ক.
ভূপৃষ্ঠের কোনো সুউচ্চ শিলারাশি কোনো প্রাকৃতিক শক্তিসমূহ (সূর্যতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, হিমবাহ) দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হবার সময় অপেক্ষাকৃত কঠিন শিলাস্তূপ অপসারিত না হয়ে পাহাড় ও পর্বতরূপে অবস্থান করে। এরূপ সৃষ্ট পর্বতকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে।
খ.
নদীপাড়ে বসবাসকারী মানুষদের পালিত পশুসম্পদ, ফসলি জমি এবং উঠতি ফসলের যে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় তা নদী প্রভাবিত এলাকায় সাময়িকভাবে বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসে। প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন, ছিন্নমূল হয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়। এর ফলে বেড়ে যাচ্ছে সামাজিক ও পারিবারিক সংকট, বাড়ছে বেকারত্ব। এজন্য নদীভাঙন রোধে নদীর স্রোত- নিয়ন্ত্রণ তথা নদী শাসন একান্ত প্রয়োজন।
গ.
উদ্দীপকে 'ক' দুর্যোগটি হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতকে বোঝানো হয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই দুর্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:
ভূত্বকের সর্বত্র সমান শক্ত বা পুরু নয়। কোনো কোনো স্থানে ফাটল বা দুর্বল শিলা থাকে। এসব স্থানে সহজেই সুড়ঙ্গের সৃষ্টি করে অগ্ন্যুৎপাত ঘটতে পারে। ভূপৃষ্ঠ থেকে নিচের দিকে যতই গভীরে যাওয়া যায়, তাপমাত্রা ততই বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ৩০ মিটার গভীরতার ১০ সে. তাপ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু উপরের শিলাস্তরের চাপের কারণে ভূঅভ্যন্তরের চাপ ও তাপের সাম্যাবস্থা বিরাজ করায় পদার্থগুলো স্থিতিস্থাপক নমনীয় অবস্থায় বিদ্যমান থাকে। কোনো কারণে চাপ বা তাপসমতা নষ্ট হলে অভ্যন্তরীণ পদার্থগুলো তরল হয়ে ম্যাগমায় পরিণত হয় এবং ফাটল দিয়ে ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠে বের হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।
মধ্য মহাসাগরীয় প্লেটের অপসারণ এবং মহাদেশীয় মহাসাগরের প্লেটের সংকোচনের ফলে ভূত্বকের ফাটল বা ছিদ্র দিয়ে সমুদ্রের পানি ভূগর্ভে প্রবেশ করে অভ্যন্তরীণ প্রচন্ড উত্তাপে ঐ পানি বাষ্পীভূত হয়ে আয়তন বৃদ্ধি পায়। এসব বাষ্প বিভিন্ন প্রকার গ্যাসের সাথে মিশে ঊর্ধ্বচাপের সৃষ্টি করে এবং ভূত্বকের ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।
ভূঅভ্যন্তরের যেসব স্থানে তেজস্ক্রিয় পদার্থের (রেডিয়াম, থোরিয়াম, ইউরেনিয়াম) পরিমাণ বেশি সেখানে এগুলোর তাপ বিকিরণের ফলে তাপসমতা নষ্ট হয় এবং আশেপাশের শিলা গলে ম্যাগমায় পরিণত হয়। পরে এটি ফাটল দিয়ে বের হয়ে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়।
ভূপৃষ্ঠ সর্বদা তাপ বিকিরণ করে শীতল ও সংকুচিত হচ্ছে। এতে ভূত্বকে ভাঁজের সৃষ্টি হয় ও চাপ হ্রাস পায়। তখন ভূত্বক ফেটে নানা ছিদ্র ও ফাটলের সৃষ্টি করে যা অগ্ন্যুৎপাতে সহায়তা করে।
সুতরাং বলা যায়, উপরোল্লিখিত কারণে আগ্নেগিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
ঘ.
উদ্দীপকে 'খ' দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্প। উক্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের প্রবল ঝাঁকুনিতে ভূপৃষ্ঠের উপরে ওঠে বা নিচে নেমে গিয়ে ভূপৃষ্ঠের বিকৃতি ঘটায়। যেমন- ১৯০৬ সালের ভূমিকম্পের প্রবল ঝাঁকুনিতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা ১০-১৫ মিটার উঁচু হয়েছিল। ১৮৯৭ সালে আসামের ভূমিকম্পে ১৯.৩ কি.মি. দীর্ঘ এবং ১০.৬ মিটার প্রস্তুচ্যুতি সৃষ্টি হয়েছিল।"
নদনদীর গতির উপর ভূমিকম্পের প্রভাব ব্যাপক। ভূমিকম্পের ফলে মাটি, বালুকা প্রভৃতি জমা হয়ে নদীর গতি পরিবর্তিত বা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে নদী শুকিয়ে যায় অথবা শুষ্ক ভূমিতে জলাভূমির সৃষ্টি হয়। যেমন- ১৯৫০ সালে আসামের ভূমিকম্পে দিবং নদীর গতি পরিবর্তিত হয়।
ভূমিকম্পের ফলে ভূমির উত্থান ও পতন হয়। যেমন- কখনো কখনো উচ্চভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হয় অথবা সমভূমি অঞ্চলে বসে গিয়ে তথায় পানি জমে হৃদের সৃষ্টি হয়। আবার সমুদ্রের তলদেশের কোনো স্থান উঁচু হয়ে সমুদ্রের মধ্যে দ্বীপের সৃষ্টি হয়।
ভূমিকম্পের প্রবল ঝাঁকুনিতে পর্বতগাত্র হতে বৃহৎ বরফের খন্ডগুলো নিচে পতিত হয়ে হিমানি সম্প্রপাতের সৃষ্টি করে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূমিকম্পের ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়। ভূমিকম্পের ধাক্কায় সমুদ্রের পানি তীর হতে নিচে নেমে যায় এবং পরক্ষণেই ভীষণ গর্জন করে ১৫-২০ মিটার উঁচু হয়ে ঢেউয়ের আকারে উপকূলে এসে বন্যার সৃষ্টি করে।
ভূমিকম্পের ফলে পার্বত্য অঞ্চলে বিশাল শিলা খণ্ড হঠাৎ নিচে পতিত হয় এবং পর্বতের পাদদেশে ব্যাপক ক্ষতি করে।
সুতরাং বলা যায়, ভূমিকম্পের ফলে উল্লিখিত নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াও অসংখ্য ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়, বৃক্ষাদি নষ্ট হয় এবং অগণিত জীবজন্তু ও মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এটি যেহেতু আকস্মিক দুর্যোগ এবং এই দুর্যোগে পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেক বেশি হয়।