ক.
সমাজকর্মের সহায়ক বা পরোক্ষ পদ্ধতি ৩টি।
যথা: সমাজকল্যাণ প্রশাসন, সমাজকর্ম গবেষণা এবং সামাজিক কার্যক্রম।
খ.
দল সমাজকর্ম বা $\text{Social Group Work}$ হলো সমাজকর্মের এমন একটি মৌলিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট দলের সদস্যদের দলীয় অভিজ্ঞতার সাহায্যে তাদের সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটিয়ে ব্যক্তিগত, দলীয় ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা হয়।
এর মূল লক্ষ্য হলো গঠনমূলক দলীয় মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে দলের সদস্যদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ, নেতৃত্ব সৃষ্টির এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা।
গ.
উদ্দীপকের নয়নের সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে 'ব্যক্তি সমাজকর্ম' বা $\text{Social Case Work}$ পদ্ধতিটির প্রয়োগ অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।
ব্যক্তি সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের এমন একটি পদ্ধতি যা কোনো একক ব্যক্তিকে এমনভাবে সাহায্য করে যাতে সে নিজেই তার সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয় এবং সমাজে কাঙ্ক্ষিতভাবে খাপ খাইয়ে চলতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, নয়ন খারাপ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে এবং তাকে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে সমাজকর্মীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু নয়ন একজন একক ব্যক্তি এবং তার মাদকাসক্তি একটি জটিল মনোসামাজিক ব্যাধি, তাই তার এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য তাকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিবিড় কাউন্সেলিং ও সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন।
ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগ করে সমাজকর্মী নয়নের অতীত ইতিহাস, তার খারাপ বন্ধুদের প্রভাব, পারিবারিক অবস্থা এবং মানসিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে পারবেন। এরপর তার সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ ঘটিয়ে তাকে মাদকমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন। তাই নয়নের ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে ব্যক্তি সমাজকর্মের প্রয়োগই সবচেয়ে কার্যকর ও যুক্তিসঙ্গত।
ঘ.
উদ্দীপকে সমাজকর্মী নয়নের সমস্যা সমাধানে 'ব্যক্তি সমাজকর্ম' পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। ব্যক্তি সমাজকর্মে সাহায্যার্থীকে (নয়ন) সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার জন্য সুনির্দিষ্ট ও বিজ্ঞানভিত্তিক কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা হয়।
নিচে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির সমস্যা সমাধানের ধাপগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মনোসামাজিক অনুধ্যান বা তথ্য সংগ্রহ: এটি প্রথম ধাপ। এ পর্যায়ে সমাজকর্মী নয়নের মাদকাসক্ত হওয়ার পেছনের কারণ, তার পারিবারিক পরিবেশ, বন্ধুদের প্রভাব, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সব তথ্য সংগ্রহ করবেন।
২. সমস্যা নির্ণয় বা রোগ নির্ণয় : সংগৃহীত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে সমাজকর্মী নয়নের সমস্যার প্রকৃত কারণ বা মূল উৎস খুঁজে বের করবেন। অর্থাৎ, ঠিক কী কারণে বা কাদের প্ররোচনায় সে মাদকে আসক্ত হলো, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয় এই ধাপে।
৩. চিকিৎসা বা সমাধান ব্যবস্থা : সমস্যা নির্ণয়ের পর সমাজকর্মী নয়নের জন্য একটি উপযুক্ত চিকিৎসা বা সমাধান পরিকল্পনা তৈরি করবেন। এর মধ্যে থাকতে পারে মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং, চিকিৎসকের সাহায্যে শারীরিক পুনর্বাসন এবং তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান।
৪. মূল্যায়ন : চিকিৎসা বা সমাধান প্রক্রিয়া চলাকালীন সমাজকর্মী যাচাই করে দেখবেন যে নয়ন কতটা মাদকমুক্ত হচ্ছে বা প্রদত্ত চিকিৎসা কতটুকু কার্যকর হচ্ছে। যদি আশানুরূপ ফল না পাওয়া যায়, তবে চিকিৎসা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়।
৫. অনুসরণ বা ফলোআপ : এটি সর্বশেষ ধাপ। নয়ন পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরও সমাজকর্মী কিছুদিন তার খোঁজখবর রাখবেন। সে যেন পুনরায় খারাপ বন্ধুদের সাথে মিশে আবার মাদকে আসক্ত না হয়ে পড়ে, তা নিশ্চিত করাই এই ধাপের মূল উদ্দেশ্য।
পরিশেষে বলা যায়, উপর্যুক্ত বিজ্ঞানভিত্তিক ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করার মাধ্যমেই সমাজকর্মী উদ্দীপকের নয়নের মতো বিপথগামী যুবকদের মাদকের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেন।