(ক)
হাইটেক শিল্প বলতে সেই সব শিল্পকে বোঝায় যা উচ্চতর বিজ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি এবং গবেষণার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। যেমন: তথ্যপ্রযুক্তি, বায়োটেকনোলজি এবং অ্যারোস্পেস শিল্প ইত্যাদি।
(খ)
কৃষি ও শিল্প একে অপরের পরিপূরক। কৃষি প্রধানত নিম্নোক্ত উপায়ে শিল্পকে সহায়তা করে:
১. কাঁচামাল সরবরাহ: বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্প কৃষিভিত্তিক। যেমন- পাট, চা, চিনি, চামড়া ও কাগজ শিল্প তাদের প্রধান কাঁচামালের জন্য সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
২. মূলধন গঠন: কৃষির উন্নয়নের ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পায়, যার ফলে সঞ্চয় বাড়ে এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন গঠন সহজ হয়।
৩. বাজার সৃষ্টি: কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে তারা শিল্পজাত পণ্য বেশি ক্রয় করে, যা শিল্পজাত দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি করে এবং শিল্পের প্রসারে সহায়তা করে।
সুতরাং, কাঁচামাল সরবরাহ এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি শিল্পকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো তৈরি পোশাক শিল্প।
তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. শ্রমনিবিড়তা: এই শিল্পে প্রচুর পরিমাণে শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যা বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে একটি বড় সুবিধা।
২. নারীর ক্ষমতায়ন: এই শিল্পে নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করেছে এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।
৩. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: বর্তমানে এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সর্ববৃহৎ উৎস এবং দেশের মোট রপ্তানি আয়ের একটি বিশাল অংশ এই খাত থেকে আসে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশে একটি শ্রমনিবিড় শিল্প গড়ে ওঠে এবং এতে নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এছাড়া বর্তমানে এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সর্ববৃহৎ উৎস। এই বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে মিলে যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিল্পটি হলো তৈরি পোশাক শিল্প।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। উদ্দীপকের আলোকে এর সম্ভাবনাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দক্ষ শ্রমিকের জোগান: উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দক্ষ শ্রমিকের জোগান নিশ্চিত করতে পারলে এই শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ মূলত সাধারণ মানের পোশাক তৈরি করে। শ্রমিকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি করলে উচ্চমূল্যের এবং জটিল ডিজাইনের পোশাক তৈরি করা সম্ভব হবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি মুনাফা এনে দেবে।
২. পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ: বর্তমানে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কিছু আইটেমের ওপর নির্ভরশীল। উদ্দীপকের কথা অনুযায়ী, বৈচিত্র্যময় আইটেম (যেমন: উচ্চমানের ফ্যাশন পোশাক, জ্যাকেট, অন্তর্বাস ইত্যাদি) তৈরি করতে পারলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সহজ হবে এবং নতুন নতুন বাজার উন্মোচিত হবে।
৩. উৎপাদন খরচ ও প্রতিযোগিতা: বাংলাদেশের সহজলভ্য শ্রমের কারণে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম, যা বিশ্ববাজারে আমদানিকারকদের আকর্ষণ করে। এই প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাটি দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক।
৪. সরকারি ও আর্থিক সহায়তা: সরকার এই খাতের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে, যা নতুন বিনিয়োগ এবং কারখানার আধুনিকায়নে সহায়তা করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের আলোকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন করতে পারলে তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।