Facebook Pixel

ক. সুনামি শব্দের অর্থ কী? খ. বিচূর্ণীভবন ও নগ্নীভবনের পার্থক্য ব্যাখ্যা কর। গ. চিত্রে নির্দেশিত 'ক' ও 'খ' অঞ্চলের বর্ণনা দাও। ঘ. চিত্রের 'গ' চিহ্নিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ভূগোল ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ পৃথিবীর গঠন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. সুনামি অর্থ বন্দরের ঢেউ। জাপানি ভাষায় পোতাশ্রয়ের ঢেউ। খ. যান্ত্রিক রাসায়নিক ও জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের শিলারাশি চূর্ণবিচূর্ণ হয়। অন্যদিকে বিচূর্ণীভূত পদার্থসমূহ ক্ষয়সাধনের ফলে অপসারিত 'হলে নিচের অবিকৃত শিলা নগ্ন হয়। তাই বিচূর্ণীকরণ ও নগ্নীভবনের সাথে বৈশিষ্ট্যগত কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। শিলারাশির চূর্ণবিচূর্ণ ও বিশ্লিষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়াকে বিচূর্ণীভবন বলে। বিচূর্ণীভবনের ফলে ভূত্বকের উপরিস্তরের শিলা ভেঙেচুরে শিথিল হয়ে পড়ে কিন্তু অপসারিত হয় না। অন্যদিকে, বিচূর্ণীভবনের সময় শিলা চূর্ণবিচূর্ণ ও বিশ্লিষ্ট হয় এবং পরে ক্ষয়ীভবনের দ্বারা এ শিলা অপসারিত হলে নিচের শিলারাশি নগ্ন হয়ে পড়ে। এরূপ কার্যকে বলা হয় নগ্নীভবন। বিচূর্ণীভবন ও ক্ষয়ীভবনের মিলিত কাজই নগ্নীভবন। গ. চিত্রে নির্দেশিত 'ক' অঞ্চলটি হলো বরেন্দ্রভূমি এবং 'খ' অঞ্চলটি হলো মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়। এগুলো প্লাইস্টোসিন কালের সোপান সমভূমির অন্তর্গত। বাংলাদেশের দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চল নিয়ে এ বরেন্দ্রভূমি অঞ্চল গঠিত। এ অঞ্চলের আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার বা ৩,৬৩৪ বর্গমাইল। বরেন্দ্রভূমি প্লাবন সমভূমি থেকে প্রায় ৬ থেকে ১২ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। এ অঞ্চলটি প্লাইস্টোসিন যুগের উচ্চভূমি। সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলটি পুনর্ভবা, আত্রাই ও যমুনা নদী দ্বারা চারটি অংশে বিভক্ত। এ অঞ্চলের মাটির রং ধূসর ও লালচে। এ অঞ্চলে গভীর খাতবিশিষ্ট আঁকাবাঁকা ছোট ছোট কয়েকটি স্রোতস্বিনী রয়েছে। এগুলো খাড়ি নামে পরিচিত। বরেন্দ্র অঞ্চলটি কৃষিতে বিশেষভাবে উপযোগী। কৃষিজ ফসলের মধ্যে ধানই প্রধান। ধান ছাড়াও পাট, ভুট্টা, পান প্রভৃতি কিছু কিছু উৎপন্ন হয়ে থাকে এ অঞ্চলে। টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধ্যবর্তী মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোপান অঞ্চল অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৫ বর্গকিলোমিটার। উত্তর দিকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং দক্ষিণে ৬ মিটার। এ অঞ্চলটি পাহাড়ের ক্ষয়িত অংশবিশেষ। অনেকে এ অঞ্চলকে 'নদীসোপান' আবার কেউ কেউ 'উত্থিত বদ্বীপও' বলেন। এখানে পত্র পতনশীল বৃক্ষের বনভূমি গড়ে উঠেছে। এ বনভূমির প্রধান বৃক্ষ গজারি বা শাল। এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে ও ধূসর। মূলত অঞ্চলটি ক্ষয়জাত সমভূমি। প্লাইস্টোসিনকালে নদী ও বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়ক্রিয়ায় এ ভূমিরূপ গড়ে উঠেছে। ঘ. উদ্দীপকের চিত্রের 'গ' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ যেগুলো টারশিয়ারি যুগের অন্তর্ভুক্ত। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে অবস্থিত পাহাড়সমূহ নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এ পাহাড়সমূহ বিশাল পাললিক সমভূমি সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে বৈচিত্র্যময় ও অপরূপ করে তুলেছে। ভাঁজগ্রস্ত এ পাহাড়গুলো উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে অবস্থিত। পাহাড়ের মাঝে মাঝে বহু সংকীর্ণ উপত্যকা বিদ্যমান। এ উপত্যকা দিয়ে পার্বত্য নদীগুলো পাহাড়সমূহ বরাবর প্রবাহিত হয়েছে এবং পরে মোড় ফিরিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এ নদীগুলো হলো কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, হালদা, কাসালং, নাফ প্রভৃতি। পাহাড়ি এলাকার নদীগুলো বেশ খরস্রোতা, তাই পানিবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী। ফলে কর্ণফুলী নদীর উজানে কাপ্তাইয়ে বাঁধ দিয়ে পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন সহজ হয়েছে। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড পাহাড়ের গায়ে কতিপয় উষ্ণ প্রস্রবণ আছে। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার। কিন্তু পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে পাহাড়গুলোর উচ্চতা ক্রমশ বেশি। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়সমূহ থাকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। পাহাড়িয়া অঞ্চলের কারণে এ অঞ্চলে অনেকগুলো নদী জালের মতো বিস্তৃত। তাছাড়া পাহাড়সমূহের চারদিকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। এগুলো অঞ্চলটিকে চিরসবুজ রাখতে সহায়তা করছে। পাহাড়িয়া অঞ্চলের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের খনিজ সম্পদ রয়েছে যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করছে। পাহাড়িয়া অঞ্চল ঢালু হওয়ায় এখানে প্রচুর বৃষ্টি হয়। যার কারণে এ অঞ্চলে চা বাগান গড়ে ওঠেছে। অন্যদিকে পাহাড়িয়া নদীর ঝর্ণাকে কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র করা হয়েছে। এছাড়া এখানকার বনজ সম্পদ থেকে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এখানকার উদ্ভিদ যেমন- বাঁশ কাজে লাগিয়ে কাগজ তৈরির মিল স্থাপন করা হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রামের পাহাড়সমূহের অন্তর্গত ভূপ্রকৃতির বৈচিত্র্যময়তার কারণে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর ফলে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

