ক.
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, অশ্মমণ্ডল ও বারিমণ্ডল জুড়ে যেখানে জীবের বসবাস, তাকে জীবমণ্ডল বলে।
খ.
প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিষয়বস্তুর বর্ণনা।
সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রাকৃতিক ভূগোলের প্রকৃতি পুনঃপুন পরিবর্তিত হচ্ছে। পৃথিবীর পরিবেশ যেসব জড় উপাদান ও সজীব উপাদান দ্বারা গঠিত তার অবস্থান, বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি প্রাকৃতিক ভূগোলের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। অর্থাৎ প্রাকৃতিক পরিবেশের বিশেষ করে বৈচিত্র্যময় ভূমিরূপ ও এর পরিবর্তন প্রক্রিয়া, বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু ও জীবমন্ডলের গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা করাই হলো প্রাকৃতিক ভূগোল।
গ.
উদ্দীপকের 'ক' শাখাটি হলো 'নদীর উৎপত্তি' যা প্রাকৃতিক ভূগোলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা ভূমিরূপবিদ্যা এর অন্তর্ভুক্ত।
ভূমিরূপবিদ্যায় পৃথিবীর সৃষ্টি, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, ভূআলোড়ন, পাহাড়, পর্বত, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, বায়ুর কার্য, হিমবাহের কার্য প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে - আলোচনা করে। এ শাখা থেকে আরও জানা যায়, পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত নানাপ্রকার মতবাদ, সৃষ্টির প্রথম অবস্থায় পৃথিবীর আকার ও আয়তন কেমন ছিল তার বিবরণ। ভূমিকম্প ও ভূআলোড়নের ফলে পৃথিবীর বিভিন্নস্থানে যে নানাপ্রকার ভূমিরূপের সৃষ্টি হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জ্ঞান লাভ করা যায়।
ভূমিরূপবিদ্যার প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে নদীর ভূমিকা অপরিসীম। নদী হলো ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক শক্তি। একটি নদীর উৎপত্তি থেকে শুরু করে তার শেষ সীমা (মোহনা) পর্যন্ত সে প্রতিনিয়ত ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটায়। নদী উৎপত্তির পর তার খরস্রোতা অবস্থায় পাহাড়-পর্বত ক্ষয় করে গিরিখাত বা ক্যানিয়ন তৈরি করে। ভূমিরূপবিদ্যা এই পরিবর্তনের কারণ ও প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে। নদী কীভাবে একটি অঞ্চলের প্রাথমিক ভূমিরূপকে ক্ষয় করে বার্ধক্য অবস্থায় নিয়ে যায়, তা ভূমিরূপবিদ্যায় বিস্তারিতভাবে পড়ানো হয়।
ঘ.
উদ্দীপকের ছকে 'খ' শাখাটির হলো জলবায়ুবিদ্যা এবং 'গ' শাখাটি সমুদ্রবিদ্যার অন্তর্গত। নিচের এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রাকৃতিক ভূগোলের যে শাখায় আবহাওয়া, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত, বৃষ্টিপাতের কারণ, ধরন প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাই জলবায়ুবিদ্যা। জলবায়ুতত্ত্ব পাঠের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। এ বিষয় পাঠে আমরা বায়ুমন্ডলের গভীরতা, বায়ুর স্তর বিন্যাস, বায়ুর উপাদান, বায়ুর ধর্ম, বায়ুর তাপ ও বায়ুর চাপ প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে পারি। বায়ুপ্রবাহের কারণ, বায়ুর দিক, বায়ুর শ্রেণিবিভাগ এবং বিভিন্ন প্রকার ঘূর্ণিবাতের বিষয়সমূহ জলবায়ুবিদ্যায় আলোচিত হয়। এছাড়াও বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প, বায়ুর আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের কারণ, বৃষ্টিবলয়, বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে জানা যায়।
অন্যদিকে সমুদ্রবিদ্যা শাখায় যাবতীয় সমুদ্র বিষয়ক উপাদান বর্ণনা করা হয়। এ শাখা সমুদ্রের উৎপত্তি, আকার, আয়তন, পৃথিবীর সাগর, মহাসাগর, উপসাগর, সাগরতলের ভূপ্রকৃতি, সমুদ্রস্রোতের কারণ, সমুদ্রস্রোত, সমুদ্র তরঙ্গ ও এর কার্য, সমুদ্রে বসবাসকারী প্রাণি ও উদ্ভিদের বিন্যাস, জোয়ারভাটা, জোয়ারভাটার প্রভাব, স্থলভাগের উপর সমুদ্রের প্রভাব প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।
যদিও শাখা দুটি ভিন্ন, তবুও এরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। যেমন : সমুদ্রের পানির বাষ্পীভবনের ফলেই মেঘের সৃষ্টি হয় এবং বৃষ্টিপাত ঘাট। আবার বায়ুমণ্ডলের বায়ুপ্রবাহের কারণেই সমুদ্রস্রোত নিয়ন্ত্রিত হয়। 'খ' বা জলবায়ুবিজ্ঞান মূলত ঊর্ধ্বাকাশ ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাব বলয় নিয়ে কাজ করে, অন্যদিকে 'গ' বা সমুদ্রবিজ্ঞান প্রথিবীর গভীর জলরাশির রহস্য ও সম্পদ উম্মোচনে কাজ করে। উভয় শাখাই পৃথিবীর সামগ্রিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।