Facebook Pixel

২০০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ এবং পাকিস্তানি আমলের ২৪ বছরের শোষণ ও বঞ্চনার ফলে বাংলাদেশ উত্তরাধিকার সূত্রে একটি পশ্চাৎপদ ও অনুন্নত অর্থনৈতিক কাঠামো লাভ করে। তবে সম্প্রতি জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ, দারিদ্র্য বিমোচন ও পরিবেশগত উন্নয়ন প্রভৃতি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের মাপকাঠিতে বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো অবস্থানে আছে। ক. গ্রামীণ খাত কী? খ. অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের আলোকে পাকিস্তানি আমলে বাংলাদেশের শোষণ ও বৈষম্যের ইতিহাস বিশ্লেষণ কর। ঘ. একটি উদীয়মান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যথেষ্ট সম্ভাবনাময়- উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত ব্যক্ত কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিচয়

উৎস: Test Exam Question VNSC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে যেসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং পরিচালিত হয়, সেই খাতকেই গ্রামীণ খাত বলা হয়। (খ) অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো। অর্থনৈতিক অবকাঠামো বলতে মূলত পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সেচ ব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধাগুলোকে বোঝায়। একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এই অবকাঠামোসমূহ অপরিহার্য। যেমন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হয় না এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে শিল্পকারখানা অচল হয়ে পড়ে। একইভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ছাড়া দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব নয়। সুতরাং, অর্থনৈতিক অবকাঠামো যত উন্নত হবে, দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি তত বাড়বে। তাই বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো। (গ) উদ্দীপকের আলোকে পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের শোষণ, বঞ্চনা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ইতিহাস নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ঘটেছিল চরম বৈষম্য। প্রথমত, মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক পার্থক্য দেখা দেয়। ১৯৪৯-৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় ছিল ৩০৫ টাকা, যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানের ছিল ৩৩০ টাকা। ১৯৫৯-৬০ সালে এই আয় যথাক্রমে ৩২৭ টাকা ও ৩৬৪ টাকা হয়, যা অর্থনৈতিক বৈষম্যের স্পষ্ট প্রমাণ। দ্বিতীয়ত, জিডিপিতে খাতের অবদান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫১-৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ৬৮%, যা ১৯৫৯-৬০ সালে কমে হয় ৬৫%। অন্যদিকে, শিল্পের অবদান ৭% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১০% হলেও একই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানে শিল্পের অবদান ৮% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫% এ উন্নীত হয়। তৃতীয়ত, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে চরম বৈষম্য ছিল। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র ভর্তির হার পশ্চিম পাকিস্তানে বৃদ্ধি পায় ১৬০%, অথচ পূর্ব পাকিস্তানে তা বৃদ্ধি পায় মাত্র ৩৮%। এছাড়া বিদ্যুৎ, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন পশ্চিম পাকিস্তানে দ্রুত করা হলেও পূর্ব পাকিস্তানে তা ছিল অত্যন্ত নগণ্য। চতুর্থত, বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক সাহায্যের অসম বণ্টনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করা হয়। সরকারের উন্নয়ন ব্যয় ও রাজস্ব বরাদ্দে এই বৈষম্য প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেতে থাকে। পরিশেষে বলা যায়, এই দীর্ঘ ২৪ বছরের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনাই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করে। (ঘ) উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, একটি উদীয়মান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যথেষ্ট সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান গতিধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, দেশটি ক্রমশ উন্নয়নের পথে ধাবিত হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত জিডিপির প্রবৃদ্ধি, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং পরিবেশগত উন্নয়নের মতো সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ এখন একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যেমন: কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বৃদ্ধি, শিক্ষাক্ষেত্রে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি এবং আইসিটি খাতের ব্যাপক প্রসার। এছাড়া সমুদ্রসীমা জয়ের মাধ্যমে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স অর্জনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস পাওয়া মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি বড় লক্ষণ। পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি, আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য রক্ষা এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এসব ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের উন্নতি নির্দেশ করে যে, বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে এবং বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা বিবেচনা করে আমি মনে করি, উদীয়মান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং সম্ভাবনাময়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Viqarunnisa Noon School & College, Dhaka (2026)

২০০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ এবং পাকিস্তানি আমলের ২৪ বছরের শোষণ ও বঞ্চনার ফলে বাংলাদেশ উত্তরাধিকার সূত্রে একটি পশ্চাৎপদ ও অনুন্নত অর্থনৈতিক কাঠামো লাভ করে। তবে সম্প্রতি জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ, দারিদ্র্য বিমোচন ও পরিবেশগত উন্নয়ন প্রভৃতি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের মাপকাঠিতে বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো অবস্থানে আছে। ক. গ্রামীণ খাত কী? খ. অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক অবকাঠামো- ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের আলোকে পাকিস্তানি আমলে বাংলাদেশের শোষণ ও বৈষম্যের ইতিহাস বিশ্লেষণ কর। ঘ. একটি উদীয়মান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যথেষ্ট সম্ভাবনাময়- উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত ব্যক্ত কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

SDG কী?

অর্থনীতির শিক্ষক আসাদ সাহেব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, "সমষ্টিগত অর্থ...

অর্থনৈতিক কাঠামো কী?

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত?

ইংরেজ শাসকেরা ২০০ বছর এ উপমহাদেশে শাসন ও শোষণ করেছে। পরে পাকিস্তান রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ২৪ বছর নির্বিচার নির্যাতন শোষণ করে...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : সুপ্রাচীনকাল হতে বাংলাদেশ সুজলা-সুফলা দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।