ক.
মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনার সদস্য সংখ্যা ৩ জন ছিল।
খ.
দুর্নীতি হলো মূল্যবোধ ও রীতিনীতির পরিপন্থি এক ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। যেকোনো পেশার লোকের মাধ্যমে এ দুর্নীতি হতে পারে। নিজ কর্তৃত্বের বাইরে প্রভাব খাটিয়ে কোনো স্বার্থ উদ্ধারকৃত কর্মকাণ্ডই দুর্নীতি। আবার যার ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে, তা পালন না করা এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে কাউকে কোনো সুযোগ পাইয়ে দেওয়াও দুর্নীতি। দুর্নীতি একটি ভয়ানক সামাজিক ব্যাধি, এটি একটি অন্যতম নাগরিক সমস্যা। এ সমস্যা আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিরাজমান। দুর্নীতি নামক ব্যাধি থেকে নিরাময় লাভ এখন সময়ের দাবি।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা, উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রটির প্রদত্ত আইনের সাথে কেবল ১৯৪৭ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রাসঙ্গিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ আইনের মাধ্যমেই ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল।
১৯৪৭ সালের ৩ জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনাকে বাস্তবের রূপ দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট যে আইন পাস করে তা ভারত স্বাধীনতা আইন নামে পরিচিত। এ আইনের সবচেয়ে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা হলো এ আই মে ভারতবর্ষকে বিভক্ত করে ভারতীয় ইউনিট ও পাকিস্তান নামে দুটি 'ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয় , যেগুলো কার্যত স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। ফলে ভারত সচিব পদটির কার্যকারিতা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এ আইনে উক্ত পদটির অবসান ঘটানো হয় । একই সাথে এই আইনের রাজকীয় মর্যাদা ও উপাধি থেকে ব্রিটিশ রাজ্যের ভারত সম্রাট উপাধি লাভ করা হয়। এছাড়া এ আইনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কিছু সংশোধনী আনা হয়। তন্মধ্যে ভারত- পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার পরামর্শ অনুযায়ী ব্রিটিশরাজ কর্তৃক গর্ভনর জেনারেল নিয়োগ, স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ও বিশেষ ক্ষমতা বিলোপ, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ক্ষমতার হ্রাস প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
ঘ.
ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন রাজনীতিতে উদ্দীপকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ আইন এর অর্থাৎ ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য আবশ্যিক।
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আইন ভারতের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের পথে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ আইনের মাধ্যমে উপমহাদেশে দীর্ঘ প্রায় ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং গণপরিষদ গঠন করা হয়। এ আইনের দ্বারা গর্ভনর জেনারেলের ক্ষমতার অবসান হয় এবং রাষ্ট্রদুটিতে সংসদীয় ও দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। ভারত সম্রাটের উপাধি বিলোপ করা হয় এবং ভারত সচিবের পদে বিলুপ্ত ঘটে। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের দ্বারা ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক চিন্তাধারা বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। ১৭৫৭ সালের পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমে যে সমস্যা তৈরি হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হয় অর্থাৎ পরাধীনতার বিলুপ্তি ঘটে। এ আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটে। ভারতের গর্মেন্ট জেনারেল নিযুক্ত হন লর্ড মাউন্টব্যাটেন আর পাকিস্তানের প্রথম গর্ভনর জেনারেল হন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের যাত্রা সূচিত হয়। দুটি রাষ্ট্রই স্ব- স্ব সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা লাভ করে। উপযুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দলিল। এ আইন ভারতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিনিতি।