ক.
যে প্রতিষ্ঠান সরকারি নীতি ও আদর্শের আওতায় একটি স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক পরিচালিত হয় তাকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বলে।
খ.
বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে NGO-সমূহ সরকারের অত্যন্ত কার্যকর সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। তারা ক্ষুদ্রঋণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মতো বহুমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। এছাড়া সরকারি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি এনজিওগুলো দুর্গম ও অবহেলিত এলাকায় দ্রুত সেবা পৌছাতে সাহায্য করে।
গ.
উদ্দীপকের ছক A (ট্রেড লাইসেন্স) নির্দেশ করছে একমালিকানা কারবারকে এবং ছক B (চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক) নির্দেশ করছে অংশীদারি কারবারকে। হাঁ, একমালিকানা ও অংশীদারি কারবারের মধ্যে মিল আছে।
যে কারবারে একজন মাত্র মালিক থাকে, মালিক নিজেই ব্যবসায় উপকরণ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে এবং এর লাভ-লোকসানের জন্যও তিনি দায়ী থাকে তাকে একমালিকানা কারবার বলে। অন্যদিকে, সকলের দ্বারা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যকার চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ককে অংশীদারি কারবার বলে। একমালিকানা ও অংশীদারি কারবার উভয়ই ব্যক্তিমালিকানাধীন কারবারি প্রতিষ্ঠান। নিচে এদের মধ্যকার মিলসমূহ আলোচনা করা হলো-
১. সহজভাবে গঠনযোগ্য: একমালিকানা ও অংশীদারি কারবার উভয়ই তুলনামূলক সহজে গঠন করা যায়। এক্ষেত্রে জটিল আইনগত প্রক্রিয়া নেই।
২. লাভের উদ্দেশ্যে গঠিত: একমালিকানা ও অংশীদারি কারবার উভয় প্রতিষ্ঠানই লাভ বা মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
৩. আইনি সত্তা আলাদা নয়: একক মালিকানা ব অংশীদারি মালিকদের ব্যবসা আলদা আইনি হিসেবে গণ্য হয় না।
৪. অসীম দায়: একক মালিক ও অংশীদাররা ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়ে ব্যবসার দায় পরিশোধে বাধ্য থাকে।
৫. পুঁজি সীমিত : একক মালিকানা বা অংশীদারি কারবার উভয়ক্ষেত্রেই পুঁজির উৎস সীমিত থাকে।
৬. সুষ্ঠু পরিচালনা: এ উভয় প্রতিষ্ঠানেই মালিক/মালিকরা দক্ষতার সাথে সুষ্ঠু ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন।
৭. স্থায়িত্ব কম: মালিকের মৃত্যু বা অক্ষমতায় একক মালিকানা বন্ধ হতে পারে। আর অংশীদারের মৃত্যু বা পদত্যাগে অংশীদারি কারবার প্রতিষ্ঠান ভেঙে যেতে পারে।
ঘ.
উদ্দীপক হতে C দ্বারা যৌথমূলধনী কারবার নির্দেশ করা হয়েছে। যৌথমূলধনী কারবার বলতে বহুসংখ্যক ব্যক্তির যৌথ মালিকানায় গঠিত কারবার প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়। নিচে এর সুবিধা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. বৃহদায়তন উৎপাদন: যৌথ মূলধনী কারবার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও জনসাধারণের মধ্যে ঋণপত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রচুর মূলধন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এর. ফলে মূলধন নিবিড় বৃহদায়তন উৎপাদনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যয় সংকোচের সুবিধা ভোগ করা যায়।
২. সীমাবদ্ধ দায়: এ কারবারের শেয়ারহোল্ডারদের দায় সীমাবদ্ধ। প্রত্যেক শেয়ারহোল্ডার নিজের শেয়ার অনুযায়ী কোম্পানির ঋণের জন্য দায়ী থাকেন। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
৩. নিরবচ্ছিন্ন অস্তিত্ব: স্থায়িত্বের দিক থেকে যৌথ মূলধনী কারবার নিঃসন্দেহে একটি আদর্শ সংগঠন। আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট বলে এর স্থায়িত্ব চিরন্তন। ফলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে।
৪. জনগণের আস্থা: যৌথ মূলধনী কারবার একটি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। এটি আইনের মাধ্যমে গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এছাড়া এর হিসাব-নিকাশ প্রকাশ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এ কারবারের ওপর জনগণের আস্থা অনেক বেশি।
৫. সুদক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা: যৌথ মূলধনী কারবারের মূলধন বেশি বলে এ কারবার বেশি বেতনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী এবং ব্যবস্থাপক নিয়োগ করতে পারে। ফলে এ কারবার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।
৬. শেয়ারের হস্তান্তরযোগ্যতা: এ কারবারের শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে সহজেই ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। ফলে প্রয়োজনে যেকোনো শেয়ারহোল্ডার শেয়ার বিক্রয় করে নগদ টাকা সংগ্রহ করতে পারেন।
৭. সম্প্রসারণের সুযোগ: এ কারবারের মূলধনের প্রাচুর্যতার সাথে দক্ষ পরিচালনার সমন্বয় ঘটে। ফলে কোম্পানির আয়তন উত্তরোত্তর বাড়ানো সম্ভব হয়।
সুতরাং উপরিউক্ত সুবিধার কারণে যৌথ মূলধনী কারবারের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।