Facebook Pixel

২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভশীল। এ চারটি স্তম্ভ হলো : ১. দায়িত্বশীলতা; ২. স্বচ্ছতা; ৩. আইনি কাঠামো; ৪. অংশগ্রহণ। ক. সুশাসন কী? খ. স্বজনপ্রীতি বলতে কী বোঝায়? গ. সুশাসনের পথে বাধা দূরীকরণে প্রথম দুটি স্তম্ভের গুরুত্ব বর্ণনা কর। ঘ. “তৃতীয় ও চতুর্থ স্তম্ভ সুশাসনের পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুনিশ্চিত করে”- তুমি কি একমত? মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি

উৎস: Test Exam Question GAHC

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) সুশাসন হলো এমন এক শাসন প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ ও সেবার সঠিক বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও জনগণের অংশগ্রহণ বিদ্যমান থাকে। (খ) স্বজনপ্রীতি বলতে যোগ্য ব্যক্তিকে বঞ্চিত করে নিজের আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান বা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়াকে বোঝায়। এটি সুশাসনের পথে একটি বড় বাধা, কারণ এতে মেধার মূল্যায়ন হয় না এবং প্রশাসনিক দক্ষতা হ্রাস পায়। (গ) সুশাসনের পথে বাধা দূরীকরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম দুটি স্তম্ভ অর্থাৎ দায়িত্বশীলতা (জবাবদিহিতা) এবং স্বচ্ছতার গুরুত্ব অপরিসীম। দায়িত্বশীলতা বা জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের কাজের জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। এর ফলে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক গাফিলতি হ্রাস পায়। অন্যদিকে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া উন্মুক্ত থাকে, যা দুর্নীতি ও গোপনীয়তা দূর করে। যখন শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকে, তখন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে এবং জনসেবা সহজতর হয়। সুতরাং, এই দুটি স্তম্ভ কার্যকর হলে দুর্নীতি ও অদক্ষতার মতো প্রধান বাধাগুলো দূর হয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। (ঘ) হ্যাঁ, আমি একমত যে তৃতীয় ও চতুর্থ স্তম্ভ অর্থাৎ আইনি কাঠামো এবং অংশগ্রহণ সুশাসনের পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুনিশ্চিত করে। আইনি কাঠামো বলতে বোঝায় একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা এবং আইনের শাসন। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন; যেখানে আইনের চোখে সবাই সমান এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইনি কাঠামো শক্তিশালী হলে নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা পায় এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধ হয়, যা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে, অংশগ্রহণ বলতে শাসনকার্যে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণকে বোঝায়। গণতন্ত্রের প্রাণ হলো জনমত এবং জনগণের অংশগ্রহণ। যখন নাগরিকরা নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়, তখন সরকার আরও বেশি জনবান্ধব হয় এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র কেবল নামমাত্র হয়ে থাকে। পরিশেষে বলা যায়, আইনি কাঠামো ও জনগণের অংশগ্রহণ কেবল সুশাসনই নিশ্চিত করে না, বরং একটি কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মূল শর্ত হিসেবে কাজ করে। তাই এই দুটি স্তম্ভ সুশাসন ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Govt. Azizul Haque College, Bogura

২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভশীল। এ চারটি স্তম্ভ হলো : ১. দায়িত্বশীলতা; ২. স্বচ্ছতা; ৩. আইনি কাঠামো; ৪. অংশগ্রহণ।

ক. সুশাসন কী?

খ. স্বজনপ্রীতি বলতে কী বোঝায়?

গ. সুশাসনের পথে বাধা দূরীকরণে প্রথম দুটি স্তম্ভের গুরুত্ব বর্ণনা কর।

ঘ. “তৃতীয় ও চতুর্থ স্তম্ভ সুশাসনের পাশাপাশি গণতন্ত্রকে সুনিশ্চিত করে”- তুমি কি একমত? মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।