ক.
পাহাড়ের গায়ে ঢালু এলাকায় জঙ্গল কেটে পুড়িয়ে যে চাষ করা হয় তাকে জুম চাষ বলে।
খ.
কৃষিক্ষেত্রে জলবায়ুর প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ একটি এলাকায় কোন ফসল উৎপাদন করা যাবে তা নির্ভর করে জলবায়ুর উপাদান-আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ, সূর্যালোকের উপস্থিতির উপর। যে স্থানে উক্ত উপাদানগুলো যেভাবে পাওয়া যায় তার উপর নির্ভর করে সে স্থানে সে ধরনের ফসল উৎপাদন করা হয়। যেমন- বাংলাদেশের আখ চাষের জন্য ১২৫-১৭৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত, বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, ১৯°-৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং সূর্যের আলোর উপস্থিতি প্রয়োজন।
গ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশটি হলো বাংলাদেশ। উক্ত দেশের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাখ্যা করা হলো:
বর্তমানে বাংলাদেশে উন্নতমানের বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার প্রয়োগে কৃষির উৎপাদন দ্রুততর হচ্ছে। ১৯৭০ দশক থেকে বাংলাদেশে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ তথা কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। বর্তমানে চাষাবাদে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় যন্ত্রপাতির সঙ্গে সঙ্গে আমদানিকৃত ট্রাক্টর, মেলবোর্ড লাঙল, পাওয়ার টিলার, পাওয়ার পাম্প, ড্রিল, উইডার, হ্যান্ড হো, স্পেয়ার, থ্রেসার (মাড়াই, যন্ত্র) প্রভৃতি আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ফসল উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি ড্রামসিডার নামক যন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে বীজ বপনের পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে যা থেকে কৃষকরা অধিক ফসল পাচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৃষিখাতের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কৃষির অগ্রগতি প্রয়োজন। আর কৃষির অগ্রগতির নেপথ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, একই জমিতে অধিকবার ব্যবহার এবং কীটনাশক ব্যবহার, ভূনিম্নস্থ পানি সেচের ব্যবহার, বীজ বপন মেশিন, ফসল কাটার মেশিন, মাড়াই-ঝাড়াই যন্ত্র প্রভৃতি ব্যবহারে কৃষিতে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকের দেশটি হলো বাংলাদেশ। এই দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কৃষির ক্ষেত্র ফসল উৎপাদন, পশুপালন ও মৎস্য পালন প্রভৃতির ভূমিকা অপরিসীম। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশের খাদ্যশস্য হিসেবে এবং অর্থকরী ফসল হিসেবে দুধরনের কৃষি ফসল উৎপাদন হয়। খাদ্যশস্যের মধ্যে ধান, গম, ডাল, তেল বীজ, আলু, ভুট্টা, সবজি, ফলমূল প্রভৃতি। অর্থকরী ফসলের মধ্যে রয়েছে পাট, চা, আখ, তুলা, তামাক, ফুল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
উল্লিখিত খাদ্যশস্যগুলো যে এদেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদার অনেকাংশেই মিটিয়ে থাকে। এতে দেশজ উৎপাদনের কারণে বিদেশ থেকে কম আমদানি করতে হয়। ফলে অর্থনৈতিকভাবে দেশে খাদ্যশস্যতে সাশ্রয়ী অবস্থা বিরাজ করে। অন্যদিকে অর্থকরী ফসল উৎপাদন করায় যেমন- চা, পাট প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে কৃষির উপখাতগুলোর মধ্যে পশুপালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ উপখাতে প্রধানত হাঁস, মুরগি, গবাদিপশু বিভিন্ন ধরনের পাখি রয়েছে। উক্ত পশুপাখিগুলো বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার মানুষ প্রতিপালন করে নিজেদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করছে। অনেক দরিদ্র ও বেকার লোকজন উক্ত পশুপাখি প্রতিপালন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এতে দেশের জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে।
এছাড়াও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে মৎস্য চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের চারদিকে নদীগুলো জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে এবং দক্ষিণে রয়েছে বিশাল বঙ্গোপসাগর। উক্ত নদনদী এবং সাগরে নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এটি কেবল খাদ্যই নয়, বরং রপ্তানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন হয়। দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। মৎস্য আমাদের প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ পূরণ করে থাকে। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের পরিমাণ ৪৭৮২৫ লাখ হেক্টর, যেগুলো রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ, ঘনিয়া, ইলিশ, চিংড়ি, বোয়াল, পাঙ্গাস, শোল, মাগুর, শিং, কই প্রভৃতি মাছ চাষ ও উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশ মাছ রপ্তানিতে বিশ্বে সপ্তম। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে চিংড়ির অবস্থান চতুর্থ।
সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে উল্লিখিত কৃষিখাতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।.