Facebook Pixel

১। ক. আইনগত অধিকার কী? খ. গণভোট বলতে কী বোঝায়? গ. (?) চিহ্নিত স্থানের বিষয়টি ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত বিষয়টির সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

উৎস: Board Exam Question DB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) আইনগত অধিকার হলো সেসব অধিকার যা রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত এবং আইন দ্বারা স্বীকৃত। (খ) রাষ্ট্রীয় কোনো বিষয়ে মতানৈক্যের সৃষ্টি হলে জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য যে ভোটগ্রহণ করা হয়, তাকে গণভোট বলে। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো গণভোট। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ের ওপর জনগণের সমর্থন আছে কি নেই, তা যাচাইয়ের জন্য এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে সাধারণত 'হ্যাঁ' অথবা 'না'-তে সিল দিয়ে মতামত প্রদান করা হয়। (গ) চিত্রে (?) চিহ্নিত স্থানের বিষয়টি হলো আইন। আইন হলো সমাজে শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত কিছু নির্দিষ্ট ও সর্বজনস্বীকৃত নিয়মকানুন। এটি মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সকল নাগরিকের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হয়। আইন সামাজিক সহাবস্থানের ভিত্তি, যার পেছনে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও বলবৎ করার ক্ষমতা থাকে। উদ্দীপকের চিত্রে জনমত, আইনসভা, ধর্ম এবং বিচারকের রায়- এই চারটি উপাদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা আইন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সমাজে যখন কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তখন জনমতের মাধ্যমে সে বিষয়ে আলোচনা তৈরি হয়। আইনসভা সেই জনমতের ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করে। ধর্মীয় বিধান সমাজে প্রচলিত রীতিনীতিকে আইনের কাঠামো দেয় এবং বিচারকের রায়ও কখনো কখনো নতুন আইনের দিক নির্দেশ করে। সুতরাং আইন শুধু একটি লিখিত নিয়ম নয়, বরং এটি সমাজ, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সমন্বিত রূপ। জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নীতিনৈতিকতার সমন্বয়ে আইনের ভিত গড়ে ওঠে। (ঘ) উক্ত বিষয়টির তথা আইনের সাথে নৈতিকতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও বলবৎকৃত বাধ্যতামূলক নিয়মকানুন, যা নাগরিকদের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, নৈতিকতা হলো ব্যক্তি ও সমাজে প্রচলিত উচিত-অনুচিত, ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের একটি মানদণ্ড, যা মানুষের বিবেক ও চেতনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সুশৃঙ্খল সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইন ও নৈতিকতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আইন ও নৈতিকতার সম্পর্কের প্রধান দিকগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. উৎস ও লক্ষ্য: উভয়েরই উৎপত্তি সামাজিক প্রথা, ধর্ম ও ন্যায়বোধ থেকে। এরা পরস্পর পরিপূরক হিসেবে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আইন যেমন সুনাগরিক গঠনে ভূমিকা রাখে, নৈতিকতাও তেমনভাবে সৎ ও ন্যায়বান মানুষ গঠনে সহায়তা করে। ২. নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি: আইনের পেছনে রাষ্ট্রের শক্তি থাকায় তা বলবৎযোগ্য ও বাধ্যতামূলক, অথচ নৈতিকতা ব্যক্তিগত বিবেকের বিষয় হওয়ায় তা আইনগতভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়। আইন সাধারণত বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, আর নৈতিকতা মানুষের অন্তরজগতে কাজ করে। ৩. পারস্পরিক প্রভাব: অনেক সময় আইনের মাধ্যমে সমাজের প্রচলিত নৈতিকতা পরিবর্তিত হয়, আবার নৈতিকতা আইনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণেও ভূমিকা রাখে। নৈতিকতার মান উন্নত হলে আইনও কার্যকর ও মানবিক হয়। সুতরাং বলা যায়, আইন ও নৈতিকতা উভয়ই সমাজজীবনের অপরিহার্য উপাদান। তারা একে অন্যের বিকল্প না হলেও একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। একটি সুস্থ ও আদর্শ সমাজ গঠনে আইন ও নৈতিকতার ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ প্রয়োজন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2025)

১।

ক. আইনগত অধিকার কী?

খ. গণভোট বলতে কী বোঝায়?

গ. (?) চিহ্নিত স্থানের বিষয়টি ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত বিষয়টির সাথে নৈতিকতার সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।