ক.
সার্কের সদর দপ্তর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।
খ.
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো-"সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়”। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং সমতা বজায় রাখা। এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে বিশ্বাসী।
গ.
উদ্দীপকে আঞ্চলিক সংস্থা সার্কের কথা বলা হয়েছে। সার্কের কতকগুলো উদ্দেশ্য রয়েছে।
সার্ক (South Asian Association for Regional Cooperation-SAARC) হলো দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা এবং এটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সার্ক সনদ অনুযায়ী সার্কের কতগুলো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।
সার্কের উদ্দেশ্যগুলো হলো- প্রথমত, দক্ষিণ এশিয়ার জনসাধারণের কল্যাণ সাধন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। দ্বিতীয়ত, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন এবং অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা; সদস্য দেশগুলোর মর্যাদা সমুন্নত রেখে সহাবস্থানের সব ধরনের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করা। তৃতীয়ত, সার্কভুক্ত দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সহায়তা দান। চতুর্থত, আস্থার রিবেশ সৃষ্টি ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করা। পঞ্চমত, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। ষষ্ঠত, বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধি। সপ্তমত, সর্বজনীন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করা। অষ্টমত, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা।
ঘ.
'একতা' সংস্থা অর্থাৎ ওআইসির সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ- উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত আন্তর্জাতিক সংস্থা 'একতা' কেবল একটি ধর্মের অনুসারীদের প্রধান দেশগুলো নিয়ে গঠিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থা 'ওআইসি'কে নির্দেশ করে। কেননা আন্তর্জাতিক সংস্থা 'ওআইসি' কেবলমাত্র ইসলাম ধর্মের অনুসারী প্রধান দেশগুলো নিয়ে গঠিত হয়েছে। ওআইসির সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কেননা ওআইসি'র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি সংহতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে যথাসম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। যেমন-ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামকে অব্যাহত সমর্থন জানিয়ে আসছে, ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, আফগানিস্তানে রাশিয়ার আগ্রাসনকে নিন্দা জানিয়েছে, বসনিয়া যুদ্ধ বন্ধের জন্য সৈন্য পাঠিয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী আরব দেশগুলোর উপকূলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কিন হামলার নিন্দা করে। বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ওআইসি-এর সম্মেলনে মুসলিম দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ১১ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলেন।
বাংলাদেশ ওআইসিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এ সংগঠন থেকে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগ সুবিধাও অর্জন করে। সৌদি আরব, ইরাক, কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত ও ইরানসহ অনেক মুসলিম রাষ্ট্রই বাংলাদেশকে আর্থিকভাবে বহু সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশের বহু পণ্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে রপ্তানি করা হচ্ছে। এছাড়া তেলসমৃদ্ধ এসব দেশে উল্লেখযোগ্য হারে দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক ও চাকরিজীবী, পেশাজীবী প্রেরণ করে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়াও শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বাংরাদেশ ওআইসি'র সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা লাভ করে আসছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, ওআইসি'র সাথে বাংলাদেশের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।