনা খুলে সেকরা দিয়ে পরীক্ষা করানোর কারণে। উদ্দীপকের সবিতাও যৌতুকলোভী ধনী ব্যবসায়ী ছেলেকে বিয়ে করেননি। তিনি পড়াশুনা শেষ করে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং শিক্ষাদানের মাধ্যমে দেশসেবার কাজ বেছে নিয়েছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2022)

পড়াশুনা শেষ করে সবিতা এখন গ্রামের একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বছর কয়েক আগে শহরের এক ধনী ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে তাঁর বিবাহ স্থির হয়। পাত্রপক্ষ বিয়েতে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করলে তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। সবিতা নিজেই যৌতুককে প্রত্যাখ্যান করে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পিতা-মাতা ও সহকর্মীদের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তাঁর চিন্তা চেতনায় কোনো পরিবর্তন আনেননি। তিনি ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণ। মায়ের মতো ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখেন সবাইকে। তিনি বলেন, “দেশকে মাতৃজ্ঞানে সেবা করা, দেশকে ভালোবাসা প্রত্যেকের কর্তব্য।" পরহিতে জীবন উৎসর্গ করাই তাঁর ধর্ম।

ক. অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কাজ করে?

খ. "এইটে একবার পরখ করিয়া দেখো।” ব্যাখ্যা কর।

গ. “উদ্দীপকের 'সবিতা' ও 'অপরিচিতা' গল্পের 'কল্যাণী' উভয়েই যৌতুকের শিকার। " মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

ঘ. “সবিতার দেশপ্রেম কল্যাণীর মাতৃআজ্ঞার সাথে একই সূত্রে গাঁথা।”-উক্তিটির যথার্থতা বিচার কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'আমি যা বলিব তাই হইবে'-'অপরিচিতা' গল্পে উক্তিটি কার?

কন্যার রূপ-গুণের বর্ণনায় বিনুদাদা বলেছিলেন- i. মন্দ নয় হে। ii. খাঁটি সোনা বটে! iii. খাঁটি সোনা হে; নিচের কোনটি সঠিক?

'দক্ষযজ্ঞ' শব্দের অর্থ কী?

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পান?

নাম তার অনামিকা। সে তার পিতামাতাসহ পরিবারের সকলকে জানিয়ে দিয়েছে বিয়ের বাজারে সে পণ্য হতে চায় না। কথাটি এলাকায় ছড়িয়ে যাওয়...

“সে নিজের চারদিকের সকলের চেয়ে অধিক রজনীগন্ধার শুভ্র মঞ্জরির মতো সরল বৃন্তটির উপরে দাঁড়াইয়া, যে গাছে ফুটিয়াছে সেই গাছ...

"অপরিচিতা" গল্পের শীর্ষ মুহূর্ত (গ্ৰন্থিবন্ধন) কোনটি?

নিবেদিতা তার স্বামী প্লাবনসহ বইয়ের দোকানে এসে অবাক হলেন। ফোনে নিবেদিতা বই বিক্রেতাকে বইয়ের নাম, সংখ্যা, প্রকাশনী, কমিশ...

“তিনি কোনোমতেই কারো কাছে ঠকিবেন না।” – ‘তিনি’ বলতে ‘অপরিচিতা’ গল্পে কাকে বোঝানো হয়েছে?

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নটির উত্তর দাও: আদিব ও শাফিক দুই বন্ধু। আবিদ অহংকারী, নির্জীব, পৌরুষশূন্য। অন্যদিকে শাফিক উচ্ছল, রসি...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।