ক.

সুনামি শব্দের অর্থ কী?

খ.

বিচূর্ণীভবন ও নগ্নীভবনের পার্থক্য ব্যাখ্যা কর।

গ.

চিত্রে নির্দেশিত 'ক' ও 'খ' অঞ্চলের বর্ণনা দাও।

ঘ.

চিত্রের 'গ' চিহ্নিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

SiAI স্তর কোনটি? [ভোলা সরকারি কলেজ]

ক. বিযুক্তিরেখা কী? খ. অ্যাসথেনোস্ফিয়ার বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'খ' চিহ্নিত ভূমিরূপটির বৈশিষ্ট্য আলোচনা...

ক. আগ্নেয়গিরির সংজ্ঞা দাও। খ. মালভূমি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের চিহ্নিত ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের বর্ণনা দাও ঘ. উ...

ক. ভূত্বকের সংজ্ঞা দাও। খ. ভঙ্গিল পর্বত কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত স্তরটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্য...

ক. ভূগোল কাকে বলে? খ. পাহাড় ও পর্বতের মধ্যে বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর। গ. চিত্রের 'A' অঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা...

ক. সমভূমি কাকে বলে? খ. পৃথিবীর ছাদ বলতে কী বোঝায়? গ. 'ক' চিহ্নিত পর্বতটি কীভাবে গঠিত হয়েছে-ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের আলো...

ক. লোয়েস সমভূমি কাকে বলে? খ. ভূমিকম্পের কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি প্রাকৃতিক ভূগোলের কোন শাখায় আলোচিত...

ক. অশ্বক্ষুরাকৃতির হ্রদ নদীর কোন পর্যায়ে সৃষ্টি হয়? খ. বাংলাদেশে ভূমিধসের কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের 'ক' ভূমিরূপের ব...

ক. স্রস্ত উপত্যকা কী? খ. মালভূমি সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা কর। গ. ছকে 'ক' চিহ্নিত পর্বতটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. ছকে 'খ'...

ক. প্রাকৃতিক ভূগোল কী? খ. অজৈব উপাদানগুলো ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' স্তরের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।