ক.
বিভিন্ন কারণে পরিবেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের যেকোনো নেতিবাচক পরিবর্তনই হলো দূষণ।
খ.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে নিম্নরূপ-
দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। দুর্যোগপরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।
গ.
উদ্দীপকের চিত্রে 'ক' হলো পূর্বপ্রস্তুতি এবং 'খ' হলো পুনরুদ্ধার পর্যায়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতিতে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি। এটি চিহ্নিত করতে পারলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হ্রাস করা যায়। কেননা চিহ্নিত এলাকায় আগে থেকেই কিছু পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করলে দুর্যোগের ঝুঁকি কম হয়। এক্ষেত্রে দুর্যোগের পূর্বে দুর্যোগসংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে দুর্যোগের পরবর্তী কার্যক্রম সহজ হয়। তবে পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয় যেন দুর্যোগের পরে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে। প্রয়োজনে দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে গ্রহণ করা হয় যেন জনগোষ্ঠীর সম্পদ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগপরবর্তী সময়ে পুনরুদ্ধার পর্যায় শুরু হয়। এ স্তরে দুর্যোগ কবলিত এলাকাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। দুর্যোগে যেসব সম্পদ, মানুষ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। পুনরুদ্ধার পর্যায়ে দুর্যোগ এলাকার মানুষের জন্য বিভিন্ন সংস্থা, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন, ভিটামিন, ওষুধপত্র ইত্যাদি সরবরাহ করা হয় যেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা থেকে দ্রুত উদ্ধার পায়। সাধারণত পুনরুদ্ধার পর্যায়ে যেসব পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা যায় তা হলো-দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার করা; ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য, পানীয়, ওষুধ ও সেবা প্রদান; ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং অন্যান্য সাহায্য প্রদান; প্রয়োজনে বিদেশি সাহায্য-সহযোগিতা গ্রহণ; ক্ষতিগ্রস্তদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা এবং পূর্বে ঋণগ্রস্ত থাকলে ঋণ মওকুফ করা।
ঘ.
দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ প্রক্রিয়ার মুখ্য উপাদান। দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর মূল কাজ সম্পন্ন করতে হয়। দুর্যোগ সংঘটনের পর পরই এর প্রক্রিয়ার অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে। দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে। কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম, যেমন- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘরবাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়।
আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, 'দুর্যোগসংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা ভূমিকা অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা। দুর্যোগের পর পরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর পর পরই দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
পরিশেষে বলা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের বিপুল ক্ষতিসাধন করে। একে মোকাবিলা করে আমাদের জীবন ও সম্পদকে রক্ষা করতে হবে এবং একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।