ক.
ব্র্যাক ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
খ.
যেসব সংস্থা দেশের উন্নয়নে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে তাদেরকে বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা বলা হয়।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ মূলত বিভিন্ন সামাজিক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় । বেসরকারি সমাজ উন্নয়ন সংস্থাগুলো আর্থিক লাভ বা অর্থলগ্নিকারী সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় লাভজনক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না। এ ধরনের সংস্থা মূলত জনস্বার্থে সেবা প্রদান করে। এ লক্ষ্যে এ ধরনের সংস্থাসমূহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, দারিদ্র্য প্রভৃতি খাতে নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
গ.
উদ্দীপকে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
গ্রামীণ ব্যাংক হলো ক্ষুদ্রঋণলগ্নিকারী একটি স্বায়ত্তশাসিত ব্যাংক। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও ভূমিহীনদের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের জীবনমানের উন্নয়নে এই ব্যাংক কাজ করে। গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম মূলত একটি শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ১ জন ম্যানেজার, ৩ জন পুরুষ এবং জন মহিলা কর্মী নিয়ে একটি শাখা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয় ।
গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় । যেমন- ১. অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং ২. সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। এর মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য মৌলিক ও গৃহনির্মাণ ঋণ, উচ্চশিক্ষা ঋণ এবং ভিক্ষুক ঋণ প্রদান করা হয়। এছাড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণদান কর্মসূচির মাধ্যমে ভূমিহীন কৃষকরা উন্নত বীজ, চাষাবাদের যন্ত্রপাতি কিনতে পারছে। এছাড়া এই সংস্থার কোনো সদস্য মারা গেলে ১৫,০০০ টাকা হারে জীবন বিমাও দেওয়া হয়। অন্যদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের সামাজিক
উন্নয়নমূলক কর্মসূচির আওতায় গৃহায়ন সমস্যা নিরসন; দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ঋণ বিতরণ; বনায়ন কর্মসূচি; হাঁস-মুরগি পালন; পেনশন তহবিল পরিচালনা প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয় । এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংস্থাটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
ঘ.
হ্যাঁ, গ্রামীণ ব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে দারিদ্র্য বিমোচনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কৃষিনির্ভর এদেশে অবহেলিত, দরিদ্র ও ভূমিহীন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সংস্থাটি নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের ভূমিহীন জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে । এর প্রভাব সামাজিক উন্নয়নেও পড়ছে। এছাড়া ঋণ পরিশোধের উচ্চহার, ঋণের যথাযথ প্রয়োগ, দরিদ্র মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয় বৃদ্ধিকারী কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটানো এ সংস্থার বৈশিষ্ট্য। এর ফলে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা দরিদ্র শ্রেণি নিজেদের সংগঠিত শক্তিতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে। সেই সাথে সম্পদশালী ও সুদখোর মহাজনদের ওপর নির্ভরশীলতার হারও কমে আসছে। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক শিক্ষিত যুব শ্রেণিকে দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের কর্মচারি হিসেবে বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকারের কাজের ব্যবস্থা যেমন হচ্ছে তেমনিভাবে ঋণদান প্রক্রিয়ায় দরিদ্র পুরুষ ও মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব হচ্ছে। মূলত গ্রামীণ ব্যাংক তার কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জন্য ব্যাংক' এই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। যে কারণে তাদের উদ্ভাবিত ক্ষুদ্রঋণ মডেল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক হারে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে।
সার্বিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, গ্রামীণ ব্যাংক দরিদ্র পুরুষ ও মহিলাদের ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।