(ক)
আইন হলো সমাজস্বীকৃত এবং রাষ্ট্রকর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুন, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।
(খ)
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রয়োজন।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেসব চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের গণতান্ত্রিক আচার-ব্যবহার ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বলে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক একে অপরের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেয় এবং নিজের মতামত প্রকাশ করে। পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, শ্রদ্ধাবোধ ইত্যাদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অংশ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। তাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অত্যন্ত জরুরি।
(গ)
প্রদত্ত উদ্দীপকে নারী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের কথা বলা হয়েছে।
যে অধিকার ব্যক্তিকে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষের জীবনকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নিরাপদ করে তোলে তাকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। কর্মের অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, বিশ্রাম বা অবকাশ লাভের অধিকার এবং শ্রমিক সংঘ গঠন করার অধিকার প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে নারী শ্রমিকদের এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে নারী নেত্রীবৃন্দ সকল কাজের সমান সুযোগ এবং পুরুষ শ্রমিকদের সমান পারিশ্রমিক প্রদানের দাবি জানান। সমান সুযোগ এবং সমান পারিশ্রমিক লাভ করা একজন শ্রমিকের মৌলিক অর্থনৈতিক অধিকার। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নারী শ্রমিকদের অর্থনৈতিক অধিকার আদায়ের কথা বলা হয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত নারীর অধিকারসমূহ বাস্তবায়িত হলে সমাজে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সমাবেশে উত্থাপিত দাবিগুলো মূলত নারীর অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি। যে অধিকারগুলো অভাব-অনটন ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিয়ে মানুষের জীবনকে সুখি, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ করে তোলে সেগুলোই অর্থনৈতিক অধিকার। কর্মের অধিকার ও উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভের অধিকার এর অন্যতম প্রধান অংশ।
আমাদের সমাজে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্মের বাইরে রেখে বা উপযুক্ত পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নারীদের কর্মের অধিকার ও ন্যায্য মজুরি প্রদান নিশ্চিত করা গেলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। নারীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের সেবা করতে পারবে। এর ফলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে।
পাশাপাশি, সমান পারিশ্রমিক নিশ্চিত হলে নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্য হ্রাস পাবে এবং নারী নির্যাতন ব্যাপকহারে কমে আসবে। নারীদের সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার ও নেতিবাচক ধারণা দূর হবে। সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে, যা সকল নাগরিকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
পরিশেষে বলা যায়, নারীদের অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে তারা যোগ্য সম্মান পাবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে। সর্বোপরি, একটি সুশৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।